মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গ্রামের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২০টি ট্রাক্টর!

  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০২-২০২০ ইং
গ্রামের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২০টি ট্রাক্টর!
দামুড়হুদা মোক্তারপুরের দুই মাটি ব্যবসায়ীর কারণে ঝুঁকিতে জনজীবন মোজাম্মেল শিশির: দামুড়হুদার মোক্তারপুরে দুই মাটি ব্যবসায়ীর কারণে গ্রামের জনজীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২০টি ট্রাক্টরে ভরে গ্রামের মধ্য দিয়ে মাটি আনা-নেওয়া করছেন এ দুই ব্যবসায়ী। এতে একদিকে যেমন সরকারি রাস্তা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকার লোকজন রাস্তায় নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে না, ধুলাবালুতে ছেয়ে গেছে রাস্তার দুপাশের বাড়িঘর। জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার মোক্তারপুর গ্রামের মিলন, আনাতে, মোতালেব, আজিজুল, আনিছুর, রফিকুল, আসমান, আলী, ছাকাত, আমজেদ, রেজা ও বিশা সবাই ভোন্দাডাঙ্গা মাঠের জমিতে পুকুর কাটার নামে মাটি বিক্রি করেন। এসব পুকুরের মাটি কেনেন একই উপজেলার চিৎলা গ্রামের খোকনের ছেলে সাদ্দাম ও একই গ্রামের বরকত মণ্ডলের ছেলে নূরুলহুদা। এ দুজন মাটি ব্যবসায়ী মাটি ক্রয় করে বিভিন্ন ইটভাটায় সাপ্লাই দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তাঁরা ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি কেটে ভাড়া করা বিশটি ট্রাক্টরে মাটি বোঝাই করে মোক্তারপুর গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় নিচ্ছেন। এতে একদিকে মাটি কাটার ফলে যেমন আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মাটি আনা-নেওয়ার সময় সরকারি রাস্তার ওপর মাটি পড়ে রাস্তাটিও হচ্ছে নষ্ট। এ ছাড়া গ্রামের স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা দুর্ঘটনার ভয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে পারছে না। প্রতিনিয়ত গাড়ি চলাচলের কারণে মাঠের রাস্তাটিতে এক হাঁটু ধুলা জমে গেছে আর গ্রামের পিচ রাস্তার ওপর মাটি পড়ে জমে গেছে ধুলা, এ কারণে একটু বৃষ্টি হলেই এ রাস্তাটি হয়ে পড়বে চলাচলের আরও অনুপযোগী। মোক্তারপুর গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক জানান, ‘ধুলার কারণে বাড়িতে থাকতে পারছি না, রাস্তায় বের হব কেমন করে! তিন দিন আগে একটি ছাগলের গায়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছে। সেই ভয়ে বাড়ির ছেলে-মেয়েদের বাড়ির বাইরে বের হতে দিচ্ছি না। ছাগল-গরুর ক্ষতি হলে কিছুটা মেনে নেওয়া যায়, কিন্ত যদি সন্তানের ক্ষতি হয়ে যায়, তাহলে আমাদের মরণ ছাড়া উপায় থাকবে না।’ মোক্তারপুর গ্রামে পুকুর কাটার নামে মাটি বিক্রি করা জমির মালিক রেজা জানান, ‘ধান চাষ করে আমাদের লোকসান হয়, তাই আমরা এই জমিতে পুকুর করছি। মাটি বিক্রয় করেছি সাদ্দাম-নুরুলহুদার কাছে।’ তবে মাটি ব্যবসায়ী সাদ্দাম ও নুরুলহুদার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁরা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ জানান, ধুলাবালুর কারণে ছোট-বড় সবাই অ্যাজমা, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট রোগে আকান্ত হয়ে থাকে। এই রোগগুলো একবার হলে তা নিরাময় করতে অনেক সময় লাগে। তাই ধুলাবালু থেকে অবশ্যই সবাইকে দূরে থাকতে হবে। দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিউদ্দীন এ বিষয়ে বলেন, ‘ঘটনাস্থানে আমি যাব। সত্যতা মিললে মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী