আরো ও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু
- আপলোড তারিখঃ
০৬-০৮-২০১৯
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদন:
চলতি আগস্ট মাসে আরো ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। পুরো জুলাই মাসে সারা দেশে ১৬ হাজার ২২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আর অগাস্ট মাসের প্রথম ৫ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৯৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০৬৫ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাত্ প্রতি ঘণ্টায় ৮৬ জনেরও বেশি নারী, পুরুষ ও শিশু ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। গতকাল মারা গেছেন আবহাওয়াবিদের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ ৭ জন। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চিকিত্সা সেবা নিয়ে টেনশনে রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনিতে সরকারি হাসপাতাল-গুলোতে চাহিদার তিন গুন চিকিৎসক সঙ্কট। তার ওপর ডেঙ্গু রোগীর ভয়াবহ চাপ। এডিস মশার প্রকোপ না কমলে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপও কমবে না বলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেন, হাসপাতালে পরীক্ষা করতে আসা ৬০ ভাগ রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নন। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় ব্যবহারের জন্য মশার ওষুধের নমুনা বিদেশ থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নমুনাগুলো ঢাকায় এসে পৌঁছায়।
কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ ডেঙ্গু প্রতিরোধে কীটনাশক প্রয়োগের চেয়ে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। গতকাল সোমবার দুপুর পৌণে তিনটায় রাজধানীর গুলশানস্থ নগর ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এ গুরুত্ব আরোপ করেন। কলকাতা থেকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, কলকাতা পৌরসভা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে প্রতিরোধ ও প্রতিকার এ দু’টি ভাগে বিভক্ত করেছে। কলকাতা পৌরসভা ২০০৯ সাল থেকে ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে তিন স্তর বিশিষ্ট মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়ার্ড, বরো ও হেড কোয়ার্টার এ তিন পর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কলকাতায় সারা বছর ধরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মনিটরিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলেও তিনি জানান।
অতীন ঘোষ বলেন, ‘মশারে করো উেস বিনাশ’ এই স্লোগান নিয়ে বাসা-বাড়ি কিংবা উন্মুক্ত জলাশয় যেখানেই এডিস মশার প্রজননস্থল পাওয়া যায়, তা ধ্বংস করা হয়। ঢাকার কোন কোন এলাকা ডেঙ্গু প্রবণ তা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণেরও পরামর্শ দেন তিনি। অতীন ঘোষ বলেন, প্রয়োজনভিত্তিক কৌশলী হতে হবে। কলকাতা পৌরসভা ৯ বছর যাবত অবকাঠামোভিত্তিক লড়াই চালিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিনি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। কলকাতার ডেপুটি মেয়র জানান, কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে ফগার মেশিনের সাহায্যে ধোঁয়া প্রয়োগ কার্যকরী হলেও এডিস মশা দমনে এর কার্যকারিতা কম। এডিস মশা দমনে উেস নির্মূল করা এবং জনসচেতনতা তৈরি করারও বিকল্প নেই বলে অতীন ঘোষ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে আইন পরিবর্ধন করে শাস্তির পরিমান বাড়ানো হয়েছে। ফলে মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন। ডিএনসিসি মেয়র কলকাতার ডেপুটি মেয়রকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকের এই কনফারেন্স থেকে আমাদের অনেক ‘নলেজ শেয়ারিং’ হলো। কলকাতার অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাতে পারবো। কলকাতার সঙ্গে এ ধরণের ‘নলেজ শেয়ারিং’ এটি প্রথম হলেও শেষ নয়। ভবিষ্যতে দুই শহরের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
কমেন্ট বক্স