মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আজ বিজয়া দশমী, মায়ের বিসর্জন

  • আপলোড তারিখঃ ০৮-১০-২০১৯ ইং
আজ বিজয়া দশমী, মায়ের বিসর্জন
মহানবমীতে বিষাদের সুর, তবুও আনন্দের জোয়ার বিশেষ প্রতিবেদক: দুর্গোৎসবের মহানবমী ছিল গতকাল সোমবার। দেবীর বন্দনায় প্রতিটি পূজাম-পে ছিল কেবলই বিষাদের ছায়া। তাই ঢাকঢোল, কাঁসর-ঘণ্টাসহ বিভিন্ন বাদ্যে, আলোকিত করা ধূপ আরতী ও দেবীর পূজা অর্চনায় কেবলই ছিল মায়ের বিদায়ের সুর। বিভিন্ন মন্দির ও ম-পে ছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়। আজ মঙ্গলবার বিজয়া দশমী। পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন। প্রতীমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় এ উৎসব। গতকাল অশ্রুসজল নয়নে ভক্তরা দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার পায়ে অঞ্জলি দিয়েছেন। গতকাল মহানবমী পূজা শুরু হয় সকাল ছয়টায়। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় আরতী প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন। দিনভর চলে চ-ীপাঠ আর ভক্তদের কীর্তনবন্দনা। অনুষ্ঠিত হয় দেবীর মহানবমী পূজা। শাস্ত্রে আছে, নবমী তিথিতে রাবণ বধের পর শ্রী রামচন্দ্র এই পূজা করেছিলেন। নীলকণ্ঠ ফুল, যজ্ঞের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় নবমীবিহিত পূজা। নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকুলে সম্পদলাভ হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, শাপলা, শালুক ও বলিদানের মাধ্যমে গতকাল দশভুজা দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা শুরুর পর ভক্তরা প্রার্থনা করতে থাকেন দেবীর উদ্দেশ্যে। নীল অপরাজিতা ফুল নবমী পূজার বিশেষ অনুষঙ্গ। নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহুতি দেয়া হয়। ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে এই যজ্ঞ করা হয়। পূজা শেষে যথারীতি অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ করা হয়। গতকাল শেষবারের মতো দেবীর আশীর্বাদ কামনায় নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর সব বয়সের ভক্ত নিবিষ্ট মনে প্রার্থনা করেন। কীর্তন-শ্যামা সঙ্গীতের মধুর সুর আর ভক্তদের কলকাকলিতে বিভিন্ন পূজাম-পে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের রঙ। প্রতিটি ম-পেই কয়েক দফা করে পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হয়। বিদায় বেলায়ও চলেছে ঢাক আর শঙ্খধ্বনি, টানা মন্ত্র পাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি, ঢাকের বাজনার সঙ্গে ধুনচি নৃত্য। সন্ধ্যায় ম-পে ম-পে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টায় দশমী পূজা আরম্ভ হবে ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনসহ চুয়াডাঙ্গার সব ম-পে। ৮টা ৫১ মিনিটের মধ্যে পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন করা হবে। সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন এবং শান্তিজল গ্রহণ। চুয়াডাঙ্গার বড় বাজার দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বেলা তিনটায় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। একই সঙ্গে মালোপাড়া, দাসপাড়া, তালতলা, কুলচারা, আলুকদিয়া, দৌলাতদিয়াড় এলাকার পূজাম-পগুলো থেকেও শোভাযাত্রা বের হবে। চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রতীমাগুলো যাবে মাথাভাঙ্গা নদীর বিভিন্ন অস্থায়ী ঘাটে। তবে সন্ধ্যার আগেই বিসর্জন শেষ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজা শেষ হলেও যেন ম-পগুলোতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ম-পগুলোতে অবস্থান করবেন। চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার দুর্গা মন্দিরে প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ: মহানবমীতে চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার দুর্গা মন্দিরে নানা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল আরতী, নৃত্য, শংক বাজানো, উলুধ্বনি ও যেমন খুশি তেমন সাজো। আরতী প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করেছেন শিল্পী সাহা, ২য় আন্না রানী সরকার ও ৩য় রবিন সাহা। নৃত্যে ১ম শুভেচ্ছা বিশ্বাস, ২য় জয়িতা দেবনাথ ও ৩য় সায়ন্তিকা দেবনাথ। শংক বাজানোয় ১ম অরবিন্দু সরকার, ২য় অর্চনা রানী সেন ও ৩য় ঠিকানা সরকার। উলুধ্বনি প্রতিযোগিতায় ১ম কাঞ্চন সাহা, ২য় রানু সরকার ও ৩য় জবারানী সেন। এ ছাড়া যেমন খুশি তেমন সেজে ১ম হয়েছেন জয়শ্রী দেবনাথ, ২য় প্রাপ্তি দেবনাথ ও ৩য় জয়িতা দেবনাথ। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী