মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চিকিৎসাসেবা ব্যাহত, ১৮টি পদই শূন্য!

  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০৯-২০১৯ ইং
চিকিৎসাসেবা ব্যাহত, ১৮টি পদই শূন্য!
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে বাড়ছে রোগী, জনবল-সংকট ঝিনাইদহ অফিস: রোগীর চাপে স্বাস্থ্যসচিবের নিজের জেলা সদরের হাসপাতালে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ১০০ বেডের হাসপাতালে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৪২০ জন রোগী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের না পারছে কোনো বেড দিতে, না পারছে খাবার দিতে। খাবার না পেয়ে রোগীরা প্রায় প্রতিদিন হৈচৈ করছে। এদিকে, বহির্বিভাগে বাড়ছে রোগীর অসহ্য চাপ। গতকাল বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ২৫৯ জন রোগী। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ করে বাড়ি ফিরে গেছে ৮৫ জন। হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে গতকাল বুধবার অপ্রতুল চিকিৎসা ব্যবস্থার এ নাজুক চিত্র দেখা গেছে। হাসপাতালের সাধারণ বেড ও কেবিন ছাড়াও মেঝে, বারান্দা এবং সিঁড়িঘরে বিছানা পেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা। রোগী আর স্বজনদের আনাগোনায় তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই হাসপাতালের কোথাও। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর এ ধরনের রোগীর চাপ এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলে মনে করছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে সাধারণ বেড রয়েছে ৭০টি। পেয়িং বেড এবং কেবিন রয়েছে আরও ৩০টি। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত দেখা গেছে, ৯টি মহিলা মেডিসিন বেডের বিপরীতে ভর্তি হয়েছেন ৮৭ জন, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ৯টি বেডের বিপরীতে ৩৬ জন, ৮টি শিশু বেডের বিপরীতে ১১৯ জন শিশু, ৫টি ইওসি বেডের বিপরীতে ৮৪ জন গর্ভবতী নারী, ৬টি ডাইরিয়া বেডের বিপরীতে ২০ জন, পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ১৫টি বেডের বিপরীতে ৩৯ জন এবং পুরুষ সার্জারি বিভাগে ১৮টি বেডের বিপরীতে ৭১ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত নার্সিং সুপারভাইজার আরতি রায় জানান, ‘নার্স-সংকটের মধ্যে এত রোগীর চাপে আমরা হাঁপিয়ে উঠছি। সুুষ্ঠু সেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শত শত নতুন রোগীর চাপে চিকিৎসক ও নার্সদের মন-মানসিকতা স্বাভাবিক থাকছে না বলে আমাদের নার্সদের অনেকেই মনে করেন।’ নার্সদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন নার্সিং সুপারভাইজারের পদ খালি। ভারপ্রাপ্ত দিয়ে এ পদ চালানো হচ্ছে। সেবা তত্ত্বাবধায়কের পদ খালি থাকায় নার্সরা ছুটি নিতে এখানে-সেখানে দৌড়াদৌড়ি করেন। হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জানান, ৪০ জন চিকিৎসকের মধ্যে হাসপাতালে ২২টি পদে ডাক্তার রয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। বাকি পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকছে। তিনি বলেন, আউটডোর ও ইনডোরে রোগীর এ ভয়াবহ চাপে হাসপাতালে কর্মরত প্রায় সবাই নাকাল। আড়াই শ বেডের বিল্ডিং হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত এ বেহাল দশা ভোগ করতে হবে বলে চিকিৎসক ও নার্সরা মনে করনে। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আইয়ুব আলী জানান, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটি মাত্র পথ হচ্ছে শূন্য পদে অতিসত্বর নিয়োগ ও নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে হস্তান্তর করা। তা না হলে রোগীদের এ চাপ সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। উল্লেখ্য, বর্তমান স্বাস্থ্যসচিব মো. আসাদুল ইসলামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুর গ্রামে। তাই অনেকেই স্বাস্থ্যসচিবের নিজ জেলার নাজুক স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলো চালু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী