মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দায়িত্বশীল হয়ে সবাই কাজ করলে দেখবেন ভালো কিছু হবে

  • আপলোড তারিখঃ ১৭-০২-২০২০ ইং
দায়িত্বশীল হয়ে সবাই কাজ করলে দেখবেন ভালো কিছু হবে
চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম মেহেরাব্বিন সানভী: চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। সভার শুরুতে বিগত সভার কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খান। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমাদের সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রত্যেকের কাজ যদি আমরা প্রত্যেকে সঠিকভাবে করি, তাহলে এক সময় দেখবেন সবকিছু ভালো হচ্ছে। বিষয়টি হলো কাজের এবং দায়িত্বের। ২০২০ সাল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। এ বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের বছরটিকে সফল করতে হবে। নিজ উদ্যোগেও কাজ করতে হবে।’ আলোচনা সভা চলাকালে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বিভিন্ন দপ্তরের নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা পরিষদের উদ্দেশে বলেন, অর্থ বছরের আর মাত্র সাড়ে চার মাস আছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার চায় এডিপি এক শ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে। এদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পৌরসভার উদ্দেশে বলেন, ‘মুজিবর্ষে আমাদের সফলভাবে কাজ করতে হবে। চুয়াডাঙ্গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছনতার জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। সোলার লাইটের তিন বছর গ্যারান্টি আছে, যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আমাদের জানাতে হবে, ঠিক করা হবে।’ এ সময় তিনি উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলোর উদ্দেশে আরও বলেন, স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে এ দুটি প্রতিষ্ঠান অতীব গুরুত্বপূর্ণ। সব কাজ এমনভাবে করতে হবে যেন মুজিববর্ষ সফল হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আগামী প্রজন্ম আপনাদের কাছে। তাদের নিয়মিত তদারকি করবেন। দেশের ভবিষ্যৎকে তৈরি করুন।’ জেলা তথ্য অফিসারকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলার সব স্থানে, গ্রামে, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছতার প্রচার করতে হবে। মাইকিং করতে হবে। চুয়াডাঙ্গাকে সব জেলার আগে পরিচ্ছন্ন জেলা ঘোষণা করা হবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীকে বলেন, ‘মডেল মসজিদ প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত তদারকি করেন। সুতরাং এটির কাজ যেন ভালো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত খোঁজখবর নিতে হবে।’ চার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন, রাস্তায় ইটভাটার মাটি যদি পড়ে, তাহলে হয় গাড়িগুলো বন্ধ করে দিতে হবে, অথবা তাদের দিয়েই পরিষ্কার করাতে হবে। কোনোভাবেই রাস্তা অপরিষ্কার থাকবে না।’ জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তাকে বলেন, যেখানে সেখানে যেন প্রতিবন্ধী স্কুল গড়ে না ওঠে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। নীতিমালা মানতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীকে বলেন, সরকার নদী খননের মাধ্যমে একটি বিপ্লব করেছে। সেদিকে খুব সাবধানে আইন মেনে কাজ করতে হবে। রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে। এ সময় তিনি বিভিন্নদপ্তরের প্রতি বিভিন্ন প্রকার নির্দেশনা দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, ‘আমরা আমাদের সবোর্চ্চ করার চেষ্টা করছি। পৌরসভার আয়ের প্রধান উৎস ট্যাক্স। এটি ৯৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারলে, আমরা একটি বড় প্রজেক্ট পেতে পারি। তাই সবাই ট্যাক্স পরিশোধ করলে পৌরসভার কাজ ভালো হবে। মুজিববর্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছনতার প্রয়োজন। শহরে বিভিন্ন পোস্টার, বিলবোর্ড আর্বজনার সৃষ্টি করে। সৌন্দর্য্যতাকে নষ্ট করে। এটি বন্ধে অতিদ্রুতই কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বোর্ড বসানো হবে, অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেখানে বিজ্ঞাপন হিসেবে বিলবোর্ড, পোস্টার দেওয়া যাবে। মুজিববর্ষ সফল করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ১ শ শয্যার নতুন হাসপাতালটি চালু করার জন্য ১১ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রয়োজন। একজন ডোনার পেয়েছি, যিনি এ খরচ বহন করতে ইচ্ছুক। অতিদ্রুতই নতুন ভবনটি চালু করতে আমি সহযোগিতা করব স্বাস্থ্য বিভাগকে।’ আলোচনার সময় নিজ দপ্তরের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে চুয়াডাঙ্গা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চুয়াডাঙ্গার গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। শিগগিরই আরও কয়েকটি উন্নয়নকাজের বরাদ্দ পাওয়া যাবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, মাথাভাঙ্গা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পুরোদমে কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলার সব নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ হাতে নিয়েছি। সম্প্রতি নবগঙ্গাসহ ১ম পর্যায়ে চারটি শাখানদীর পুনঃখননকাজ শুরু করা হয়েছে। ২য় পর্যায়ে সব কটির কাজ শুরু হবে। এছাড়াও আলমডাঙ্গায় অবৈধ দখলদারদের থেকে নদীর জমি উদ্ধারের অভিযান হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্থানে বৃক্ষরোপন করা হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাঁর বিভাগীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান। এ সময় চুয়াডাঙ্গার সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন আলী, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিনসহ চুয়াডাঙ্গা জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত থেকে দাপ্তরিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড উপস্থাপন ও সমন্বয় করেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী