ফসলি জমি বাঁচাতে কৃষকদের মানববন্ধন
- আপলোড তারিখঃ
১২-০১-২০২০
ইং
জীবননগর অফিস:
জীবননগরে ফসলি জমি বাঁচাতে কৃষকদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ মানববন্ধনে ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রয়ারি ২ কোটি ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চুয়াডাঙ্গা জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের মাঠে খাল পুনঃখননের নামে কৃষকদের রেকর্ডীয় ফসলি জমি জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ করেন কৃষকেরা।
কৃষকদের দাবি, সরকারি জমিতে যে খাল ছিল, তার চেয়ে বেশি জমি দখল করে খাল খনন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানালো হলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে গতকাল গ্রামবাসী খালের ওপর মানববন্ধন করেন।
কৃষক আজিজুল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘শাখারিয়া মাঠের মধ্যে অনেক বছর ধরে একটি খাল ছিল, এ খালটি পুনঃখনন করার জন্য বর্তমান সরকারকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার ফলে সরকারি জমি বাদেও আমাদের রেকর্ডীয় জমি দখল করে খাল খনন করা হচ্ছে। যার ফলে কৃষকেরা হতাশার মধ্যে দিন যাপন করছে।’ গ্রামের আরেক ব্যক্তি আয়ুব আলী বলেন, ‘আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস চাষাবাদ। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা গায়ের জোরে আমাদের মালিকানাধীন জমি দখল করছে। খাল খননের নামে জমি দখল করা হচ্ছে। এমনকি যে জমি দখল করছে তাতে যে ভুট্টা ও গম আছে, সেগুলো তারা মাটিচাপা দিয়ে নষ্ট করছে। আমরা প্রতিবাদ করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসাররা আমাদের মামলা দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর দিয়ে জেলা প্রশাসক, ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কোনো প্রতিকার হয়নি।’
সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন মঈন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যে খাল খনন করছে, এটা একটা ভালো কাজ। কিন্তু এখানে কৃষকদের ফসলি জমি নষ্ট করে খাল খনন করার ফলে কৃষকেরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তবে সরকারিভাবে জমির মালিকদের নিকট থেকে ন্যার্য মূল্যে জমিগুলো ক্রয় করা হলে কৃষকদের উপকার হতো।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খাল খনন নিয়ে কৃষকেরা যে অভিযোগ করেছেন, এ বিষয়ে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। আশা করি, খুব শিগগিরই এর সমাধান হবে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুবীর কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘খাল খনন নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, এ বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বলেছি, সরকারি জমি ছাড়া আমরা কোনো খাল খনন করব না। তারপরও তারা কাজে বাধা দিচ্ছে। এখানে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে এ জটিলতা সৃষ্টি করেছে। আমরা কৃষকদের ক্ষতি করে কোনো কিছু করব না।’
কমেন্ট বক্স