সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চার লাখ ইবতেদায়ি পরীক্ষার্থী দুশ্চিন্তায়

  • আপলোড তারিখঃ ২৯-০৭-২০১৯ ইং
চার লাখ ইবতেদায়ি পরীক্ষার্থী দুশ্চিন্তায়
সমীকরণ প্রতিবেদন: মাদ্রাসাসমূহের ইবতেদায়ি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সমাপনী পরীক্ষা দিতে পারবে কি না এনিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) আলোকে পরিচালিত হয়ে আসছে এই মাদ্রাসাগুলো। বাংলাদেশে এ জাতীয় সহ¯্রাধিক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ও আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বলে দাবি করছে প্রাইভেট মাদ্রাসাসমূহের পরিচালক ও শিক্ষকরা। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে করছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১১ সাল থেকে চালু হওয়া ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এ সকল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের তত্ত্বাবধানে শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছিল। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভও করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৯ এ অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম যথারীতি সম্পন্ন হয়েছে। গত মে মাসের ২৯ তারিখ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত চিঠি যার স্মারকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়। গত ১৩ জুন ২০১৯ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সকল উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অননুমোদিত মাদ্রাসাসমূহের শিক্ষার্থীরদের নিজ নিজ মাদ্রাসার নামে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে করে প্রাইভেট মাদ্রাসাসমূহের চার লাখ শিক্ষার্থী নিজ নিজ মাদ্রাসার নামে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। এদিকে মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না। তারা যেকোনো মাদ্রাসার নামে পরীক্ষা দিতে পারবে। প্রাইভেট মাদ্রাসাগুলো যেন সরকারের নিবন্ধিত হয়ে কাজ করে সে কারণেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রাইভেট মাদ্রাসমূহের প্রধান শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, একই ধারায় এ দেশের অসংখ্য কিন্ডার গার্টেন তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে। যাদের বিষয়ে অনুরূপ কোনো প্রকার বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। তাহলে ইবতেদায়ি শিক্ষার্থীরা নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে পরীক্ষা দিতে পারবে না কেন সেটাই জানতে চান তারা। এ বিষয়ে সাভার জাবালে নূর মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান শাহান বলেন, একই পদ্ধতিতে যেহেতু কিন্ডার গার্টেনগুলো পরীক্ষা দিচ্ছে, সুতরাং আমরা মনে করি বোর্ড কর্তৃপক্ষ আমাদের শিক্ষার্থীদের ব্যাপারটাও এভাবেই দেখবেন। তিনি বলেন, ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে থাকে তারা সাধারণত ১০ থেকে ১১ বছর বয়সের হয়ে থাকে। এ বিধি আরোপিত হলে এসকল কোমলমতি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হবে। যার ফলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহতি উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং কয়েক লাখ শিক্ষার্থী অকালেই মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়বে। এমতাবস্থায় জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিবেচনা পূর্বক প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহের মকো প্রাইভেট মাদ্রাসাসমূহের শিক্ষার্থীদেরকে তাদের নিজ নিজ মাদ্রাসার নামে ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে বলে আশা করি। এদিকে অন্য মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে অনেক বেগ পোহাতে হবে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। তারা মনে করেন, তাদের সন্তান যে মাদ্রাসায় পড়ছে, সেখান থেকে পরীক্ষা দিলে রেজিস্ট্রেশনসহ পরীক্ষা দিতে যে সব কার্যক্রম করা লাগে সেগুলো মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সুন্দরভাবে হয়রানি ছাড়া করে। এ ক্ষেত্রে অন্য প্রতিষ্ঠানে গেলেই বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়। যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধার ওপর আঘাত পরে। এতে করে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তারা সরকারের কাছে আশা করেন, সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে নিজ নিজ মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা দিতে পারবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে কোনো সমস্যা হবে না। প্রাইভেট মাদরাসাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। কিন্ডার গার্টেনগুলো কিভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। সচিব মহুদয় এ ব্যাপারে ইতিবাচক। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে পারব। প্রাইভেট মাদরাসাসমূহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য : ১. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের কারিকুলাম ও সিলেবাস অনুসরণ; ২. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় দিবসসমূহ (মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, মহান বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস/ শহীদ দিবস, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস, জাতীয় শোক দিবস) যথাযোগ্য মর্যাদায় পরিপালন। ৩. প্রাইভেট মাদরাসা সমূহের উদ্যোগে জাতীয় দিবসসমূহে আলোচনা সভা, সেমিনার ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। ৪. ক্লাস শুরুর প্রাক্কালে নিয়মিত অ্যাসেম্বলি ও সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন। ৫. জঙ্গিবাদ, মাদকবিরোধী গণসচেতনামূলক মানববন্ধন ও র্যালিসহ সরকার কর্তৃক ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ। ৬। সরকাার-বেসরকারি কোনো অনুদান গ্রহণ ব্যতীত এ সকল প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খরচাদি সরবরাহকরণ। ৭. এ সকল প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন; আট। বিগত বছরগুলোতে ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিপুল শিক্ষার্থীর ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী