মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ভেঙেই গেল জাতীয় পার্টি

  • আপলোড তারিখঃ ০৬-০৯-২০১৯ ইং
ভেঙেই গেল জাতীয় পার্টি
সমীকরণ প্রতিবেদন: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর দেড় মাসের মাথায় ভেঙে গেল জাতীয় পার্টি। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করে দলের একটি অংশ। দুপুর ১২টার দিকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ রওশন এরশাদের গুলশানের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। এ সময় ব্যারিস্টার আনিসের পাশে রওশন এরশাদ বসা ছিলেন। আনিসুল ইসলাম মাহমুদের ঘোষণায় রাঙ্গাকে মহাসচিব রাখার কথা বলা হয়। দুই অংশেই মহাসচিব থাকা মসিউর রহমান রাঙ্গাকে অবশ্য গতকাল রওশন এরশাদের বাসায় কিংবা বনানী পার্টি অফিসে দেখা যায়নি। এর আগে এরশাদের মৃত্যুর পর গত ১৮ জুলাই জি এম কাদেরকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান করা হয়। মসিউর রহমান রাঙ্গা এ ঘোষণা দেন। অবশ্য এরশাদ জীবিত থাকাকালীন তিনি নিজেই সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘আমার অবর্তমানে পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন জি এম কাদের।’ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যারিস্টার আনিসের এমন ঘোষণা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে রওশন এরশাদ বলেন, ‘পার্টিতে কী হচ্ছে? জাপা অতীতেও ভাগ হয়েছে, এবারও কি সেটি হচ্ছে নাকি? হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এত কষ্ট করে পার্টি গড়ে তুলেছেন, এখন সেই পার্টিটা ভালোভাবে চলুক, মান-অভিমান ভুলে যারা চলে গেছেন, তারা ফিরে আসুক। আমি চাই পার্টির সবাই মিলেমিশে জনগণের সেবা করবেন।’ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, রওশন এরশাদ পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাউন্সিল করে গণতান্ত্রিক উপায়ে স্থায়ী চেয়ারম্যান ঠিক করব। তিনি অভিযোগ করেন, জি এম কাদের জাতীয় পার্টির ‘গঠনতন্ত্র ভেঙে’ চেয়ারম্যান হয়েছেন। যে প্রক্রিয়ায় তিনি নিজেকে পার্টির চেয়ারম্যান দাবি করেছেন তাতে গলদ রয়েছে। তবে জি এম কাদেরকে কো- চেয়ারম্যানের সম্মান দেবেন রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, জি এম কাদের পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠনে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছেন। এতে স্পষ্ট বলা আছে, চেয়ারম্যান, মহাসচিবের বাইরে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ৭ সদস্য থাকবে। তিনি যা করেছেন, সবই অবৈধ। এরশাদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণে আমরা এ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করিনি। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে জি এম কাদের দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করেন। এতে দলে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে বেগম রওশন এরশাদ ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ছাড়াও সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মজিবুল হক চুন্নু, ফখরুল ইমাম, সেলিম ওসমান, লিয়াকত হোসেন খোকা ও গোলাম কিবরিয়া টিপু। প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, ফয়সল চিশতী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, খালেদ আখতার ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু। শফিকুল ইসলাম সেন্টু মিছিল নিয়ে এতে অংশ নেন। সাংবাদিক সম্মেলন চলাকালেই এক পক্ষ রওশনের পক্ষে স্লোগান দেয়। এ সময় ছাত্র সমাজের নেতা-কর্মীরাও দল না ভাঙার পক্ষে স্লোগান দেন রওশনের বাসার সামনে। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে : রওশন এরশাদের সংবাদ সম্মেলন শেষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের প্রতিক্রিয়া জানতে বনানীর কার্যালয়ে গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। দলের প্রেসিডিয়াম সভাও এতে সমর্থন দিয়েছে। জি এম কাদের বলেন, এরশাদ পতœী রওশনকে তিনি ‘মায়ের মতো’ সম্মান করেন। রওশন এরশাদ নিজ মুখে তো আর বলেননি তিনি চেয়ারম্যান। আশা করি, তিনি এমন কিছু করবেন না, যাতে তার সম্মান নষ্ট হয়। তার (রওশন এরশাদ) কতটুকু সমর্থন রয়েছে তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী