ছুরিকাঘাত, অভিযুক্তকে গাছে বেধে গণধোলাই!
- আপলোড তারিখঃ
১৭-১১-২০১৯
ইং
চুয়াডাঙ্গায় নারীর ব্যাগ ধরে টানাটানির ঘটনায় দুই যুবককে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ায় এক নারীর ব্যাগ ধরে টানাটানির ঘটনায় দুই যুবককে ছুরিরকাঘাতসহ অভিযুক্তকে গাছে বেঁধে গণধোলাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শহরের শান্তিপাড়ায় গতকাল সকালে নারীর ব্যাগ ধরে টানাটানি ও বিকেলে ছুরিকাঘাত ও গণধোলাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতে আহতরা হলেন শান্তিপাড়ার জসিমের ছেলে রুপক (১৪) ও একই এলাকার মৃত রুহুল আমীনের ছেলে সুমন ইসলাম (৩৫)। আহত দুজনই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাফিকুল্লাহকে গণধোলাই দিয়ে স্থানীয়রা পুলিশ সোপর্দ করেছে। পরে পুলিশ অভিযুক্ত শাফিকুল্লাহকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে দাবি করে। অভিযুক্ত শাফিকুল্লাহ চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্নস্থানে এলোমেলো চলাফেরা করে, এর আগেও তার নামে অনেক অভিযোগ আছে। তবে তার পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। তাকে অনেকে পাগল বলে জানে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকালে পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের শান্তিপাড়ায় এক নারীর ব্যাগ ধরে টানাটানি করছিল শাফিকুল্লাহ। এসময় রুপক ও সুমনসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি শাফিকুল্লাহকে অপরিচিত নারীর ব্যাগ ধরে টানাটানির কারণে আটক করে ও সামান্য মারধর করে ছেড়ে দেয়। পরে বিকেলে শান্তিপাড়ার একটি বাগানে রুপক খেলা খেলছিল হঠাৎ সকালের ঘটনার জন্য অভিযুক্ত শাফিকুল্লাহ এসে রুপকের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করতে থাকলে সুমন এসে রুপককে বাচাতে যায়। এসময় শাফিকুল্লাহ সুমনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় তাকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ অভিযুক্ত শাফিকুল্লাহকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ছুরিকাঘাতে আহত দুজন এখন আশঙ্কামুক্ত আছে। আর শাফিকুল্লাহ নামের একজনকে পুলিশ ভর্তি করেছে, তাকেও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান জানান, চুয়াডাঙ্গার শহরের শান্তিপাড়ায় এক অপরিচিত নারীর ব্যাগ টানাটানির ঘটনায় দুজনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেচে। আমরা অভিযুক্ত আটক করে তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। তবে অভিযুক্ত শাফিকুল্লাহের নামে এর আগেও বেশ কয়েকটি অভিযোগ আছে। সে মানসিক ভারসাম্যহীন বলেই আমরা জানি। তারপরেও আমরা অভিযুক্তের বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলবো। এখনো পর্যন্ত ছুরিকাঘাতের ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি।
কমেন্ট বক্স