জীবননগরে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু!
- আপলোড তারিখঃ
২৩-১১-২০১৯
ইং
জীবননগর অফিস:
জীবননগরে হাতুড়ে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জীবননগর উপজেলার পেয়ারাতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ হলেন জীবননগর পৌর সভার ২ নম্বর ওয়ার্ড নারায়ণপুর সরকারপাড়ার আশাদুল হকের স্ত্রী রোফছানা খাতুন (৩২)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোফছানা খাতুন বেশ কিছুদিন যাবৎ অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। যার ফলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চিকিৎসার জন্য পেয়ারাতলা বাজারের রিপন ফার্মেসির মালিক গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার সুজনের কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা নিতে গেলে তাঁর গায়ে দুটি ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটি অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য ওই ডাক্তার স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা ও কিছু সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং মৃত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে নিয়ে গিয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তড়িঘড়ি করে গৃহবধূর লাশ নারায়ণপুর সরকারপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। গৃহবধূর মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেন স্থানীয় মেম্বার রিপন হোসেন। তিনি বলেন, ‘সুজন ডাক্তারের কাছে এক রোগী চিকিৎসা নিতে এসে মারা গিয়েছে, আমি এ সংবাদ শুনে ঘটনাস্থানে ছুটে যাই এবং স্থানীয় সূত্রে জানতে পারি, ডাক্তার রোগীকে ইনজেকশন দেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শুনেছি একটি গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নেওয়া অবস্থায় একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রোগীটি জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে গ্রাম্য ডাক্তার সুজনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো রোগীকে ভুল চিকিৎসা প্রদান করিনি। যে রোগী মারা গেছে, তাকে আমি একটি গ্যাসের ইনজেকশন ইসোনিক্স এবং একটি কটসন ইনজেকশন দিয়েছি। ওই রোগীর অ্যাজমা ছিল। সে কী কারণে মারা গেছে, এটা আমি বলতে পারব না।’
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনাটি আমি জানি না। এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেব।’
কমেন্ট বক্স