আলমডাঙ্গার হারদীতে গভীর রাতে শোবার ঘরে দুর্বৃত্তদের কিলিঙ মিশন আলমডাঙ্গা অফিস/ ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক: আলমডাঙ্গার হারদী চেয়ারম্যানপাড়ায় রাতের আঁধারে নিজ শোবার ঘরে এক গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, মাদক নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে রেষারেষির কারণে হয়তো এ নির্মম হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তি মৃত পরান ম-লের ছেলে আব্দুস সবুর। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপাড়ার মৃত পরান ম-লের ছেলে আব্দুস সবুর কয়েক বছর যাবৎ নিজ বাড়িতে গরুর ফার্ম তৈরি করে গরু মোটাতাজা করতেন। ফার্মে থাকা প্রায় সাত-আটটি গরু দেখাশোনার জন্য রাতে কয়েকবার উঠতে হতো সবুরকে। এ কারণে নিজের থাকার ঘরের দরজা অনেক সময় খোলা অবস্থায় থাকত তাঁর। সবুর গরু পালনের পাশাপাশি ইয়াবা ও হেরোইনের মতো ভয়ানক মাদক সেবন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সূত্র ধরে তাঁর বাড়িতে দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যেত। প্রতিদিনের ন্যায় গত শুক্রবার রাতে সবুরের স্ত্রী সালমা বেগম ফার্মের গরুকে ঘাস খাওয়ানোর পর রাত একটার দিকে সবুরের থাকার পাশের রুমে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সবুরের ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত সবুরের মাথায় গুলি করে তাঁকে হত্যা করেন। এ সময় গুলির শব্দে স্ত্রী সালমা বেগম ঘুম থেকে উঠে চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা বাইরে বের হয়ে সবুরের রক্তাক্ত মরদেহ নিজ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সালমা বেগম জানান, ১৫ বছর পূর্বে হারদী গ্রামের মৃত পরান মন্ডলের ছেলে সবুরের সঙ্গে তাঁর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। সালমা বেগমের বাড়ি মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায়। তাঁদের সংসারে পিয়াল নামের ১১ বছরের একটি পুত্র সন্তান আছে।
জানা যায়, সবুর নিজ বাড়িতে গরু মোটাতাজাকরণের পাশাপাশি মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সালমা বেগম আলমডাঙ্গা পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের অ্যাকাউন্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। চাকরির সুবাদে সালমা বাড়িতে না থাকার সুযোগে সবুর দিন ও রাতের বিভিন্ন সময় বন্ধুদের নিয়ে নিজ ঘরের মধ্যে মাদক সেবন করতেন। এ ঘটনা জানার পর স্ত্রী সালমা মাদক সেবনে সবুরকে কয়েকবার বাধা দিলে তাঁদের সংসারে দ্বন্দ্ব-কলহের সৃষ্টি হয়। এ কারণে সালমা বেগম পিয়ালকে সঙ্গে নিয়ে সবুরের পাশের ঘরে থাকা শুরু করেন। এ সময়ও সবুর ও তাঁর বন্ধুরা অনেক রাত পর্যন্ত প্রায় রাতেই আড্ডা দিতেন। গত শুক্রবার রাত একটার দিকে ফার্ম থেকে ফিরে পিয়াল ও সালমা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত তিনটার দিকে শুলির শব্দ শুনে দরজা খোলার চেষ্টা করেন সালমা। পরে তিনি দেখেন, দরজা বাইরে থেকে আটকানো। এ সময় ভয় পেয়ে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে সালমা বেগমের ঘরের দরজা খুলে দেন এবং দেখেন পাশের ঘরে সবুরের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত লাশ বিছানায় পড়ে আছে।
নিহত সবুরের স্বজনদের দাবি, সবুরকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কারা এবং কী কারণে হত্যা করেছে, এটি কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। এলাকার কারও সঙ্গে সবুরের কোনো বিরোধ ছিল না বলেও দাবি করেন নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা।
এদিকে হত্যাকা-ের খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ গতকাল সকালে ঘটনাস্থল থেকে নিহত সবুরের মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। গতকাল সকাল নয়টার দিকে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাই লাল সরকার, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম ও আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় গতকাল দুপুর ১২টার দিকে হারদী চেয়ারম্যানপাড়ার মৃত কালু ম-লের ছেলে মনিরুল ইসলাম ও একই ইউনিয়নের থানাপাড়ার আতিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান, নিহত সবুরের স্বজনেরা গুলি করে হত্যার দাবি করলেও তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কি না, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন