চুয়াডাঙ্গায় অগ্রণী ব্যাংকের এমডি শামস্-উল ইসলামের ব্যস্ততম দিন
বিশেষ প্রতিবেদক:
অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম বলেছেন, ‘সারা দেশে ঋণ খেলাপির একটা কালচার রয়েছে। তবে চুয়াডাঙ্গার মানুষের কাছে সেই খেলাপি হবে না। আমি এখানকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিশে জানতে পেরেছি। আপনারা অগ্রণী ব্যাংকে আসবেন গ্রাহক হিসেবে নয়, মালিক পক্ষ হিসেবে। আমি আশা করি, আপনারা সে সম্মান রাখবেন।’ গতকাল শুক্রবার রাতে চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চুয়াডাঙ্গায় অনেক কিছু করতে পারি। আপনাদের বক্তব্য, দাবি ও চাহিদার কথা শুনেছি। যতটুকু সম্ভব বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। আপনারা ঋণ খেলাপি না হওয়ার আশ্বাস দিলে আমি আপনাদের প্রপোজাল সহজভাবে স্যাংশনে সহায়তা করব। কেউ যদি ঘুরায়, হয়রানি করে, টাকা-পয়সা চায়, আমাকে বলবেন। তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। বর্তমান সরকারের কথা অনুযায়ী ব্যাংকিং সেবার অনেক উন্নয়ন করা হয়েছে। মনে রাখবেন, জনগণের জন্যই ব্যাংক, আমরা জনগণের জন্য।’
চুয়াডাঙ্গার প্রতি কিছু দায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় আমার কিছু দায় রয়েছে। আমার মা-বাবা একসময় এখানে ছিলেন। আজ তাঁরা বেঁচে থাকলে জানতে চাইতাম, তাঁরা কোথায় থাকতেন, তারপর সেখানে কিছু সময় কাটাতে পারতাম। এখানে এসে আমার প্রয়াত মা-বাবার কিছু স্মৃতি মনে পড়ে গেল। মনে পড়ে গেল এখানেই তো আমার মা-বাবা ছিল। হয়ত একটু দেরিতে এলাকায় এসেছি। কিন্তু অনেক আগে এখানে আসার কথা ছিল।’
রেমিটেন্স আয়ে অগ্রণী ব্যাংক শীর্ষে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন জমি-জায়গা, বাড়ি-ঘর বিক্রি করে নয়, সহজ শর্তে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে বিদেশ যাওয়া যায়। আর বৈদেশিক রেমিটেন্স আয়ে অগ্রণী ব্যাংক নাম্বার ওয়ান। আমরা হানিফ ফ্লাইওভারে ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগসহ দেশের ১৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছি। চলমান পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে ১ বিলিয়ন ডলার দিয়েছি, যা রেমিটেন্স থেকেই এসেছে। আজ আমরা উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞে শামিল হতে পেরেছি।’
চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক। তিনি মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলামের কর্মজীবন ও সিঙ্গাপুরে দায়িত্বপালনকালের স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ‘তিনি দীর্ঘ সময় সিঙ্গাপুরে অগ্রণী ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তাঁর হাত ধরেই রেমিটেন্স আয়ে শ্রেষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে অগ্রণী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংক হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের সেবা অনেক উন্নত। তাই বেসরকারি ব্যাংকের মতো সুযোগ-সুবিধা পেলে এখানেই লেনদেন করা ভালো। ঠিকমতো লেনদেন করলে আপনাদের উন্নয়ন হবে, সেই সঙ্গে ব্যাংকেরও উন্নয়ন হবে। ভালো ভালো পরিকল্পনা আর উদ্যোগ নিন, নিয়ম মেনে ব্যাংকিং করুন। আমি-আমরা চাই আরও ব্যবসায়ী বাড়–ক, ব্যবসা সমৃদ্ধ হোক, চুয়াডাঙ্গার উন্নয়ন হোক। চুয়াডাঙ্গাবাসীর উন্নয়ন হলে আমার থেকে খুশি কেউ হবে না।’

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন অগ্রণী ব্যাংকের খুলনা সার্কেলের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলাম, উপমহাব্যবস্থাপক ফরিদুল আলম, চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও অঞ্চল প্রধান মানস কুমার পাল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল আমিন ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন। এর আগে স্বাগত বক্তব্য দেন অগ্রণী ব্যাংকের চুয়াডাঙ্গা শাখা ব্যবস্থাপক এম এইচ জগলুল পাশা।
আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি শাহারিন হক মালিক, সহসভাপতি মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, পরিচালক সালাউদ্দিন মোহাম্মদ মর্তুজা, এস এম তসলিম আরিফ বাবু, নীল রতন সাহা, আরিফ হোসেন জোয়ার্দ্দার সোনা, কিশোর কুমার কু-ু, নাসির আহাদ জোয়ার্দ্দার, এ এন এম আরিফ, কামরুল ইসলাম হিরা, সুরেশ কুমার আগরওয়ালা, জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আসাদুল হোসেন জোয়ার্দ্দার লেমন, সাধারণ সম্পাদক ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার ইবু, সমবায় নিউ মার্কেট পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও গোল্ডস্টার গ্রুপের পরিচালক মাহফুজুর রহমান জোয়ার্দ্দার মিজাইল, যুগ্ম সম্পাদক সুমন পারভেজ খানসহ জেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সভা সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সচিব খাইরুল ইসলাম।

মতবিনিময় শেষে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। এতে অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, মিসেস নজরুল ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম।
এদিকে, গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে যশোরে অবতরণ করেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম। পরে সেখান থেকে সড়ক পথে চুয়াডাঙ্গায় এসে জামান গ্রুপের বিভিন্ন কল-কারখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক। তাঁদের অভ্যর্থনা জানান জামান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আসাদুজ্জামান।
এদিন বিকেল সাড়ে চারটায় চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে ‘মিট দ্যা বারোয়ার অ্যান্ড টাউন হল মিটিং’ এ অংশ নেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম। অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও অঞ্চল প্রধান মানস কুমার পালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অগ্রণী ব্যাংকের খুলনা সার্কেলের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলাম, উপমহাব্যবস্থাপক ফরিদুল আলম ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস। এ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।