মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

স্কুল ভর্তিতে কঠোর নজরদারি

  • আপলোড তারিখঃ ০৬-১১-২০১৯ ইং
স্কুল ভর্তিতে কঠোর নজরদারি
সমীকরণ প্রতিবেদন: আগামী শিক্ষাবর্ষে স্কুল ভর্তি কার্যক্রম কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি ও শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধে প্রথমবারের মতো আগে থেকেই মাঠে তৎপর থাকবে প্রশাসন। এ লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে আলাদা দুটি মনিটরিং কমিটি করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিন বা নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মনিটরিং টিম কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায় বা অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তির প্রমাণ পেলেই প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিও বন্ধসহ চাকরি থেকে বরখাস্তের সুপারিশ করবে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি বা পর্ষদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে। গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক স্তরের ভর্তি কার্যক্রম মনিটরিং করতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি করা হবে। কমিটিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও স্থানীয় একটি করে বালক ও বালিকা স্কুলে একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক এ কমিটিতে থাকবেন। একইভাবে কলেজ পর্যায়ে ভর্তি মনিটরিং করতেও চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটি প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক। সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন আঞ্চলিকের উপপরিচালক (সেসিপ)। এ কমিটিতে একজন সরকারি কলেজে শিক্ষক এবং একজন বেসরকারি কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি থাকবেন। কমিটি চাইলে আরও সদস্যকে কোঅপ্ট করতে পারবেন। কমিটি ভর্তির সময়টুকু সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন। এ কমিটি প্রতি বছর ভর্তির সময়টুকু স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ প্রতি বছর আর কমিটি করতে হবে না। যারা এ দায়িত্বে থাকবেন তারাই এ দায়িত্ব পালন করবেন। তবে রাজধানী স্কুল ভর্তির মনিটরিং করার জন্য আলাদা যে কমিটি রয়েছে তারাই আগের মতোই দায়িত্ব পালন করবেন। এ ব্যাপারে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান বলেন, ভর্তিতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন স্র্েবাচ্চ সতর্ক থাকবে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার শক্তভাবে মনিটরিং হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যে কমিটি থাকবে তাদের প্রচুর ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। তিনি বলেন, এমসিকিউ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হলে হলে বলে দেওয়ারসহ নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেজন্য আগের পদ্ধতিতেই এবারও পরীক্ষা হবে। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় স্কুল ভর্তিতে কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে আছে শিক্ষার্থী ভর্তিতে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত বছর অনিয়ম করেছে, মাউশি অধিদপ্তর থেকে তাদের তালিকা চাওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন সংখ্যার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি ঠেকাতে ভর্তির সময় (নভেম্বর-ডিসেম্বর) নিয়মিত মনিটরিং করবে মাউশি অধিদপ্তর। এ ব্যাপারে অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, অতিরিক্ত ভর্তি ও বাড়তি ফি আদায় মনিটরিং করা হবে শুরু থেকেই। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোরভাবে মনিটরিং চলবে শেষ পর্যন্ত। জানা গেছে, এদিকে স্কুল ভর্তিতে এমসিকিউ পদ্ধতি থেকে সরে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগের মতোই পরীক্ষা হবে- কোনো পরিবর্তন আসছে না। সারাদেশে স্কুল ভর্তির মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে নামিদামি স্কুলগুলো ভর্তির ফরম বিক্রি শুরু করেছে। ভর্তি কার্যক্রম চলবে পুরো ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে পহেলা ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে পুরাতন ও নতুন সরকারি হাইস্কুলে অনলাইনে ভর্তির আবেদন নেয়া শুরু হবে। রাজধানীর ৪৫টি সরকারি হাইস্কুলে বিগত বছরের মতো ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’- এ তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। এর মধ্যে তিনটি স্কুলে ফিডার শাখা রয়েছে। প্রতিটি ভাগের যে কোনো একটি স্কুলে আবেদন করা যাবে। সরকারি হাইস্কুলে ভর্তি নীতিমালা এবার তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এবারও সরকারি হাইস্কুলে মোট আসনের ৫৯ শতাংশ কোটায় ভর্তি করা হবে। এগুলো হচ্ছে স্্কুল ক্যাচমেন্ট এলাকায় ৪০ ভাগ, সরকারি প্রাইমারি স্কুল, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী কোটা এবং শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের কোটা। মাউশি সূত্রে জানা গেছে, এবারও প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তিতে বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫ এবং গণিতে ২০ মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা। চতুর্থ শ্রেণি থেকে ৮ম পর্যন্ত বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০ ও গণিতে ৪০ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। সময় দুই ঘণ্টা। নবম শ্রেণিতে জেএসসি ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়। ২০১৬ সালে সারাদেশে ১৭৫টি সরকারি হাইস্কুলে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তির আওতায় আনা হয়। কোন শ্রেণিতে কত ফি: স্কুল পর্যায়ে আবেদন ফরমের মূল্য ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ এমপিওভুক্ত, আংশিক এমপিওভুক্ত এবং এমপিও-বহির্ভূত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ২০০ টাকা। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্বসাকল্যে মফস্বল এলাকায় ৫০০ টাকা, পৌর (উপজেলা) এলাকায় ১ হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় ২ হাজার টাকা, ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি হবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত আংশিক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং এমপিও-বহির্ভূত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য শিক্ষার্থী ভর্তির সময় মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফি'সহ বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নিতে পারবেন। উন্নয়ন খাতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩ হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক ক্লাস থেকে পরবর্তী ক্লাসে ভর্তির জন্য প্রতি বছর সেশন চার্জ নেয়া যাবে। তবে পুনঃভর্তির ফি নেয়া যাবে না।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী