মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ফারাক্কার সব গেট খুলে দিয়েছে ভারত বাংলাদেশে প্লাবনের আশঙ্কা

  • আপলোড তারিখঃ ০১-১০-২০১৯ ইং
ফারাক্কার সব গেট খুলে দিয়েছে ভারত বাংলাদেশে প্লাবনের আশঙ্কা
সমীকরণে প্রতিবেদন: ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে রেকর্ড বৃষ্টিতে উপচে পড়ছে বাঁধের জল, ফলে ফরাক্কা বাঁধের সবকটি লকগেট একসঙ্গে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর জেরে সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদ একাংশ ও বাংলাদেশে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গঙ্গা ছাড়াও মালদা জেলায় প্রায় সব নদীতে পানি বাড়ছে। এক নাগাড়ে বর্ষণে ইংরেজবাজার শহরের একাধিক এলাকা পানির তলায়। গতকাল সোমবার ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি লকগেটই খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যার জেরে গঙ্গা নদীর নিম্নগতিতে প্লাবনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পানি বেগেছে মালদা জেলার ফুলহর, মহানন্দা ও কালিন্দী নদীতে। বৃষ্টিতে প্লাবিত ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদা পুরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা। পানি জমেছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পানিতে নাকাল হয়ে সোমবার পথ অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। ইংরেজবাজার পৌরসভার ২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২১টিই পানিবদ্ধ। পুরাতন মালদা পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডের ৯টি পানির তলায়। জেলায় একাধিক জায়গায় নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। চরম বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে গঙ্গা ও ফুলহর। যার ফলে লাগাতার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর মিলছে। রুদ্রমূর্তি ফুলহারের। বেড়েই চলেছে জলস্তর। আজ দুপুরে পানির স্তর ছিল ২৭.৭৫ মিটার। যা চরম বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে বইছে। ফুলহারের পানি গতকাল দুপুরে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে রতুয়া ১ এবং চাঁচল ২ ব্লকের আরও তিনটি গ্রাম। পঞ্চায়েত এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ডুবে গেছে রতুয়া ভালুকা রাজ্য সড়ক। পানির মধ্যেই খোলা আকাশের নীচে দিন কাটছে বহু পরিবারের। ঠাঁই হয়নি ত্রাণ শিবিরেও। ত্রাণ নিয়ে হাহাকার। খাওয়ার নেই, নেই পানীয়জল। পাশাপাশি হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের পারভালুকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এদিকে বন্যাকবলিত বিহারের পরিস্থিতি ভয়ানক। রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদী নিজের পাটনার বাড়িতে আটকে পড়েন। গতকাল সোমবার জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা-এর সদস্যরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদী ও তার পরিবারকে রক্ষা করা গেলেও, বিহারে বন্যার জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৯ জন। অনবরত ভারী বৃষ্টি এবং তার জেরে বন্যার বিধ্বস্ত গোটা বিহার। বহু মানুষ ঘরছাড়া এবং ফসলের জমি পানির তলায়। বিহার সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে সোমবার উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বন্যাকবলিত বেশ কিছু এলাকায় ঘুরে দেখেছেন এবং সরকার সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে গঙ্গার পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যার কবলে পড়েছে গোটা রাজ্য। তবে সঠিক ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মানুষের পাশে রয়েছে সরকার। অন্যদিকে আবহাওয়া সূত্রের খবর, আগামী কয়েকদিন আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পাটনা ও সংলগ্ন এলাকায়। রাজেন্দ্রনগর, কংকরবাগে এনডিআরএফের পাঁচটি দল রাখা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্যে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। পাটনায় বন্ধ স্কুল-কলেজ। কোশী, গন্ডক, বাগমতি নদীর পানির কমার কোনও লক্ষণই আপাতত নেই। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের বন্যা পরিস্থিতিও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গাপুর, ঝাড়খ- ও বিহারের জলাধারগুলি থেকে পানি ছাড়া শুরু হয়েছে। এর জেরে পশ্চিমবঙ্গেও তার প্রভাব পড়তে পারে।জাতীয় আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, ৪ মাসের মৌসুমী বৃষ্টির মাস সোমবার শেষ হলেও, মৌসুমী বায়ু এখনও সক্রিয় রয়েছে রাজস্থান, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের উপর।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী