ঈদের ছুটি কাটিয়ে ফের অফিস-আদালতপাড়ায় ভিড়
- আপলোড তারিখঃ
১৯-০৮-২০১৯
ইং
জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় ঈদোত্তর শুভেচ্ছাবিনিময় করলেন ডিসি গোপাল চন্দ্র দাস
বিশেষ প্রতিবেদক:
মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহার লম্বা ছুটি শেষ হয়েছে গত শনিবার। পবিত্র ঈদুল আজহার তিন দিন ছুটি, শুক্রবার ও শনিবার সাধারণ ছুটি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাহী আদেশে মঞ্জুরি ছুটি মিলে এবার টানা ছয় দিনের ছুটি মিলেছে। আগামী ২৪ আগস্ট শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন অফিস করার শর্তে ১১ আগস্ট ছুটি ঘোষণা করা হয়। ১৪ আগস্ট এক দিনের জন্য অফিস করতে হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের; তবে এদিন উপস্থিতির সংখ্যা ছিল খুবই কম। পরদিন ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির কারণে অনেকেরই ফিরতে হয়েছে কর্মস্থলে। বলা যায়, ঈদের ছুটির পর গতকাল রোববার ছিল অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবীদের প্রথম দিন। তাই এদিন সবাই ছিলেন ঈদের আমেজে। ছোটখাটো কাজ ছাড়া সবাই শুভেচ্ছা আর কুশল বিনিময়ে পার করেছেন অফিসের কর্মব্যস্ত দিনটি। ১২ আগস্ট ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে মুসলমানেরা নিজেদের ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করেছেন। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন ঈদের আনন্দ।
দেখা যায়, গতকাল রোববার সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ রাষ্ট্রায়ত্ব ও স্বায়ত্তশাসিত ব্যাংক-বীমা অফিসগুলোয় কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি ঈদের শুভেচ্ছাবিনিময় করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁরা কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি খোশ মেজাজে কাটিয়েছেন দিনটি। এদিন আদালতে বিচারিক কার্যক্রমসহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অভ্যন্তরীণ সভাও হয়েছে। সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ মোহা. রবিউল ইসলাম এজলাসে বসার আগে অন্য বিচারক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছাবিনময় করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়া হায়দার, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম নুরুল ইসলাম, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য আদালতের বিচারক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশলবিনিময় করেন।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস এবার তাঁর কর্মস্থলের মানুষদের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করেছেন। যে কারণে ঈদের দিন থেকেই জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার সঙ্গে তাঁর শুভেচ্ছাবিনিময় অব্যাহত ছিল। গতকাল রোববার দিনের প্রথম কর্মদিবসে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় মিলিত হন জেলা প্রশাসক। সভায় অংশগ্রহণকারী সবার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছাবিনিময় করেন তিনি। গতকাল থেকে অফিস করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীনসহ অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
ঈদের পর পুরোদমে গতকালই ব্যাংকগুলোতে লেনদেন শুরু হয়েছে। এ কারণে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়ে। ব্যাংকের অন্যান্য কার্যক্রমের মতো নগদ টাকা উত্তোলন ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে ব্যাংকে এসেছেন তাঁরা। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ব্যাংকগুলোতে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরকারি হিসাব মতে, ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তারপরও চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য ও ব্যস্ততা এখনো অনুপস্থিত। এ আমেজ কাটতে সময় লাগবে আরও কয়েক দিন। ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও প্রথম দিন গ্রাহকদের ভিড় বেশি। এবার ঈদের ছুটি টানা ৯ দিন থাকায় বেশির ভাগ কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।
এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংক চুয়াডাঙ্গা প্রিন্সিপাল অফিস সূত্র জানায়, ঈদের ছুটির আমেজ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তারপর দীর্ঘ ছুটি থাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় চাপ ছিল অনেক বেশি। গতকাল যেসব গ্রাহক এসেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই নগদ টাকা তুলেছেন। আবার অনেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে এসেছেন। কেউ কেউ টাকা জমা দিয়েছেন এবং অন্যত্র পাঠিয়েছেন।
শফিকুল নামের একজন গ্রাহক জানান, ‘কোরবানির পশু কেনাসহ বিভিন্ন খরচ করে নগদ টাকা শেষ। তাই কিছু প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে এসেছি। আজকে অন্যান্য দিনের তুলনায় ভিড় কম বলে সময়ও কম লাগছে।’ আব্দুর রাজ্জাক নামের এক মুদি ব্যবসায়ী জানান, ঈদ উপলক্ষে বেচা-কেনার চাপে তিনি টাকা জমা দিতে পারেননি। এরপর আবার ঈদের আগে-পরে ক্যাশে অনেক নগদ টাকা জমা হয়ে গেছে। যে কারণে রোববার ভিড় কাটিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ঈদের ছুটিতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চালু থাকায় রোগীরা স্বাভাবিকভাবেই সেবা পেয়েছেন। এ ছাড়া গতকাল বহির্বিভাগের সব চিকিৎসক সকাল নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত রোগী দেখেছেন। তবে রোগীদের তেমন একটা চাপ ছিল না।
অপর দিকে, ঈদের ছুটি শেষে গতকাল পুরোদমে শুরু হয়েছে চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম। সকাল থেকে অফিসে নতুন-পুনঃ প্রদান পাসপোর্ট আবেদনকারীদের ভিড় চোখে পড়ে। এ ছাড়া বিতরণকক্ষের সামনে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের লম্বা সারি দেখা যায়। তবে ছুটি কাটিয়ে সব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থাকায় চাপ সামলাতে বেশি বেগ পেতে হয়নি বলে জানান অফিসের সহকারী পরিচালক রুবাইয়াত ফেরদৌস।
কমেন্ট বক্স