মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চাঁদাবাজির অভিযোগ, ভেঙে পড়েছে স্টেশনের চেইন অব কমান্ড

  • আপলোড তারিখঃ ০৬-০২-২০২০ ইং
চাঁদাবাজির অভিযোগ, ভেঙে পড়েছে স্টেশনের চেইন অব কমান্ড
আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইনচার্জের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বেকারি ও ইটভাটায় ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা: আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন ইনচার্জ মোখলেছুর রহমানের চাঁদাবাজির অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ভেঙে পড়েছে স্টেশনের পুরো চেইন অব কমান্ড। প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মী ও লিডাররা। ইনচার্জের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকার ব্যবসায়ীরাও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে আলমডাঙ্গা উপজেলাজুড়ে কমপক্ষে ১৫টি ইটভাটার মালিক ও বিভিন্ন বেকারি প্রতিষ্ঠান থেকে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তুলেছেন ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান। কর্মীদের দিয়ে এবং কখনো কখনো তিনি নিজেই ওই চাঁদার টাকা কালেকশন করেন। তবে চাঁদাবাজির টাকা তিনি একাই আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে খোদ স্টেশন থেকেই। এ ছাড়া কখনো কখনো তিনি ভয়-ভীতি দেখিয়ে অর্থের বদলে এলপি গ্যাসের চুলা, এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার, রাইস কুকারসহ বাড়িতে ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রীও নিয়েছেন বলে অভিযোগে উঠে এসেছে। তথ্য পাওয়া গেছে, তিনি মুন্সিগঞ্জের ক্যাবল মিয়ার ইটভাটা থেকে নিয়েছেন এলপি গ্যাসের চুলা, সোহাগ ইটভাটা থেকে নিয়েছেন এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার ও যমুনার মাঠের সহিদুলের ইটভাটা থেকে নিয়েছেন রাইস কুকার। এ ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে ১৫টি ইটভাটা ও ৭টি বেকারি প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইটভাটা মালিক সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইটভাটা পরিচালনায় কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান বিভিন্ন সময় ভয়-ভীতি দেখিয়ে আমাদের কাছে টাকা নেন। আমার কাছ থেকে রাইস কুকার নিয়েছেন তিনি।’ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একাধিক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘টার্ন আউটে সরকারি গাড়ি ও জনবল নিয়ে তিনি (ইনচার্জ) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদেরকে দিয়ে টাকা তুলিয়েছেন। এমনকি ইনচার্জ স্যার নিজেও আমাদের সামনে টাকা তুলেছেন।’ ইনচার্জের চাঁদার টাকার ভাগ না পেয়ে তাঁরা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ‘এক লাখ টাকার ওপরে টাকা উঠেছে, সব টাকা তিনি একাই আত্মসাৎ করেছেন। আমাদের একটি টাকাও দেননি।’ স্টেশনের বেশ কয়েকটি সূত্র থেকে জানা গেছে, ইনচার্জ মোখলেছুর রহমানের স্বেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম জড়িত। আব্দুস সালামের সাহসেই মূলত তিনি এসব অপকর্ম করেন। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুস সালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চাঁদাবাজির ঘটনা আমার কানে আসেনি। কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখা হবে।’ অভিযোগ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমানের কাছে মুঠোফনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আপনাকে আমি সামনাসামনি জানাব, মোবাইলে বলা যাবে না।’ এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইনচার্জের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আমি জানতে পেরেছি। শিগগিরই তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী