বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা, শুক্রবার দেওয়া হবে নতুন বই
- আপলোড তারিখঃ
০৯-০১-২০২০
ইং
দর্শনার শ্যামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন স্কুলড্রেস না থাকায় নতুন বই থেকে
দর্শনা অফিস:
সরকার যখন শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বিদ্যালয়মুখী করার জন্য বিনা মূল্যে বই বিতরণ, শিক্ষার্থী ভাতা, মিড ডে মিলসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, ঠিক সে সময় দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষদের মনগড়া নিয়মে অর্ধশতাধিক কমলমতি শিক্ষার্থী নতুন বই পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা দেশে ১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় বই উৎসবে যোগ দিয়েও শিক্ষকদের তৈরি অযৌক্তিক অবৈধ বিধি-বিধানের কারণে এ স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী গতকাল বুধবার পর্যন্তও বই পায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় লোকজনের।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিগত কয়েক বৎসর ধরে সারা দেশে ১ জানুয়ারি বই উৎসব পালন করা হচ্ছে। এ দিন ১ম থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত সারা দেশের সব স্কুল ও মাদ্রাসায় বিনা মূল্যে কোনো শর্ত ছাড়াই শিক্ষার্থীদের বই প্রদানের কঠোর নির্দেশ রয়েছে। সে অনুযায়ী দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসবের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে দর্শনা পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান ছোটসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত থেকে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করেন। কিন্তু বই বিতরণকালে যেসব শিক্ষার্থীর পরোনে পুরোনো স্কুলড্রেস ছিল এবং যাদের অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন না, তাদের বই প্রদান করেননি শিক্ষকেরা। তাঁরা ঘোষণা দেন, নতুন স্কুলড্রেস ছাড়া বই দেওয়া হবে না। বই প্রদানের লাইনে এসব শিক্ষার্থীদের দাঁড়াতেই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বেশ কিছু অভিভাবক। বই না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে অনেক অভিভাবককে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় এ নিয়ে ওঠে সমালোচনার ঝড়। বই না পাওয়ার ঘটনাটি পরবর্তীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পর্যন্ত গড়ালে গতকাল তিনি বিদ্যালয় উপস্থিত হয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও প্রধান শিক্ষকের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জেনে স্কুল পরিচালনা কমিটির পদক্ষেপে সমাধান করেন।
এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল জানায়, বছরের প্রথমেই সাধারণত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়ে আনন্দিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বই না দেওয়ার বিষয়টা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে দর্শনা পৌর এলাকার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, ‘বিষয়টি চরম অমানবিক হয়েছে। আমাদের ওপর অফিসিয়ালভাবে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা ছিল না বরং এটি একটি খামখেয়ালী সিদ্ধান্ত। ড্রেস হলেই হলো, এর আবার নতুন-পুরাতন প্রশ্ন কেন উঠবে। তবে পরিছন্নতার একটি বিষয় রয়েছে। একেবারেই নোংড়া পোশাক পরে স্কুলে গেলে শিক্ষকদের চোখে খারাপ লাগে।’
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও উদার মনের মানুষ। তিনি গত বছরে দরিদ্র পরিবারের ১৭ কোমলমতি শিক্ষার্থীকে স্কুলড্রেস, জুতা ও বিভিন্ন পড়াশুনা-সামগ্রী কিনে দিয়েছিলেন। তাই এ বিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা যদি তাঁকে এ বিষয়ে জানাতেন, তাহলে হয়তো এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান ছোট বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি এ স্কুলটার উন্নয়নের জন্য সর্বদা কাজ করে চলেছি। আমি অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে গতকাল বিষয়টির সমাধান করেছি। আগামী শুক্রবার বাকি শিক্ষার্থীদের বই দিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদের সঙ্গে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাকী সালাম বলেন, ‘এ ধরনের একটি অভিযোগ আমি শুনেছি। আমি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলাম। বিষয়টি সঠিক না। আমি শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি। বই বিতরণের দিন শিক্ষার্থীদের পোশাকটি নোংড়া থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা অভিভাবকদের স্কুলে নিয়ে আসতে বলেছিলেন।’ তাহলে যেসব অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানের সঙ্গে নতুন বই আনতে গিয়েছিলেন, তারা কেন বই পায়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যেহেতু ৭০ ভাগ বই প্রথম দিন বিতরণের জন্য দেওয়া হয়েছিল, সেহেতু বই ফুরিয়ে যাওয়ায় বাকিদের নতুন বই দেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামী শুক্রবার বাকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।
কমেন্ট বক্স