মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ফের আক্রান্ত রক্তাক্ত নুরেরা

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-১২-২০১৯ ইং
ফের আক্রান্ত রক্তাক্ত নুরেরা
ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হামলা সমীকরণ প্রতিবেদন: নিজ কক্ষে হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুর। হামলায় আহত হয়েছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। গতকাল দুপুরে নজিরবিহীন এ হামলা চালায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নামে এর আগেও ভিপি নুরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ওদিকে আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক ডাকসু ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেলসহ অনেকে। হামলার সময় ভাঙচুর করা হয়েছে ডাকসু ভিপির কক্ষের আসবাবপত্র। ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন এ হামলার নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। হামলার নেতৃত্বে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। এসময় তারা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। হামলার সময় খবর ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে হেনস্থার শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়। জানা গেছে, গ্রামীন ফোনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ পাঠানোর প্রতিবাদে দুপুর ১২টায় টিএসসির সন্ত্রাস বিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। মানববন্ধন শেষে তারা মধুর ক্যান্টিনে অবস্থান নেয়। সেখানে বসে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি (ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি) আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক (ছাত্রলীগের সাবেক উপ সম্পাদক) আল মামুন ডাকসুতে ভিপি নুরুল হক নুর ও তার অনুসারীদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন। এরপর মধুর ঘোল ঘর থেকে বের হয়ে বুলবুল ও আল মামুন সেখানে অবস্থান নেয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরও হামলায় অংশ নেয়ার জন্য বলে। এরপর ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা ডাকসুর সামনে গিয়ে ডাকসু ভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। কিছু নেতাকর্মী ভেতরে গিয়ে নুরুল হক নুরের অনুসারীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় নুরের অনুসারীরা প্রথমে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর হামলাকারীদের সঙ্গে যোগ দেন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। এসময় সনজিত ও সাদ্দাম ভিপির কক্ষে গিয়ে নুরকে বহিরাগতদের বের করে দেয়ার নির্দেশনা দেন। কিন্তু এতে আপত্তি জানিয়ে ভিপি নুর সনজিতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি কে? আপনি কেন ডাকসুতে এসে আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। এসময় উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। ভিপি নুর ও ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে যখন উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে ঠিক তখন ছাত্রলীগের অন্য নেতাকর্মীরা ভিপি নুরের কক্ষে থাকা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীদের এক এক করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। এরপর ভিপির কক্ষের গলিতে অবস্থান নেয়া ছাত্রলীগের এক গ্রুপ তাদের দ্বিতীয় দফায় মারধর করেন। এরপর তারা ডাকসুর সিঁড়িতে নিয়ে আসলে সেখানে থাকা আরেকগ্রুপ শিক্ষার্থীদের মারধর করে। এসময় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়। এরই মধ্যে সনজিত সাদ্দাম ভিপির কক্ষ থেকে বের হয়ে মধুতে চলে যান। যাওয়ার সময় তারা ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন আর যেন বেশি না মারা হয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী