এখনও মেয়েকে খুঁজতে স্কুলে যাচ্ছেন পাগলপ্রায় মা
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০২-২০২০
ইং
দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুরে শিশু সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার ৫দিন পেরিয়ে, কাটেনি শোকের মাতম
বিভিন্ন মসজিদে দোয়া, ধর্ষক ও হত্যাকারী মোমিনুলের ফাঁসির দাবিতের সোচ্ছার এলাকাবাসী
দর্শনা অফিস:
দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুরের স্কুলছাত্রী শিশু সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার পঞ্চম দিন পেরিয়ে গেলেও সুমাইয়ার পরিবার ও গ্রামে এখনো বয়ছে শোকের মাতম। কোনোভাবেই যেন পিতা নাসিরুল ও মা পলিকে সান্তনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজনেরা। মা পলি খাতুন মাঝেমধ্যেই চমকে উঠছেন। আদরের মেয়েকে হারিয়ে তিনি পাগলপ্রায়। গতকাল মঙ্গলবার নিহত সুমাইয়ার বাড়ি যেয়ে দেখা যায়, এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সন্তান হারানো উন্মাদিনী মা পলি খাতুন কখনো মেয়েকে খুঁজতে যাচ্ছেন মেয়ের স্কুলে। কখনো ছুটে বেরিয়ে আসছেন রাস্তায়, পথের মোড়ে যাকে পাচ্ছেন, তাকেই ধরে ধরে বলছেন, ‘আমার ওই মেয়েই চাই, অন্য মেয়ে এনে দিলে নেব না’। সুমাইয়ার মায়ের এ স্পর্শকাতর বেদনাতুর আর্তনাদে প্রতিবেশীরা স্তম্ভিত, তাঁরা হারিয়ে ফেলেছেন সান্তনার ভাষা। দিন যতই গড়াচ্ছে, মায়ের উন্মাদনা ততই বাড়ছে। আর বাবা নাসরিুল হয়ে গেছেন বাকরুদ্ধ, চুপচুপ, চোখের কোণে ছলছল করছে পানি। শিশুকন্যাকে হারিয়ে মুখের ভাষা হারিয়েছেন তিনি। এখন সুমাইয়ার স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি, ধর্ষক ও হত্যাকারী মোমিনুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। জানা গেছে, গতকাল আসরের নামাজের পর গ্রামের বিভিন্ন মসজিদে সুমাইয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস জানান, মামলার এজাহারে ধর্ষক ও হত্যাকারী হিসেবে শুধু মোমিনুলকেই আসামি করা হয়েছে। আসামি মোমিনুলকে আটকের পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দ্রত সময়ের মধ্যে এ মামলার সঠিক বিচার হবে বলে জানান ওসি সুকুমার বিশ্বাস।
উল্লেখ্য, দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুর গ্রামে গত শনিবার রাত ১০টায় দিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে নিহত স্কুলছাত্রী সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় ওইদিনই ৫ ঘণ্টার মধ্যেই শিশু সুমাইয়ার হত্যকারী একই গ্রামের ইউনিয়নপাড়ার ইসলাম উদ্দিনের ছেলে আলোচিত চিহ্নিত চোর মোমিনুল ইসলামকে (১৮) আটক পুলিশ। আটকের পর শিশু সুমাইয়াকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করে ঘাতক মোমিনুল। বর্তমানে ধর্ষক ও ঘাতক মোমিনুল জেল-হাজতে রয়েছে। তবে এ লম্পটের ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসী এখনো সোচ্ছার রয়েছে।
কমেন্ট বক্স