মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ব্লাকমেইল থেকে রক্ষা পেতেই খুন!

  • আপলোড তারিখঃ ২৭-১২-২০১৯ ইং
ব্লাকমেইল থেকে রক্ষা পেতেই খুন!
গাংনীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, ভ্যানচালক আটক গাংনী অফিস: মেহেরপুরের গাংনীর মহিষাখোলা গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী আফরোজা খাতুন (২৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। হত্যাকারী একই গ্রামের ভ্যানচালক মোনায়েম হোসেন আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করছেন গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম। টাকা ধারের বিষয়ে মোনায়েম হোসেনকে ব্লাকমেইল করে আফরোজা। ব্লাকমেইল এর হাত থেকে রক্ষা পেতে আফরোজাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে মোনায়েম। এর মধ্য দিয়ে স্বল্প সময়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হওয়ায় পুলিশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যকারীকে গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডের জট উন্মোচনে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। টাকা লেনদেনের সম্পর্ক ধরে ব্লাকমেইল থেকে রক্ষা পেতে ঠাণ্ডা মাথায় আফরোজার ঘনিষ্ট মোনায়েম হোসেন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে মেহেরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে মোনায়েম হোসেন। আফরোজা হত্যাকাণ্ডের একমাত্র আসামি মোনায়েম হোসেন মহিষাখোলা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। পেশায় পাখিভ্যানচালক ও বাঁশের সলি তৈরী শ্রমিক। প্রতিবেশী হিসেবে আফরোজার সাথে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিলো। গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুর রহমান বলেন, বিভিন্ন তথ্যের উপর ভিত্তি করে সন্দেহভাজন হিসেবে মোনায়েম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে প্রকৃত রহস্য। পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দেয় মোনায়েম। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। গাংনী থানার ওসি তদন্ত সাজেদুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন। আফরোজা হত্যা মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম বলেন, আফরোজার স্বামী বিদেশে যাওয়ার সময় প্রতিবেশী মোনায়েমের কাছ থেকে টাকা ধার নেয় আফরোজা। এর জের ধরে ব্যানচালকের সঙ্গে এক প্রকার ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরী হয় আফরোজার। প্রয়োজনে মাঝেমধ্যেই মোনায়েমের কাছ থেকে টাকা ধার করতো আফরোজা। সাম্প্রতিক সময়ে ৪৫ হাজার টাকা আবারও ধার চায় আফরোজা। টাকা দিতে অপারগতা স্বীকার করলে আফরোজা তাকে ধর্ষণ মামলার ভয় দেখায়। এ ভাবে কয়েকদিন ভয় দেখানোর পর মোনায়েম তাকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাগারাগি না করে টাকা দেয়ার প্রলোভনে গত সোমবার সন্ধ্যায় আফরোজাকে বাড়ির পাশের তুলাখেতে আসার প্রস্তাব দেয় মোনায়েম। সোমবার সন্ধ্যার পর পরই বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ির পাশের একটি বাঁশবাগান ও পানবরজের ভেতর দিয়ে দুজন তুলাখেতে পৌঁছায়। সেখানে পুর্বপরিকল্পনা মাফিক আফরোজার গলায় রসি পেচিয়ে ধরে মোনায়েম। রসি পেচানো অবস্থায় টানতে টানতে তাকে নিয়ে যায় জনৈক আজাদ বক্সের পুকুরের ধারে। গলায় রসি দিয়ে চেপে রাখায় আফরোজার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। পরে ধাক্কা দিয়ে পুকুরের মধ্যে ফেলে দেয়। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে পান বরজের উপরে রসির ওই অংশ ফেলে দেয় মোনায়েম। হত্যাকাণ্ডের এই রোমহর্ষক বর্ণনা মেহেরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেয় হত্যাকারী। বিজ্ঞ আদালত ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ওসি তদন্ত আরো বলেন, মোনায়েমের ভ্যানে ব্যবহৃত ২৫ হাত রসি থেকে সাড়ে তিন হাত মতো কেটে নিয়ে হত্যা করতে যায়। তাঁর স্বীকারোক্তি মোতাবেক ওই রসি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত নয়। মোনায়েম একাই পুর্বপরিকল্পনা মতো আফরোজাকে হত্যা করেছে। এদিকে স্বল্প সময়ের মধ্যে পুলিশের এই সফলতায় এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনাকাঙ্খিত কোন ভয়ে গ্রামের অনেকেই ছিলেন ভীতু। দ্রুত মামলা তদন্তের ইতি টানায় গ্রামের মানুষ স্বস্তিতে রাতে ঘুমাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আতঙ্কগ্রস্থ অনেকে। তবে স্থানীয়রা মোনায়েম ও আফরোজার বিষয়ে এখনো সরব সমালোচনা করছেন। তাদের দুজনের সম্পর্কের বিষয়টি আগে থেকেই গ্রামের মানুষের জানা ছিল। তাই হত্যাকাণ্ডের পর পরই মোনায়েমের দিকেই সন্দেহের তীর ছিল গ্রামবাসীর। আফরোজার বেপরোয়া চলাফেরাকেই প্রধান দায়ী করছিলেন তারা। প্রসঙ্গত, গাংনী উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামের শিপন মিয়ার স্ত্রী আফরোজা খাতুন দুই পুত্র সন্তান নিয়ে মহিষাখোলা গ্রামে পিতা হাউস আলীর বাড়িতে বসবাস করতেন। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির অদূরবর্তী তুলা ক্ষেতে তার ব্যবহৃত ওড়না ও স্যান্ডেল এবং পুকুরে মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পুকুরে মরদেহ ফেরে রাখা হয় বলে ধারনা পরিবার ও পুলিশের।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী