দেশ ও মানুষের উন্নয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্য প্রয়োজন -এমপি ছেলুন
- আপলোড তারিখঃ
০৬-০৮-২০১৯
ইং
নানা আয়োজনে নাটুদাহ আটকবরে বিন¤্র শ্রদ্ধায় চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় শহীদ দিবস পালিত
দর্শনা অফিস:
নানা আয়োজনে চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় শহীদ দিবস গতকাল সোমবার পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৫ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সমরে চুয়াডাঙ্গার আটজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। দিবসটি উপলক্ষে জগন্নাথপুরে আট শহীদের সমাধি (আটকবর) চত্বরে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলগুলো নানা কর্মসূচি পালন করে। এ ছাড়াও চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগ ও জেলা ছাত্রলীগের নেতারা শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
গতকাল সকাল নয়টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস ও চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম। মুক্তিযোদ্ধা পতাকা উত্তোলন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা খান ও আলী আজগর। পতাকা উত্তোলন শেষে সাংসদ সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএমের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপ্তিময়ী জামানের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আট শহীদের বেদীতে ফুল দিয়ে বিন¤্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। পরে জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে ৫ আগস্ট স্থানীয় শহীদ দিবসের এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন।
সভাপতির বক্তব্যে সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ঐক্য ছাড়া দেশে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে হলেও মুক্তিযুদ্ধের ঐক্য প্রয়োজন। দেশ ও মানুষের উন্নয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্য প্রয়োজন। তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আদর্শের কথা তুলে ধরুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আটকবরে যে আট শহীদ রয়েছেন, তাঁরা আমার সন্তান, তাঁরা আমার ভাই, তাঁরা আমার সহযোদ্ধা। সে দিন ৫ আগস্টে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ষড়যন্ত্র করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল এক শ্রেণির রাজাকার, আলবদর, আলসামস, আজকেও ঠিক তেমনি ওই রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসের দল মাথা চাড়া দিচ্ছে। তারা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’
আলোচনা সভায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কমেন্ট বক্স