নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ
- আপলোড তারিখঃ
০৬-০২-২০২০
ইং
চুয়াডাঙ্গায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের সিসি ঢালাইয়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার মহিলা কলেজ সড়কে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের সিসি ঢালাইয়ে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে চুয়াডাঙ্গা গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ স্বীকার করে নিম্ন মানের খোয়া পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মার্স বিল্ডার্সের মালিক হাবিবুর রহমান লাভলু ও গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী এনামুল হক।
জানা যায়, ২০১৪ সালের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ৮ হাজার ৭২২ কেটি টাকা ব্যয়ে এপ্রিল ২০১৭ হতে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত মেয়াদকাল ধরা হয় এই প্রকল্পের। মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে নারী ও পুরুষদের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা, পাঠাগার, গবেষনা ও দ্বীনি-দাওয়া কার্যক্রম, পবিত্র কোরআন হেফজ, শিশুশিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশী পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদির ব্যবস্থা রয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এ সব মডেল মসজিদে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মহিলা কলেজ সড়কের মডেল মসজিদের শিডিউল হয় গত বছর মে মাসে। গণপূর্ত বিভাগের অধীনে ১১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ওই মডেল মসজিদের কাজ পায় মার্স বিল্ডার্স চুয়াডাঙ্গা নামের প্রতিষ্ঠানটি। গত ১৫ জানুয়ারি নির্মাণ কাজ শুরু করে মাস বিল্ডার্স। ভিত খোড়া শেষ হলেই তাতে সিসি ঢালাই শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। আর ওই সিসি ঢালাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাটি খুঁড়ে ভালোভাবে পাইলিং না করে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে সিসি ঢালাই শুরু করেছে। অভিযোগকারীরা বলেন, কাজ বুঝে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা চুয়াডাঙ্গা গণপূর্তের উপসহকারী প্রকৌশলী এনামুল হকের সামনেই এই নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করছেন ঠিকাদার। কাজের শুরুতে অনিয়ম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, কর্তৃপক্ষ উদাসীনতার কারণেই এমনটি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিয়মমাফিক পাইলিং না করেই সিসি ঢালাই শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। যার ফলে কয়েক জায়গায় সিসি ঢালাই এরই মধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। উপস্থিত উপসহকারী প্রকৌশলীকে ফাটল দেখালে তিনি বলেন, মাটি দেবে গিয়েছে, যার কারণে ফাটল দেখা দিয়েছে। মাটি কি তাহলে ভালো করে পাইলিং করা হয়নি জিজ্ঞাসা করতেই এড়িয়ে যান উপসহকারী প্রকৌশলী এনামুল হক।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা মার্স বিল্ডার্সের মালিক হাবিবুর রহমান লাভলু নিম্নমানের খোয়ার কথা স্বীকার করে উপস্থিত এলাকাবাসীর সামনে বলেন, এগুলো ভাটা থেকে কেনা খোয়া, যার কারণে একটু ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। তবে এলাকাবাসী যখন অভিযোগ করছেন, তখন আগামী কাল (আজ) এই খোয়াগুলো পরিবর্তন করে দিবেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপস্থিত চুয়াডাঙ্গা গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী এনামুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি মসজিদ নির্মাণে নিম্নমানের খোয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা সবসময় কাজের তদারকি করছি। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।’ তবে তিনি বলেন, এই খোয়াগুলো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করেই মডেল মসজিদ নির্মাণ হবে। তবে সিসি ঢালাইয়ে ফাটলের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ দেখবে, এমনটিই আশা করছেন এলাকাবাসী।
কমেন্ট বক্স