সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় অচল অ্যাম্বুলেন্স দুর্ভোগ চরমে!

  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০৬-২০১৯ ইং
চুয়াডাঙ্গায় অচল অ্যাম্বুলেন্স দুর্ভোগ চরমে!
রুদ্র রাসেল: রোগীদের উন্নত চিকিৎসার অন্যত্র বহন বা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয় অ্যাম্বুলেন্স। অথচ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সেই অ্যাম্বুলেন্স নিজেই ‘অসুস্থ’ (অচল) হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে সদর হাসপাতালের কাগজে কলমে দুইটি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও একটি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন অচল হয়ে পড়ে আছে। এর মধ্যে সপ্তাহে চার-পাঁচদিন যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য অপর আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতেও ব্যর্থ। যার কারণে প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হচ্ছে দরিদ্র রোগী ও তাঁদের স্বজনদের। তাই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে রোগীদের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। এমন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে, এক রোগীর স্বজনকে বলতে শোনা যায়, যেখানে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স অসুস্থ সেখানে রোগীরা সেবা পাবে কিভাবে। তাই রোগীর স্বজনেরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের দুইটি অ্যাম্বুলেন্স নিরবচ্ছিন্ন সেবার দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতালে আসা একাধিক রোগী ও তাঁদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, ‘অযতœ, অবহেলা ও মেরামতের অভাবে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ফলে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আব্দুর রহিম নামের এক রোগীর স্বজন ক্ষোভের সাথে বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটা যেন সোনার হরিণের মতো। হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স। মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চলছে তাঁদের রোগীর পরিসেবা। আর এ রকম পরিস্থিতিতে রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাঙ্গণের মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স অকেজো হয়ে পড়ে আছে। প্রায় বছর খানেক ধরে পড়ে থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটির সবকিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। অযতেœ পড়ে থাকায় গাড়ির কাঠামো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। যন্ত্রাংশের অধিকাংশই চুরি হয়ে গেছে। কাগজে-কলমে ভালো অ্যাম্বুলেন্স দুটির মধ্যে নতুনটি রাজশাহীর পথে এবং অপরটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের পিছনের দিকে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। অচল অ্যাম্বুলেন্সেটির চালক শাহিন বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সটির অবস্থা অচল প্রায়। অ্যাম্বুলেন্সটি চালাতে গেলেই ঘন ঘন প্লাগ জাম হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। ঈদের দুই দিন পূর্বে শেষ বার রোগী নিয়ে রাজশাহীতে যাওয়ার পথিমধ্যে প্লাগ জ্যাম হয়ে বন্ধ হয়ে রোগী নিয়ে বিপাকে পড়েছিলাম। অ্যাম্বুলেন্সটির ইঞ্জিনের কাজ করানো দরকার। কিছুদিন পূর্বে আমি নিজের থেকে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ করেছি। এতেও তেমন কোন কাজ হয়নি।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম জানান, হাসপাতালের দুটি সচল অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভালো আছে। তবে পুরানো অ্যাম্বুলেন্সটির অবস্থা ভালো না। এটা রোগী নিয়ে রাজশাহী বা দূরের হাসপাতালের যাওয়ার পথিমধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। তবে এটি মেরামতযোগ্য। এই অ্যাম্বুলেন্সটির মেরামতের জন্য বাজেট চাওয়া হয়েছে, টাকা আসলেই মেরামত করা হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী