১০ লাখ টাকা হাতিয়ে কর্মকর্তারা উধাও!
- আপলোড তারিখঃ
২১-০৮-২০১৯
ইং
জীবননগরে স্মার্ট হেলথ সার্ভিস নামের ভুয়া চিকিৎসা কেন্দ্র
জীবননগর অফিস:
জীবননগরে চিকিৎসাসেবার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও চাকরি দেওয়ার নাম করে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন স্মার্ট হেলথ সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, শশী সমাজ সমাজকল্যাণ সংস্থার সহযোগিতা ও প্রাইম সমাজকল্যাণ সংস্থার নাম ব্যবহার করে জীবননগর পৌর শহরের মহানগর উত্তর পাড়ায় সাবেক মেম্বার মগু মিয়ার বাড়ি ভাড়া নিয়ে গড়ে ওঠে স্মার্ট হেলথ সার্ভিস নামের একটি ভুয়া চিকিৎসা কেন্দ্র। প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের ফ্রি চিকিৎসাসেবা প্রদান করলেও পরবর্তীতে প্রতি রোগীর নিকট থেকে ৩ শ থেকে ৪ শ টাকা করে নেওয়া হয়। সাধারণ রোগীদের বোকা বানিয়ে কয়েক মাস বিভিন্ন অখ্যাত কোম্পানির ওষুধ মিডফোর্ড থেকে ক্রয় করে তাদের মধ্যে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে এ সংস্থাটির বিরুদ্ধে।
এদিকে, বেকার যুবক ও যুবতীদের মোটা অঙ্কের বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ২০ জনের নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছেন স্মার্ট হেলথ সার্ভিস সেন্টারের কর্মকর্তারা।
উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মেদিনীপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করে বলেন, ‘স্মার্ট হেলথ সার্ভিসের লোকজন আমাদের গ্রামে এসে মোটা অঙ্কের বেতন দেওয়ার কথা বলে চাকরির জামানত হিসেবে ২০ হাজার টাকা জমা রাখেন এবং বলেন প্রতিটি রোগীদের নিকট থেকে কার্ডের দাম হিসেবে ৩ শ টাকা করে নিতে হবে। এই কার্ডধারীকে এক বছর ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হবে। তা ছাড়া চাকরিতে যোগদানের সময় তাঁরা বলেন, বেতন দেওয়া হবে সাত হাজার টাকা করে, কিন্তু দুই মাস পার হলেও বেতন পাননি কেউ। হঠাৎ দেখি তাঁদের অফিসে তালা মারা রয়েছে। তাঁদের ফোন দিলে বলেন, বিশেষ কাজে অফিস বন্ধ রয়েছে, খুব শিগগিরই আসব। কিন্তু তাঁদের কোনো খোঁজ নেই।’ একই অভিযোগ করেন আশানুর রহমান ও শিমা নামের দুজন ভুক্তভোগী।
জীবননগরে কর্মরত স্মার্ট হেলথ সার্ভিসের সুপারভাইজার কামাল হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও চাকরির জন্য আলমগীর নামের এক দালালের নিকট ২৬ হাজার টাকা দিয়েছি। সেই টাকা এখনো ফেরত পাইনি, তিনি আমাকেও ঘুরিয়ে যাচ্ছেন।’ এ বিষয়ে আলমগীরের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি এ কোম্পানির সঙ্গে জড়িত নই, যাঁরা এ অভিযোগ করেছেন, তাঁদের কথা ঠিক নয়। এ কোম্পানির মালিক শামীম ও সবুজ। তবে যাঁরা টাকা দিয়েছেন, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আমি চেষ্টা করছি।’
এ ব্যাপারে স্মার্ট হেলথ সার্ভিসের পরিচালক শামীমের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, জীবননগরে যে শাখাটি খোলা হয়েছিল, সেখানকার সুপারভাইজার কোনো হিসাবপত্র না দেওয়ায় শাখাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে যাঁরা জামানত দিয়েছেন, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
কমেন্ট বক্স