মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তা

  • আপলোড তারিখঃ ০১-০৯-২০১৯ ইং
রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তা
আসামে নাগরিক তালিকা থেকে ১৯ লাখ বাদ সমীকরণ প্রতিবেদক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন) থেকে ১৯ লাখেরও বেশি মানুষের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় অনলাইন ও এনআরসি সেবাকেন্দ্রে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। বাদপড়ারা আগামী ১২০ দিনের মধ্যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবে। আসাম সরকার জানিয়েছে, বাদপড়াদের এখনই বিদেশি বলে ঘোষণা করা হবে না অথবা গ্রেপ্তার করা হবে না। খবর বিবিসি, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, এএফপি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও রয়টার্সের। তালিকা প্রকাশ নিয়ে এনআরসি কর্তৃপক্ষ টুইটারে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে এনআরসির রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা জানান, এনআরসিতে আসামের তিন কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার চারজন অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এ তালিকায় ১৯ লাখ ছয় হাজার ৬৫৭ জন স্থান পায়নি। গত বছর প্রকাশিত খসড়া এনআরসি তালিকায় প্রায় ৪১ লাখ লোকের নাম বাদ পড়েছিল। এর মধ্যে প্রায় চার লাখ মানুষ এ তালিকায় নাম তোলার জন্য পুনর্বিবেচনার আবেদন করেনি। এ চার লাখসহ ১৯ লাখ মানুষের নাম এবার বাদ পড়েছে। তালিকা প্রকাশের ১২০ দিনের মধ্যে বিদেশি ট্রাইব্যুনালে বাদপড়াদের আবেদন করতে হবে। ট্রাইব্যুনাল বিদেশি বলে রায় দিলে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে আবেদন জানানো যাবে। ১৯৫১ সালের পর পরিচালিত প্রথম আদমশুমারির মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ধাপে এক কোটি ৯০ লাখ অধিবাসীকে নাগরিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ২০১৮ সালের জুনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা তিন কোটি ২৯ লাখ অধিবাসীর মধ্যে দুই কোটি ৮৯ লাখকে সংশোধিত নাগরিকত্ব তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সে সময় এ রাজ্যের ৪০ লাখ সাত হাজার ৭০৭ জন তালিকায় স্থান পায়নি। তাদের অধিকাংশই বাংলা ভাষাভাষী কিংবা মুসলমান ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এ বছর জুনে তালিকায় আরেক দফা সংশোধনী আনা হয়। ২০১৮ সালে সংশোধিত তালিকায় স্থান পাওয়াদের মধ্যে থেকে এক লাখেরও বেশি মানুষকে বহিষ্কার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সব মিলে বাদপড়া ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনটিকে ঘিরে উদ্বিগ্ন ছিলেন। খসড়া তালিকায় স্থান পাওয়া দুই কোটি ৮৯ লাখ মানুষের মধ্যে দুই লাখের স্থান পাওয়া নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। এনআরসি থেকে বিপুলসংখ্যক বাঙালি হিন্দুদের বাদপড়ায় বিজেপি নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহে আসামের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, কেন্দ্র সরকার নতুন আইনের কথা বিবেচনা করছে। যাতে তালিকায় স্থান পাওয়া বিদেশিদের বাদ দেয়া এবং বাদপড়া সত্যিকার নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়। গত শুক্রবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়াল জানান, এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদপড়া বাসিন্দারা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। তিনি বলেন, আসাম সরকার বাদপড়াদের দেখভাল করবে এবং যাতে তারা হয়রানির শিকার না হয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যতক্ষণ আপিল চলবে ততক্ষণ কাউকে বিদেশি বলা যাবে না। কারণ কাউকে বিদেশি বলার এখতিয়ার শুধু ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা থেকে বাদপড়াদের বিদেশি ঘোষণা করা যাবে না। বাদপড়া ব্যক্তি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদনের সময়সীমা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে। এদিকে, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ঘিরে রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। গুয়াহাটিসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে ১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো আধাসামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত ৫১ কোম্পানি সেনা মোতায়েন করে আসাম সরকার। ৬০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং কেন্দ্র থেকে আসামে আরও ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য পাঠানো হয়। গত শুক্রবার আসাম পুলিশের মহাপরিদর্শক কুলাধান শৈকিয়া জানান, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ সামনে রেখে রাজ্যে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (সিএপিএফ) অতিরিক্ত ৫১ কোম্পানি সেনা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এনআরসি তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে আসামে কয়েকদিন ধরে মানুষজনের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা কাজ করে। আর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজ্য সরকারও নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে। রাজধানী গুয়াহাটিসহ সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তবে স্বাভাবিক জনজীবনের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। বঙ্গাইগাঁও জেলার বাসিন্দা স¤্রাট ভাওয়ালের নাম অবশেষে নাগরিকপঞ্জিতে উঠেছে। খসড়া তালিকায় তার ও স্ত্রীর নাম ছিল না। ভাওয়াল বলেন, শেষপর্যন্ত ভারতের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পেলাম। ভালোই লাগছে, স্ত্রীরও নাম এসেছে। কিন্তু আমার কাকার নাম আসেনি, অথচ তার স্ত্রী ও এক মেয়ের নাম তালিকায় এসেছে। নাসিরুদ্দিন চৌধুরী নামের এক আবেদনকারী বলেন, আমার সাত বছরের মেয়ে নাজমিন ও আট বছরের ভাতিজা মাসুম তালিকায় ছিল। এবারও তাদের নাম রয়েছে। তবে এ তালিকা প্রকাশের আগে আমরা আতঙ্কিত ছিলাম, এখন বেশ স্বস্তিতে আছি। এনআরসি সেবাকেন্দ্রের কর্মী রেখা রাজবংশী বলেন, ২০১৫ সাল থেকে কাজ করছি। আগের খসড়াগুলোতে আমার পরিবারের সবার নাম ছিল কিন্তু আমার নাম ছিল না। এবার তালিকায় আমার নাম পেয়েছি। খুব স্বস্তি লাগছে। ৩৭ বছরের মনসুর আলী তালিকা দেখে যাওয়ার পর পুনরায় সেবাকেন্দ্রে এসেছেন। কেন পুনরায় এসেছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার নাম তালিকায় আছে। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি আবার এসেছি। এনআরসিতে বাদপড়াদের কী হবে?: অনলাইনে প্রকাশ করা বা সেবাকেন্দ্রে ঝুলিয়ে দেয়া তালিকায় যাদের নাম থাকবে না তাদের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশিদের জন্য বন্দিশিবিরে (ডিটেনশন সেন্টার) যেতে হবে না। অথবা অন্য দেশে ‘পুশব্যাক’ করা হবে না। আসাম সরকার বলেছে- নানা নথিপত্র পেশ করেও যারা নিজেদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারেননি, তাদের ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে’ আবেদন করার সুযোগ থাকবে। আসামজুড়ে এ ধরনের প্রায় ১০০টি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও ১০০টি চালু করা হবে। মাসকয়েকের মধ্যে হাজারখানেক ট্রাইব্যুনালে এ ‘চিহ্নিত’ বিদেশিদের আবেদনের শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালেও আবেদন ব্যর্থ হলে তাদের সুযোগ থাকবে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার। আসামে নাগরিক তালিকা প্রকাশের পর সিলেট সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি: আসামের এনআরসি তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী থানা এলাকাগুলোতে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশও সতর্ক রয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বসবাসকারীদের বিজিবির পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, আসামের এনআরসি নিয়ে সীমান্তে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। সীমান্ত এলাকা কিংবা চোরাইপথে বিএসএফ (ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী) বাদপড়াদের সীমান্ত দিয়ে যাতে পুশইন করতে না পারে সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী