মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

নিকার সভায় সিদ্ধান্ত, ‘দর্শনা থানা’ অনুমোদন

  • আপলোড তারিখঃ ২২-১০-২০১৯ ইং
নিকার সভায় সিদ্ধান্ত, ‘দর্শনা থানা’ অনুমোদন
বিশেষ প্রতিবেদক/দর্শনা অফিস: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানাধীন দর্শনাকে আলাদা থানা হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়াও পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর এপার এবং ওপারে দুটিসহ নতুন সাতটি পুলিশি থানার অনুমোদন করা হয়েছে। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, চুয়াডাঙ্গার দর্শনাকে থানায় উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়াও পদ্মাসেতুর দু-পাড়ে উত্তর ও দক্ষিণ থানা, ঠাকুরগাঁও সদর থানাকে বিভক্ত করে ভুল্লী নামে নতুন থানার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার ভাষানচরে নতুন থানার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী স্থানান্তরের প্রক্রিয়ার কারণে ভাষানচর গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াকে বিভক্ত করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা এবং কক্সবাজারের সদর থানাকে ভাগ করে ঈদগাঁ তদন্ত কেন্দ্রকে থানায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর সিলেট জেলার বিশ্বনাথে পৌরসভা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। ‘দর্শনা থানা’ অনুমোদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি যুগপোযগী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর সময়ের সমীকরণকে বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষা একটি জনপদ দর্শনা। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত শহরের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা কিছুটা জীর্ণ হওয়ায় মাদক ও চোরাচালানের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলটিকে অবাধ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে কিছু অসাধু মহল। সেই সঙ্গে আমাদের আগামী প্রজন্ম তথা যুব সমাজ ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে। কিন্তু আপনারা জানেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণ পুলিশের কাছ থেকে যেন স্বল্প সময়ের মধ্যে কাক্সিক্ষত সেবা পায়, তা নিশ্চিত করছে। এ জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশ। সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এবং দর্শনাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দর্শনাকে প্রশাসনিক থানা হিসেবে অনুমোদন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি যুপপোযগী সিদ্ধান্ত।’ দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা পরিষদ ও স্থলবন্দরের দাবি বাস্তবায়ন হবে। দর্শনা থানা অনুমোদনের ফলে এ অঞ্চলের মানুষের অনেক দুর্ভোগ লাঘব হবে। এত দিন পুলিশি সহযোগিতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হতো। দর্শনা থানার অধীনে এখন দর্শনা পৌরসভা, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ও কুড়–লগাছি ইউনিয়ন (দামুড়হুদা থানাধীন) এবং বৃহত্তর বেগমপুর ও তিতুদহ (সদর থানাধীন) ইউনিয়নের মানুষ হাতের নাগালে পেল পুলিশি সেবা।’ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের প্রতি দর্শনার একজন নাগরিক হিসেবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দর্শনার মানুষের আরও দুটো দাবি পূরণের আকাক্সক্ষা রয়েছে। একটি হলো উপজেলা পরিষদ এবং আরেকটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর। এ দুটি দাবি পূরণ হলে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে। সেই জায়গায় যাওয়ার পথে থানা পর্যায়ে উন্নীত হওয়া একটি অধ্যায় বলে আমি মনে করি।’ চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মন্জু বলেন, ‘আমাদের দর্শনাবাসীর জন্য এটি বড় বর্জন, আমি আনন্দিত। আগে কোনো সমস্যায় পড়লে আমাদের অভিযোগ বা মামলা করতে দামুড়হুদায় যেতে হতো। দর্শনার নিকটবর্তী বেগমপুর-তিতুদহের মানুষদের পুলিশ-সংক্রান্ত বিষয়ে যেতে হতো চুয়াডাঙ্গায়। এখন দর্শনা থানা হওয়ায় অতিদ্রুত সময়ে পুলিশি সেবা পাওয়া যাবে। তার থেকে বড় কথা আমাদের উপজেলা পরিষদের দাবি পূরণের একটি ধাপ অতিক্রম করল।’ ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপনির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দর্শনার প্রশাসনিক উন্নয়নের স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা দর্শনাবাসীর দীর্ঘ দিনের। তারই সর্বশেষ পর্যায় উপজেলা পরিষদ। উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছাতে গেলে একটি পূর্ণাঙ্গ থানা তার প্রথম ধাপ। যদি থানাটাই প্রথম ধাপ হয়, তবে এটি আমাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া। দর্শনার নাগরিক হিসেবে আমাদের নাগরিক জীবনের অনেকগুলো সুযোগ-সুবিধার জায়গা তৈরি হবে। আজ থানা অনুমোদনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি, কাল থেকে উপজেলা পরিষদ নিয়ে আমাদের নতুন স্বপ্ন তৈরি হবে।’ দর্শনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আওয়াল হোসেন বলেন, ‘দর্শনা থানা অনুমোদনের মধ্যদিয়ে আমাদের উপজেলা পরিষদ বাস্তবায়ন ও পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালুর পথ অনেকটা সুগম হলো। দর্শনা উপজেলা বাস্তাবায়নের প্রথম ধাপ অতিক্রম করেছে। থানা অনুমোদনের ফলে নিরাপত্তার দিক দিয়ে আরও উন্নত হলো দর্শনা।’ দর্শনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল বলেন, ‘দর্শনাকে থানা অনুমোদনের মধ্যদিয়ে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হলেও দর্শনাবাসীর প্রাণের দাবি এখনো অপূর্ণ। আমরা আশাবাদী অতিদ্রুত দর্শনাকে উপজেলা পরিষদ হিসেবে অনুমোদন এবং পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে চালু করা হবে।’ এদিকে, দর্শনা থানা অনুমোদন হওয়ায় উচ্ছ্বসিত নাগরিকরা আজ মঙ্গলবার বিকেলে আনন্দ মিছিল ও উৎসব করবে বলে জানা গেছে। আনন্দ মিছিলটি দর্শনা রেলবাজারস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার একই স্থানে গিয়ে শেষ হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী