আলোচনায় ফের খালেদা জিয়ার প্যারোল
- আপলোড তারিখঃ
১২-০২-২০২০
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদন:
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথের আন্দোলন, আইনি লড়াই, কূটনৈতিকদের কাছে দৌঁড়ঝাপসহ সব ধরনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে। শুধু প্যারোলে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা বাকি আছে। কিন্তু খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্ত হতে চান না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা দিন দিন আরও অবনতি হচ্ছে। এ নিয়ে দলের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও মারাত্মক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। সঙ্গত কারণেই দল ও পরিবারের ভেতরে প্যারোলের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে জামিনে খালেদা জিয়ার মুক্তির আশা বিএনপি ও জিয়া পরিবারের সদস্যরা এক রকম ছেড়েই দিয়েছেন। আর প্যারোলে মুক্তির আলোচনা খালেদা জিয়ার সামনে করাই যায়নি। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত যারাই কথা বলতে গেছেন তারাই খালেদা জিয়ার তোপের মুখে পড়েছেন; কিন্তু খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চলতি বছরের শুরু থেকে আবারও প্যারোলের বিষয় নিয়ে বিএনপি ও পরিবারের সদস্যরা ভাবতে শুরু করেছেন। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের দাবি, প্যারেলের ভালো ও খারাপ সব দিকগুলো সামনে এনে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরা সম্ভব হলে প্যারোলে তাকে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। তবে স্পর্শকাতর এ বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা বা পরিবারের কোনো সদস্যই কথা বলতে চান না।
খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন এবং জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ দলের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, প্রথমে জীবন। বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসা প্রয়োজন। বেঁচে থাকলে তার সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে আবারও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। কিন্তু কোনো অঘটন ঘটলে দল আরও বিপর্যয়ে পড়বে। দুই বছর জেল খেটে আপস না করে আপসহীন চরিত্রের পরীক্ষায় বিএনপি নেত্রী আবারও উত্তীর্ণ হয়েছেন। ক্ষমতাসীনদের ষড়যন্ত্রের কারণেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না- এ বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। এখন দলের সদূরপ্রসারী ভবিষ্যৎ এবং গণতন্ত্রের সংগ্রামে আবারও ভূমিকা রাখতে এবার প্যারোল চাইলে আপস করেছেন এমনটা বলা যাবে না। সেক্ষেত্রে প্যারোলের চেষ্টা হলে আবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
এই নেতা আরও বলেন, রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে প্যারোলে মুক্তির ইতিহাস অনেক বড় রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। যদি এ কৌশল মঙ্গলের জন্য হয় তা গ্রহণে দোষ কোথায়।
বিএনপি সূত্রমতে, প্যারোলের আলোচনা পর্যায়ে অনেক নেতা সম্পৃক্ত থাকলেও বাস্তবায়নের বিষয়ে গুটি কয়েক নেতা অবগত। এসব নেতা নিজেরা না জড়িয়ে দায়িত্ব শুধু পরিবারের সদস্যদের ওপরই দিয়ে রেখেছেন। নেতারা শুধু নিজেদের বক্তব্য-বিবৃতিতে আন্দোলনের মাধ্যমেই নেত্রীকে মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। কারাবন্দির দুই বছরপূর্তির দিনে রাজধানীতে জনসভাও করেছে বিএনপি। আগামী শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিও দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। এ আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়ার কারাভোগ শুরু হয়। প্রথম ১১ মাস ছিলেন পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী 'নির্জন' এ কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত বছরের ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। যেখানে এখনো তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আইনি ও রাজনৈতিক কর্মসূচি দিলেও কোনো সুবিধা করতে পারেনি বিএনপি। বাস্তবতা হচ্ছে, খালেদা জিয়া 'গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়' মানবিক কারণেও মুক্তি পাচ্ছেন না। এ সময়ের মধ্যে কর্মী-সমর্থকদের মনেও উঁকি-ঝুঁকি মারছে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে নানা গুঞ্জন। গুঞ্জন আছে যে, খালেদা জিয়ার যেরকম শারীরিক অবস্থা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হতে পারে। অনেক নেতাকর্মী এরকম প্রত্যাশা নিয়ে সময় গুণছেন যদি সত্যি হয় এই 'গুঞ্জন'।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, পারিবারিক যে উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে, সে সম্পর্কে তারা সেভাবে কিছুই জানেন না।
খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সর্বশেষ জামিন আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ শুনানি করে খারিজ করে দিলে আইনি পথে তার মুক্তির পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই গত ২৪ জানুয়ারি বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তার সেজবোন সেলিমা ইসলাম অপেক্ষমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তার বোনের মুক্তির বিষয়ে নতুন করে আবেদন করার কথা। এখনো আবেদন না করলেও আবেদন করার কথা ভাবছেন। কারণ তার বোনের যে শরীরের অবস্থা। এভাবে চলতে থাকলে তাকে জীবিত অবস্থায় বাসায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই দ্রুত উন্নত চিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে হবে। তার শরীর খুবই খারাপ। বোন সেলিমা ইসলামের এই বক্তব্যের পর দলের অনেক নেতাকর্মী ভাবতে শুরু করেছেন, শেষ পর্যন্ত প্যারোলের আবেদন করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
কমেন্ট বক্স