খালেদাকে জীবন্ত পেতে আন্দোলন-প্যারোল দাবি
- আপলোড তারিখঃ
০৮-০১-২০২০
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদন:
খালেদা জিয়াকে জীবন্ত অবস্থায় পেতে আন্দোলন না হয় প্যারোলের মাধ্যমে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ২০ দলীয় জোট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো থেকে দাবি উঠেছে। খালেদা জিয়ার স্বজনরা যে দাবি করেছেন তার হাত ও আঙুল বাঁকা হয়ে গেছে, ডায়াবেটিস ১৮, হাঁটু ফুলে গেছে, তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে পারছেন না, এমন পরিস্থিতিতে কি করণীয়— এ ব্যাপারে আগে বিএনপিকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মত দল ও জোটের। এই মুহূর্তে শক্ত ভূমিকা দরকার। দলমত নির্বিশেষে খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্তে সবাই একমত বলে মনে করেন রাজনৈতিক নেতারা। তারা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার মামলাটি রাজনৈতিক। তাই তিনি রাজনৈতিক ভূমিকা ছাড়া মুক্তি পাবেন না। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আন্দোলন করতে হবে, রাস্তায় নেমে সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে মুক্তি দিতে বাধ্য করতে হবে। এদেশের বহু মানুষ, অনেক রাজনৈতিক দল খালেদা জিয়াকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। এখন এই পরিস্থিতিতে বিএনপিকে ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত রয়েছে, সেটি বিএনপিকে বিবেচনা করতে হবে। তারা তাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য কি করবে এখনই তা বিএনপিকে চূড়ান্ত করতে হবে। জোটের নেতারা এমনও দাবি করেন, আন্দোলন বিষয়টা আসে ধাপে ধাপে, ক্রমান্বয়ে। কিন্তু সেটি বিএনপি করতে পারেনি। এ দেশের মানুষের ভাষা, দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষা-যন্ত্রণা ও আর্তনাদ সেটি তারা বুঝেনি। তারা বলছেন, খালেদা জিয়ার শেষ সময়ে মুক্তিতে কী করণীয় আছে, তা ঠিক করতে সবাইকে নিয়ে অতিদ্রুত বসতে হবে।
এছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের এমনও ভাষ্য, খালেদা জিয়াকে জীবন্ত অবস্থায় পেতে প্রয়োজন দ্রুত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা। এর জন্য প্রয়োজনে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে চিকিৎসা করতে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, তিনিই বিএনপির মূল অনুপ্রেরণার উৎস। এ বিষয়ে দল ও পরিবারকে উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া খালেদা জিয়াকে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রেখে বিএনপি সিটি নির্বাচন উৎসবে জড়িত রয়েছে এমন অভিযোগও তোলা হচ্ছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রেখে এলডিপি নির্বাচন উৎসবে জড়িত নয়, সেটা বিএনপি রয়েছে। এলডিপি খালেদা জিয়ার মুক্তি কামনা করছে। গতকাল খালেদা জিয়ার স্বজনরা খালেদা জিয়াকে স্বচক্ষে দেখে এসে যা বলেছেন এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। সরকার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে জেলে আবদ্ধ করে রেখেছে। তিনি আরও বলেন, দেশের শতকরা ৮০ ভাগ লোক বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কামনা করে। আমি ২০ দলের মাত্র একটি দলের সদস্য। এখনো পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কি করা উচিত এই নিয়ে আমাদের সাথে এককভাবে বসা হয়নি। তবুও আমরা সরকারের দৃষ্টি কামনা করি, একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তাকে মুক্তি দেয়ার ব্যবস্থা করবে। কর্নেল (অব.) অলি বলেন, আমরা এককভাবে ৮-৯টি সভা করেছি। