সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কার্যকর হয়নি দাম স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস!

  • আপলোড তারিখঃ ০৬-০৫-২০১৯ ইং
কার্যকর হয়নি দাম স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস!
রমজানের আগেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ সমীকরণ প্রতিবেদন: রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস দিলেও কার্যকর হওয়ার লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। রোজায় চাহিদা বাড়ে এমন পণ্যসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশেরও বেশি। নিত্যপণ্যের মধ্যে ডাল, চিনি, পিয়াজ, রসুন, খেজুর ও ছোলা, মাছ-মাংসসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সবজির দাম নাগালের বাইরে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের। সাধারণ ভোক্তাদের আশঙ্কা রোজা শুরু হলে এসব পণ্যের দাম আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম পরিবহনে চাঁদাবাজি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট ও চাহিদার তুলনায় প্রথাগত সরবরাহ ব্যবস্থা পণ্য মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এসব সমস্যার সমাধান না হলে পণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সুতরাং শুধু রমজানে নয় সারা বছর পণ্যমূল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান চেয়েছেন ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা। জানা গেছে, বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, দেশে নিত্যপণ্যের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে, ফলে রমজানে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আশ্বস্ত হতে পারছেন না ভোক্তারা। কারণ রোজার বাকি আর মাত্র ১/২ দিন। এখনও নানা কারণ ও অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই। ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, এ বছর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু কিছু পণ্যের দাম ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে- প্রথাগত বাজার সরবরাহ ব্যবস্থা, অতিরিক্ত মজুতকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, যানজট এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের মতো বিষয়সমূহ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর উচ্চ সুদের হার এবং ঋণপ্রাপ্তি সংশ্লিষ্ট জটিলতা প্রভৃতির কারণে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য চাঁদাবাজি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতকেই প্রধান কারণ মনে করছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব)। সম্প্রতি রমজানের নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সমস্যার সমাধান চেয়েছেন ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, উৎপাদন ও আমদানি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন, চিনিসহ বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। মজুত, উৎপাদন ও আমদানি ঠিক থাকার পর দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। রোজা সামনে রেখে এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বলা হলেও বাংলাদেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার গুটিকয়েক ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রণ করছে। যে কারণে মাঝেমধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দাম বাড়তে বা কমতে পারে। তবে তার যৌক্তিক কারণও থাকতে হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশের বাজারে চিনি, পেঁয়াজ, রসুনের দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। ক্যাবের অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির আহ্বায়ক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন এ বিষয়ে বলেন, পণ্যের উৎসস্থল থেকে ঢাকায় আসতে রমজান মাসে চাঁদাবাজি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ চাঁদাবাজি বন্ধ করতে না পারলে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। কারণ ব্যবসায়ীরা মুনাফা থেকে কখনো চাঁদা দেবেন না। বরং চাঁদার জন্য বাড়তি খরচের ওপর মুনাফা তুলবেন। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম জনস্বার্থে রমজান মাসে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, বিগত বছরগুলোয় পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে- ছোলা, চিনি, চাল, দুধ, ভোজ্যতেল, খেজুর, খেসারি প্রভৃতি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি এ অবস্থা নিরসনে রমজানে আমদানি নির্ভর ভোগ্যপণ্য বন্দরে দ্রুত খালাসকরণ, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশের সব বাজারে নিয়মিত মূল্য তালিকা হালনাগাদ, প্রদর্শন ও মূল্যতালিকা কার্যকর করা, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা এবং বন্দর এলাকা, পাইকারি বাজার ও ব্যস্ততম পাইকারি বাণিজ্যিক এলাকায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং সেবা প্রদানের জন্য গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। শুক্রবার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, চিনি, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, আলুর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে সব ধরনের মাছের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ১০০ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। এছাড়া আলু ছাড়া সবধণের সবজির দামই ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। এই সবজিই তিন সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা কায়দা করে সবজির দাম রমজানের আগেই বাড়িয়ে দিয়েছেন যেন রমজানে আর বাড়ানো না লাগে। চাঁদাবজির বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি নিজেও স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, রমজানে যেকোন মূল্যে পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কোন অবস্থাতেই অসাধু ব্যবসায়ীদের সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু লোক পথে পথে চাঁদাবাজি করে। এ কথা বিবেচনা করে এবার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এবারই প্রথম সব বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি দেয়া হয়েছে। যে করেই হোক চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী