জেলায় ২৯টি কেন্দ্রে ২২ হাজার ২০২ পরীক্ষার্থী
- আপলোড তারিখঃ
১৭-১০-২০১৯
ইং
চুয়াডাঙ্গায় জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না : ডিসি নজরুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিবেদক:
আগামী ২ নভেম্বর শনিবার থেকে সারা দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে অষ্টম শ্রেণির সমাপনী জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) সমমানের পরীক্ষা। বাংলা প্রথম পত্রের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পরীক্ষার প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিকতা। চুয়াডাঙ্গায় এ বছরে ২৯টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে ২২ হাজার ২০২ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। বিশেষ করে প্রশ্নফাঁস রোধ, পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও নকলমুক্তকরণের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন জেএসসি ও সমমান এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) নবম শ্রেণির বোর্ড সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।
সভায় বক্তব্য দেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল রঞ্জন চক্রবর্তী, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন ও আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন আলী। এ ছাড়াও চার উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তাসহ সব কেন্দ্র সচিবরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ।
সভায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশে যেন প্রতিটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়, সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে সব পরীক্ষার্থীর আবশ্যিকভাবে হলে প্রবেশ ও আসন গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং ওই সময়ের পরে কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। পরীক্ষা কেন্দ্রের ২ শ মিটারের মধ্যে কিংবা পরীক্ষা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে মোবাইল ফোনসহ কাউকে পাওয়া গেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার সময় কেবল কেন্দ্র সচিবরা সাধারণ (স্মার্টফোন নয়) একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারেন, যা দিয়ে ছবি তোলা যায় না, ইন্টারনেট ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তবে ওই ফোনটিও কেন্দ্র সচিবের কক্ষে ব্যবহার করতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থী মোবাইল ও বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বহন করতে পারবে না। প্রশ্নপত্র খোলার সময় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ ও অবস্থান সংরক্ষিত করতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিবেশ এমন হওয়া উচিত, যেখানে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রয়োজন হবে না।’
প্রবেশপত্র, কলম ও জ্যামিতি বক্স ব্যতীত কোনো কিছু নিয়ে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, নকলরোধে পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রে দায়িত্বরত পরিদর্শকরা মোবাইল ফোন, স্মার্ট ঘড়ি ও ক্যালকুলেটর পরীক্ষা কেন্দ্রে নিতে পারবে না। পরীক্ষা শুরুর পূর্বে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের শরীর তল্লাশি করে কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক। এ ছাড়াও মোবাইল বহনকারী শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষাকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষকদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনসহ পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা।
কমেন্ট বক্স