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিতে তুলে ধরেছি। কিন্তু সরকার আমাদের কথাগুলো গ্রহণ করছেন না। আমরা এখনো আশা করি খালেদা জিয়ার বয়স এবং তার ভূমিকা বিবেচনা করে সরকার মুক্তি দেয়ার ব্যবস্থা করবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেছেন, খালেদা জিয়ার যে অবস্থা এই নিয়ে করণীয় কি, আগে বিএনপিকে এগিয়ে আসতে হবে। এই মুহূর্তে শক্ত ভূমিকা দরকার বলেও আমরা মনে করছি। কারণ খালেদা জিয়ার বিষয়টা একটা বড় বিষয়, জাতীয় ইস্যু। দলমত নির্বিশেষে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্তে সবাই একমত। খালেদা জিয়ার মুক্তির কর্মসূচিতে ২০ দলের কেউ ভিন্নমত নাই। জোটের সবাই চায় খালেদা জিয়া মুক্তিলাভ করুক। সবসময় ২০ দল মানবিক কারণে খালেদা জিয়ার মুক্তি কামনা করে আসছে। এখন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কি করণীয় বিষয়টা বিএনপিকে ঠিক করতে হবে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমরা বহু আগে থেকে বলেছি খালেদা জিয়ার যে মামলা সেটি জামিন পাওয়ার যোগ্য, কিন্তু এটি রাজনৈতিক মামলা তাই তিনি রাজনৈতিক ভূমিকা ছাড়া মুক্তি হয়তো পাবেন না। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আন্দোলন করতে হবে রাস্তায় নেমে সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে মুক্তি দিতে বাধ্য করতে হবে।
এদেশের বহু মানুষ, অনেক রাজনৈতিক দল খালেদা জিয়াকে নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছে। এখন এই পরিস্থিতিতে বিএনপিকে ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত রয়েছে সেটি বিএনপিকে বিবেচনা করতে হবে। তারা তাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য কি করবে। তবে আমরা অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে বিশেষ করে আমি ব্যক্তিগতভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যা যা করা দরকার তাই করবো। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেছেন, আজকে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের ৬ তারিখ, আজকে হঠাৎ করে আন্দোলন করতে চাইলেও বিএনপি আন্দোলন করতে পারবে না। কারণ আন্দোলন বিষয়টা আসে ধাপে ধাপে, ক্রমান্বয়ে। কিন্তু সেটি বিএনপি করতে পারেনি। এ দেশের মানুষের ভাষা, দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষা-যন্ত্রণা ও আর্তনাদ সেটি তারা বুঝেনি। আমরা এখনো বলছি, এই শেষ সময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কী করণীয় আছে, তা ঠিক করতে সবাইকে নিয়ে অতিদ্রুত বসতে হবে। বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে, যেকোনো মুহূর্তে অনেক বড় কিছু ঘটে যেতে পারে। জোট-দলের সকল অঙ্গ সংগঠন সবাইকে নিয়ে বসে আন্দোলনের পথ ঠিক করতে হবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক বলেছেন, খালেদা জিয়ার যে মামলা সেটি পরিষ্কার রাজনৈতিক, হয়রানির উদ্দেশ্যে প্রতিশোধের মামলা। এই মামলা সরকারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে, জনগণের কাছে এই মামলার কোনো ভিত্তি নেই। জনগণ বুঝে কেন খালেদা জিয়াকে আটক করে রাখা হয়েছে। কারণ আজকে দেখা যায়, বাংলাদেশে খুনের মামলার আসামি ঘুরে বেড়াচ্ছে, কোটি কোটি টাকার লুটের মামলা সেগুলোর কোনো বিচার হয়নি। এ ব্যাপারে মানুষের স্পষ্ট ধারণা খালেদা জিয়ার মামলাটি উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। যেহেতু খালেদা জিয়ার মামলাটি রাজনৈতিক তাই বিএনপিকে রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, খালেদা জিয়াকে জীবন্ত অবস্থায় পেতে প্রয়োজন দ্রুত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা। এর জন্য প্রয়োজনে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে চিকিৎসা করতে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, তিনিই বিএনপির মূল অনুপ্রেরণার উৎস। এ বিষয়ে দল ও পরিবারকে উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সুচিকিৎসার জন্য সরকারের প্রতিও আহ্বান জানাই। সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিশ্বাস করি। যেহেতু, বিএনপি তার মুক্তির জন্য কার্যকর কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে নাই, অদূর ভবিষ্যতেও পারবে বলে মনে হচ্ছে না। সেহেতু, তাদের এখন প্রধান কাজ হওয়া উচিত খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে এক সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
কমেন্ট বক্স