যশোরে হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষীকে কুপিয়ে খুন
- আপলোড তারিখঃ
২২-১২-২০১৯
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদন:
যশোরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারো ঘটেছে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের মোল্যাপাড়া বাঁশতলা মোড়ের রহিমের চায়ের দোকানের সামনে আব্দুর রহমান (৪৮) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যা কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো শাবল উদ্ধার করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত আব্দুর রহমান বারান্দী মোল্যাপাড়ার মৃত হবিবার রহমানের ছেলে ও পুরাতন টায়ার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। পুলিশ ধারনা করছে নজরুলহত্যাকান্ডের সাথে জড়িত চক্রই পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে শহরের বেজপাড়া তালতলা মোড়ে ও বারান্দী মোল্যাপাড়া বাঁশতলা মোড়ে প্রকাশ্যে দুই দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত আব্দুর রহমানের মেয়ে ফাহমিদা রুবি জানান, শনিবার সকাল ৯টার দিকে ব্যবসার কাজে বাসা থেকে বের হয় তার বাবা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার বাবা মোল্যাপাড়া বাঁশতলা নামক স্থানে গেলে প্রতিবেশি মৃত নিজাম বিশ্বাসে ছেলে মেঠো কুদ্দুস, আকরাম, বাদল, ফারুক, নুর আলম, শাহআলম তার সাইকেলসহ ঝাপটে ধরে। এর মধ্যে আকরাম পেরেক উঠানো শাবল দিয়ে মাথায় বাড়ি মারে। এসময় আব্দুর রহমান পড়ে গেলে অন্যান্যরা কুপিয়ে তাকে জখম করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। বেলা ১১টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার আহমেদ তারেক সামস আব্দুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৩ সালে ৩০শে অক্টোবর যশোর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টায়ার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম খুন হন। এ হত্যা মামলার এক নম্বর সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান। আর এ মামলার আসামি নিজাম বিশ্বাসের ৬ ছেলে। ইতোপূর্বে নজরুল হত্যায় মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তারা আব্দুর রহমানকে হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু আব্দুর রহমান তাদের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বিষয়টি থানা পুলিশ ও আদালতকে লিখিত ভাবে অবহিত করেন। ধারনা করা হচ্ছে, সেই কারনেই মামলায় সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য আব্দুর রহমানকে হত্যা করা হতে পারে। স্থানীরা আরও জানান, নিজাম বিশ্বাসের ছেলে মেঠো কুদ্দুস, আকরাম, বাদল, ফারুক, নুর আলম, শাহআলমের বিরুদ্ধে জিয়া,রিপন হত্যা, ডাকাতি, বিস্ফোরকসহ ৭টি মামলা রয়েছে।
নিহতের ভাই সালাউদ্দিন বাবু জানান, নিজাম বিশ্বাসের সাথে তার ভাইয়ের জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। এছাড়া তার ভাই একটি হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন। তার কারণে হয়তো তাকে হত্যা করা হয়েছে। আব্দুর রহমান হত্যার পর কোতয়ালী থানার ওসি মনিরুজ্জামানসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় তারা হত্যায় ব্যবহৃত পেরেক উঠানো শাবল জব্দ করেছে। কোতয়ালী থানার এসআই শাহিনুর রহমান সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে বলেছেন, আব্দুর রহমানের মাথায়, মুখে, পিঠে, হাতে ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, রহমান হত্যাকারীদের আটকের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, গত পরশু সন্ধ্যায় শহরের ব্যস্ততম তালতলা বাজার মোড়ে টোকাই রমজান নামের একজনকে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে। এর কয়েকদিন আগে শহরতলীর হাসিমপুর বাজারে একজন আনসার সদস্যকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এভাবে একের পর এক প্রকাশ্যে হত্যাকান্ডের ঘটনায় শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ এসব হত্যাকান্ডের তেমন কোন কুলকিনারা করতে না পারায় সাধারণ মানুষের মনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
কমেন্ট বক্স