গুরুত্বপূর্ণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিসহ বহুমুখী আলোচনা
- আপলোড তারিখঃ
২৬-০৯-২০১৯
ইং
চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো কেস কো-অর্ডিনেশন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
বিশেষ প্রতিবেদক:
সারা দেশের ১০টি জেলায় প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া ‘কেস কো-অর্ডিনেশন কমিটি’ গঠন ও মাসিক সভা শুরু হয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলাতেও। ইতিমধ্যে জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা প্রশাসককে যুগ্ম সভাপতি করে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় জেলা ও দায়রা জজের সম্মেলনকক্ষে কমিটির প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ মোহা. রবিউল ইসলাম। জেলা কেস কো-অর্ডিনেশন কমিটির সদস্যসচিব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীনের পরিচালনায় সভায় আলোচ্য বিষয়ের ওপর বক্তব্য দেন কমিটির যুগ্ম সভাপতি ও জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়কের প্রতিনিধি সুবেদার মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামীম কবির, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার শামসুজ্জামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মোল্লা আব্দুর রশিদ, অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. আবুল বাশার, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিয়ত উল্লাহ, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সন্তোষ কুমার নাথ, জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট কামরুল ইসলাম ও জেল সুপার নজরুল ইসলাম।
কমিটির প্রথম সভায় ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণ এবং সে আলোকে স্থানীয়ভাবে তার সমাধান, দীর্ঘমেয়াদি পেন্ডিং মামলাসমূহ পর্যালোচনা করে দ্রুত নিষ্পত্তি, মামলা নিষ্পত্তির অগ্রগতি ত্বরান্বিত, বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটক কারাবন্দীদের আইনের আলোকে মুক্তির পদক্ষেপ গ্রহণসহ ১৯টি বিষয়ের ওপর আলোচনা করা হয়।
এগুলো হলো ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার কার্যকর সমন্বয় সাধন, কারাগারসমূহের ব্যবস্থাপনা মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান, সংশ্লিষ্ট কারাবন্দীদের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর পরিবারের নিকট খবরাখবর পৌঁছানো এবং প্রয়োজনে ভিডিওকলের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন, কারাবন্দীদের জেল থেকে মুক্তির পর পরিবার ও সমাজে সম্পৃক্তকরণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান ও তদারকির ব্যবস্থাকরণ, পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কারাবন্দীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, জীবনমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থিক ঋণের ব্যবস্থা করা, জামিনে মুক্ত আসামি যেন ওই একই অপরাধে পুনরায় জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য তাঁদের পেশার প্রতি নজরদারি-তদারকি বৃদ্ধি করাসহ সমাজের সব মহলের সহযোগিতা বৃদ্ধি, মাদকের প্রতি আসক্তি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা, ভালো ব্যবহারের প্রতি আকর্ষণীয় করে তোলা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্তকরণ, কারাবন্দীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা প্রদানের মাধ্যমে আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি এবং আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলে তাঁকে সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিভিন্ন উপায় গ্রহণ, আদালতে আসামি ও সাক্ষীদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ।
কমেন্ট বক্স