নির্ভৃত পল্লীতে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন ম. আ. সরকার পল্লী পাঠাগার
- আপলোড তারিখঃ
২৩-১২-২০১৯
ইং
প্রতিবেদক, হিজলগাড়ি:
পাঠাগার আলোকিত করে তোলে মানুষকে। পাঠাগার মানুষকে তার আত্মিক অন্বেষণের পথনির্দেশ করে। যা ক্ষুধা-তৃষ্ণা, শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই একান্ত জরুরি। আমাদের সমাজকে শিক্ষিত করে তুলতে হলে, শিক্ষিত রাষ্ট্র পেতে হলে আমাদের চাই আলোকিত মানুষ। আর আলোকিত মানুষ পেতে চাই পাঠাগার। পাঠাগার মানুষের জ্ঞানের সব দুয়ার উন্মোচন করে মানবাত্মা করে তোলে প্রজ্বলিত। পাঠাগার আমাদের চার পাশের রহস্যময় বিশ্বের দুয়ার খুলে দেয়। সমাজের মস্তিষ্ক ও জ্ঞানাধার হলো পাঠাগার। তাই দীপ্ত, মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে সুশীল সমাজ পাওয়ার লক্ষে সমাজের প্রতিটি স্তরে জ্ঞানের আলোকবর্তিতা পৌঁছে দিতে হবে এই স্বপ্ন নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদরের নিভৃত পল্লী ৬২ নম্বর আড়িয়া গ্রামে স্কুলশিক্ষক মস্তাক আহম্মেদ সরকার নিজ উদ্যোগে সবুজ ছায়াঢাকা নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তুলেছেন ম. আ. সরকার পল্লী পাঠাগার।
‘আলোকিত মানুষ চাই, একটি গ্রাম একটি গাঠাগার, প্রতিটি গ্রামে হোক পাঠাগার, পড়িলে বই আলোকিত হই, না পড়িলে বই অন্ধকারে রই’ এসব স্লোগানে নিঃস্বার্থভাবে তিনি পরিচালনা করছেন পল্লী পাঠাগারটি। শাশ্বত আলোর পথের পদপ্রদর্শক শিক্ষক মস্তাক আহম্মেদ সরকার সময়ের সমীকরণকে বলেন, ‘শিক্ষার আলো ছাড়া সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করা সম্ভব নয়। তাই ছোট থেকেই এলাকার মানুষের মধ্য থেকে অশিক্ষার আধার দূর করার জন্য মানুষকে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ করে তোলার চেষ্টা করতাম। এক সময় বই কিনে মানুষকে পড়ার জন্য বিলি করতাম। পরে চিন্তা করে দেখলাম, এভাবে মানুষকে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি সম্ভব নয়। তাই বিকল্প চেষ্টা হিসেবে পাঠাগার তৈরির পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনা থেকেই এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠা। এখন এলাকার মানুষ বই পড়ছে, সব বয়সী মানুষ একসঙ্গে বসে বই পড়ার আসরে অংশগ্রহণ করছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী ৬২ নম্বর আড়িয়া গ্রামের এক মুসলিম কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মস্তাক আহম্মেদ। পাঁচ ভাই আর চার বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। অদম্য মেধাবী হওয়ায় পিতার কৃষিকাজে সহযোগিতা করার পাশাপাশি তিনি নিজের লেখাপড়াটাও চালিয়ে গেছেন শত বাঁধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে। ১৯৮৯ সালে তিনি এসএসসি পাশ করেন। শত কষ্ট আর অভাবের মধ্যেই বিএসএস পাশ (ডিগ্রী) শেষ করেন।
এলাকার মানুষকে পাঠাগারমুখী করার জন্য ম. আ. সরকার ও তাঁর বাল্যবন্ধু দামুড়হুদা ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমান মণ্ডল মিলে অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। পাঠাগারে বই পড়ার পাশাপাশি অবসরে গান-বাজনা করার ব্যবস্থাও করছেন তাঁরা। পাশাপাশি পাঠাগারে সাপ্তাহিক বই পড়ার আসর বসানো হয়। প্রাচীনকালের পুঁথি পাঠের মতোই চলে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ম. আ. সরকারের পল্লী পাঠাগারে বই পড়ার আসর। একগুয়েমি কাটানোর জন্য প্রতিদিন বসানো হয় গানের আসর। হারমোনিয়াম, ডুগি, তবলা, জুড়ি আর বাঁশের বাঁশির মধুর সুরে যেন হ্যামিলিয়নের যাদুর বাশির মতো ছুটে আসে গ্রামের সব বয়সী মানুষ।
কমেন্ট বক্স