আজ নির্ধারণ হবে ওমর ফারুকের ভাগ্য!
- আপলোড তারিখঃ
২০-১০-২০১৯
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদন:
সম্মেলনকে সামনে রেখে যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে আজ গণভবনে বসবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ত থাকা বা বাদ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যার ফলে দীর্ঘ এক দশক ধরে ক্ষমতাসীন দলের সবচেয়ে বড় যুব সংগঠনটির ত্রাণকর্তা হিসেবে খ্যাত এ নেতার ভবিষ্যৎ বার্তার জন্য সবার নজর এখন গণভবনে। তিনি আগামী সম্মেলন পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকবেন নাকি বহিষ্কার হবেন তা আজই পরিষ্কার হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি ক্যাসিনো, জুয়া, মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে বর্তমান সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি যুবলীগের কতিপয় নেতার বিরুদ্ধেও ক্যাসিনো, জুয়া, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া, কথিত যুবলীগ নেতা জি কে শামীমসহ যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতা।
পলাতক রয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের বেশ কয়েকজন নেতা। বিভিন্ন তদন্তে উঠে আসে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ছিলেন এসবের মূল পৃষ্ঠপোষক। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয় এবং তার বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। এরপর থেকেই অনেকটা আড়ালে চলে যান ওমর ফারুক চৌধুরী। ক্যাসিনোসহ এসব বিতর্কিত কর্মকা-ের অভিযোগ উঠার পর থেকেই দলীয় কার্যক্রমের বাইরে রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।
সূত্র মতে, যুবলীগের সপ্তম জাতীয় সম্মেলন ও সংগঠনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গত ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাকে ছাড়াই সংগঠনের নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ। সভায় তার অনৈতিক কর্মকা-ের সম্পৃক্ততার প্রকাশিত তথ্য নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। যেহেতু তিনি পদে আছেন এবং সংগঠনে অনুপস্থিত, তাই তার দায়িত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পরামর্শ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ওই সভায়।
অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্মেলন আয়োজনের পরবর্তী দিকনির্দেশনা ও পরামর্শের জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবণ গণভবনে যান যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে একান্তে কথা বলেন হারুনুর রশীদ। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে গত শুক্রবার দেখা করার সময় দেন। কিন্তু ওই দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের জন্মদিন হওয়ায় যুবলীগ নেতাদের সাক্ষাতের দিন পরিবর্তন করে রোববার (আজ) নির্ধারণ করে দেন তিনি। যদিও এই সাক্ষাতে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে (এমপি) না রাখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ তথ্য ছড়িয়ে পড়লে ওমর ফারুক চৌধুরী যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকছেন না বলেই গুঞ্জন শুরু হয়।
অন্যদিকে, ওমর ফারুক চৌধুরী অনেকটা আত্মগোপনে চলে যান। দলীয় নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দেখা বা মোবাইলেও কথা বলছেন না তিনি। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, চেয়ারম্যান দলের সব কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। যেহেতু তিনি কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন সে ক্ষেত্রে তিনি গণভবনে আসবেন না, এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, নেত্রী যে নির্দেশনা দেবেন, আমরা সে অনুযায়ীই কাজ করবো।
কমেন্ট বক্স