জাতীয়করণের দাবি, দেড় মাসেও মেলেনি আশ্বাস
- আপলোড তারিখঃ
৩০-০৭-২০১৯
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদন:
দুইদিন করে গত দেড় মাস ধরে রাজপথে অবস্থান করছেন শিক্ষকরা। একটাই দাবি— বঞ্চিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করা হোক। কিন্তু দীর্ঘ সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান, প্রতীকী অনশন, অনশন এবং আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা পায়নি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আর লম্বা একটি সময় রাজপথে থেকে শিক্ষকরাও মানসিক দৃঢ়তা হারিয়েছেন। এখন প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। শিক্ষকরা বলছেন, জাতীয়করণের ‘আশ্বাসের আশায়’ এতদিন তারা কর্মসূচি পালন করছেন। শেষ ভরসা প্রধানমন্ত্রী। তাই তার আশ্বাসের আসায় এখনো কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। শিক্ষকদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে চলমান ডেঙ্গুর আতঙ্ক নিয়েই আন্দোলন চলছে। গত ৪৪ দিনের এই আন্দোলনে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসুস্থের সংখ্যা। ডেঙ্গুতেও আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। আবার আন্দোলনে অংশ নিয়ে মৃত্যুবরণের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ নেয়া হয়নি। এতে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন শিক্ষকরা। এমনকি ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।
জানা যায়, জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে গত ১৬ জুন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে গতকাল সোমবার পর্যন্ত অসুস্থ হয়েছেন ২৬৭ জন শিক্ষক। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন। এর মধ্যে আন্দোলনে অংশ নেয়া জাকির হোসেন মল্লিক (৪০) নামের একজন সহকারী শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেছেন। ওই মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিনের কর্মসূচিও পালন করা হয়। এদিকে আন্দোলনের শুরু থেকেই অংশ নেন অনেক নারী শিক্ষক। তাদের সাথে থাকা শিশু সন্তানও শিশুরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এদিকে যুক্তরাজ্যে সরকারি সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৫ আগস্ট দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। আর শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর ফিরে আসার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, তিনি দেশে ফিরেই বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়টি ভেবে দেখবেন। আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, জাতীয়করণের দাবিতে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে গত দেড়মাস রাস্তায় বসে আন্দোলন করছি। খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় দিন-রাত পার হচ্ছে। বৃষ্টি এলে ভিজে যাচ্ছি, সেই ভেজা কাপড়েই থাকতে হচ্ছে, তার ওপর ডেঙ্গুর প্রভাব। এতে আমাদের অনেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। একজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। আর কত প্রাণ গেলে সরকার আমাদের সামাজিক মর্যাদার স্বীকৃতি দেবেন?
জানা যায়, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। শিক্ষকদের দাবি, জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়গুলোর যথাযথ পরিসংখ্যান না হওয়ায় জাতীয়করণ যোগ্য আরও ৪ হাজার ১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হতে বঞ্চিত হয়। জাতীয়করণকালীন পাঠদানের অনুমতি ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন-ভাতা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ছাত্র-ছাত্রীরাও উপবৃত্তি টিফিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ জন্য জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে বারবার মাঠে নেমেছেন তারা। এর আগে সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে জাতির পিতার মতো আরও একটি ইতিহাস রচনা করেছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, জাতীয়করণের সমস্ত যোগ্যতা থাকার পরও কিছু সংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কর্মরত শিক্ষকরা জাতীয়করণ হতে বঞ্চিত হয়। তৃতীয়ত ধাপের বিদ্যালয়সমূহের ক্ষেত্রে ২০১২ সালের ২ মে’র পূর্বে স্থাপিত ও পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদনকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় উল্লিখিত তৃতীয় ধাপের বিদ্যালয়গুলোর সমপর্যায়ে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন কিছু কর্মকর্তা কর্মস্থলে না থাকায়, সকল শর্ত পূরণ করার পরও বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। শিক্ষকরা বলছেন, জাতীয়করণকালীন পাঠদানের অনুমতি ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করায় আমরা বেতন-ভাতা সুবিধা ও ছাত্র-ছাত্রী উপবৃত্তি, টিফিন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি। আমাদের দাবিকৃত বিদ্যালয়সমূহ ধারাবাহিকভাবে ২০০৯-২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে। এছাড়া ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের তালিকার বাইরে পার্বত্য অঞ্চলের ইউএনডিপি পরিচালিত ২১০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় জাতীয়করণ করেন।
বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাাদক আ স ম জাফর ইকবাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাসটুকুও দেয়া হয়নি। গত বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। এ আশ্বাসটুকু শিক্ষকদের সামনে এসে বলার প্রস্তাব করলে তাতে রাজি হননি তিনি। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. কামাল হোসেন বলেন, গত রোববার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব বিপ্লব বড়ুয়া আমাদের ডেকেছিলেন। তিনি গতকাল সোমবার আন্দোলনকারী শিক্ষকদের মাঝে উপস্থিত হয়ে দাবি পূরণের আশ্বাস দেবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু গতকাল (সোমবার) বিকাল পর্যন্ত তিনি আসেননি।
কমেন্ট বক্স