মাদক ব্যবসা না করার শপথ, পুলিশের সাধুবাদ
- আপলোড তারিখঃ
০৯-০২-২০২০
ইং
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামরে কাছে সপরিবারে মাদক ব্যবসায়ী রিপন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সপরিবারে এসে আত্মসমর্পণ করলেন রিপন আলী (৩৭) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে আর কখনো মাদক ব্যবসা করবেন না বলে পুলিশ সুপারের কাছে শপথ নেন তিনি। আত্মসমর্পণ করে এ শপথ নেওয়া রিপন আলী হলেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের হল্ট স্টেশনপাড়ার মৃত মান্দার শাহর ছেলে। মাদক ব্যবসায় না করার শপথ করায় পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম তাঁকে সাধুবাদ এবং স্বাভাবিক পারিবারিক জীবনে অভিনন্দন জানান।
জানা যায়, আত্মসমর্পণকারী রিপন আলীর বিরুদ্ধে দামুড়হদা মডেল থানায় মাদক মামলায় ৩টি, বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ২টি, অন্যান্য মামলায় ১টি মাট ৬টি মামলা রয়েছে। প্রায় ৩ বছর পূর্বে রিপন আলী একই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী রাশিদা বেগম ওরফে বড় বউয়ের হাত ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। মাদক ব্যবসায় জড়ানোর আগে তিনি মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন। দর্শনা স্টেশনের পাশে তাঁর নিজের একটি দোকান আছে। বর্তমানে মাদকের এ অন্ধকার পথ ছেড়ে সৎপথে উপার্জন করে সংসার চালাতে চান রিপন আলী, দুটি সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে করতে চান মানুষের মতো মানুষ, চান সুখি জীবন। আর এ কারণেই স্ত্রী ও পরিজনদের মতামতেই পুলিশের নিকট আত্মসমর্পণ করেন রিপন আলী।
স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের বিষয়ে জানতে চাইলে রিপন আলী জানান, ‘স্টেশনের কাছে মুদি ব্যবসা ছিল আমার। উপার্জন কম ছিল, তবে এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখেই ছিলাম। পরবর্তীতে ছেলে তুষারের গলাই একটি টিউমার হয়। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিতেই প্রতিবেশী মাদক ব্যবসায়ী রাশিদা বেগম ওরফে বড় বউয়ের হাত ধরেই মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ি। একে একে ছয়টি মামলাও হয় আমার নামে। জেলও খেটেছি কয়েকবার। রাত-বিরাতে পুলিশের ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতেও হয়েছে আমাকে। এমন ভয়-ভীতি, অশান্তি ও সমাজের মানুষের কাছে ঘৃণিত জীবন আমি আর চাই না। আমি চাই সৎপথে উপার্জন করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখি থাকতে।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের শুধু গ্রেপ্তার বা সাজা নিশ্চিত করতে চাই না আমরা। সরকার ক্ষেত্র বিশেষে-প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তাদের স্বাভাবিক পারিবারিক জীবনে প্রবেশ ও পুনর্বাসনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ জেলা সীমান্তবর্তী হওয়ায় বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী পারিবারিক ভাবেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। অনেকেই এই কর্মের মাধ্যমে অর্থবিত্ত, বৈভব ও নতুন দালান কোঠার মালিক হয়েছেন। অবৈধ সম্পদের স্থায়ীত্বকাল বেশি দিন হয় না। কাজেই যেকোনো ব্যক্তি বা পরিবার আত্মসমর্পণের সুযোগ নিতে পারে। মাদক ব্যবসায়ী রিপন আলী নিজের ভুল বুঝতে পেরে এ ব্যবসা ছেড়ে সৎপথে উপার্জন করতে চায়। রিপন আলী স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করায় আমরা তাঁকে সাধুবাদ ও মাদকমুক্ত একটি সুন্দর জীবনে অভিনন্দন জানাই।’
কমেন্ট বক্স