সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দর্শনা-জীবননগর সড়কে পুলিশের রহস্যজনক আচরণ!

  • আপলোড তারিখঃ ১২-০৪-২০১৯ ইং
দর্শনা-জীবননগর সড়কে পুলিশের রহস্যজনক আচরণ!
গভীর রাতে দুটি ট্রাকের গতিরোধের চেষ্টা : পুলিশকে ডাকাত ভেবে পিছু হটলো চালক দর্শনা অফিস: দর্শনা-জীবননগর মহাসড়কের আকন্দবাড়িয়া ফার্ম সংলগ্ন এলাকায় চারজন মুখবেঁধে গম বোঝাই চলন্ত দুটি ট্রাকের গতিরোধ করে ডাকাতির চেষ্টা করেছে বলে বেগমপুর ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ট্রাকের চালকসহ এলাকাবাসী। কিন্তু পুলিশ বলছে কোন ডাকাতির চেষ্টা নয় বরং ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এ ঘটনায় একটি ট্রাকের ড্রাইভার রাজুকে বেদম মারপিট করে আহত করাসহ ট্রাকটি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ওই চালক। গত বুধবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দর্শনা কেরুজ জৈব সার কারখানার হেরিং রাস্তার সামনে দর্শনা-জীবননগর সড়কে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনা জানার পর থেকে দর্শনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে পুলিশের সাথে বসেন। পরে দু’পক্ষের বক্তব্য শুনেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের উর্ধতনরা। এসময় বেগমপুর ফাঁড়ি পুলিশ নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিলে বিষয়টি সমাধান হয়ে যায়। তবে বেগমপুর ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জসহ সদস্যের গভীর রাতে এমন রহস্যজনক আচরণে হতবাক হয়েছে এলাকাবাসী বলে এই প্রতিবেদককে জানান। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দর্শনা-জীবননগর সড়কের আকন্দবাড়িয়া কেরুজ জৈব সার কারখানার হেরিং রাস্তার সামনে পরপর দুটি ট্রাক পৌছালে চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি গাড়ির গতিরোধের চেষ্টা চালায়। এসময় চালক গাড়ি ব্যাক গিয়ারে দিয়ে পিছু হটতে থাকলে মুখোশধারীরা ট্রাকটিকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে প্রায় আধা কিলোমিটার পেছানোর পর আকন্দবাড়িয়া গ্রামের ঈদগাঁহর চারা বটতলার নিকট পৌছালে ট্রাক ফেলে পালায় চালক। এসময় দৌড়ে পাশের গ্রামের মধ্যে যেয়ে ডাকাত, ডাকাত বলে চিৎকার দেয়। এতে গ্রামের লোকজন দলবেঁধে ট্রাকের কাছে ছুটে আসে এবং মুখবাধা কয়েকজন দেখে ধরার চেষ্টা করলে মুখোশধারীরা সেই সময় নিজেদেরকে পুলিশ বলে পরিচয় দেয়। তখন গ্রামবাসী মুখবেঁধে ট্রাক দুটির গতিরোধ করার ঘটনা জানতে চাই। কিন্তু বেগমপুর ফাঁড়ি পুলিশের ওই ডিউটি দল কোন সদুত্তোর না দিয়ে বরং গতিরোধ করা একটি ট্রাকের চালক রাজুকে বেদম পিটাতে থাকে এক কন্সটেবল। এমনকি গম বোঝাই ট্রাকটি পুলিশরা ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার দর্শনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নের্তৃবৃন্দরা আহত চালককে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিকভাবে বেগমপুর ফাঁড়ি পুলিশের ওই ডিউটি দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্ত ফাঁড়ি পুলিশকে তলব করে তাৎক্ষণিক এসপি অফিসে ডাকা হয়। এরপর বিষয়টি সমাধানের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর থানা ও ডিবি পুলিশের ওসির উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া ফার্মপাড়ার সবুর আলীর ছেলে ট্রাক চালক রাজু সাংবাদিকদের জানান- আমার গ্রামের মাঝপাড়ার ইনতাজের ছেলে ট্রাক চালক বাচ্চু একটি গমবোঝাই ট্রাক নিয়ে ও আমি (ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-৮০৯১) একটি গমবোঝাই ট্রাক নিয়ে যশোর নওয়াপাড়া হতে চুয়াডাঙ্গা শহরের বাদুরতলায় নিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাদের ট্রাক দুটি কেরুজ জৈব সারকারখানার হেরিং রাস্তার নিকট পৌছালে আমি আমার হেলপার সাগরের হাতে গাড়িটি দিয়ে বাড়ির যাওয়ার জন্য নেমে পড়ি এবং বাড়ির দিকে রওনা দিয়ে কয়েক পা যাওয়ার পর পিছন ফিরে দেখি আমার হেলপার ট্রাক নিয়ে পিছু হটছে। তার পিছনে থাকা চালক বাচ্চুও ট্রাক নিয়ে পিছু হটছে। এসময় আমি একটু এগিয়ে এসে তাকাতেই দেখি গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা চারজন গাড়ি দু’টিকে ধাওয়া করছে তাই তারা পিছু হটছে। তৎক্ষণাত আমি দৌড়ে গ্রামের মধ্যে চলে আসি এবং ডাকাত, ডাকাত বলে চিৎকার দিয়ে লোকজন ডাকতে থাকি। ততক্ষণে ট্রাকটি ধাওয়া খেয়ে কেরুজ জৈব সারকারখানার হেরিং রাস্তার নিকট থেকে আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আকন্দবাড়িয়া ঈদগাঁহপাড়ার সামনে চারাবটতলা স্থানে পৌছে গেছে। এরপর সাধারণ গ্রামবাসী নিয়ে ট্রাকের কাছে যায়। ট্রাকের কাছে পৌছাতেই দেখি পুলিশ আমার ট্রাকটির জ্বানালার গ্লাসসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর চালাচ্ছে। তারপরেও আমি সেখানে পৌছে পুলিশকে জিজ্ঞাসা করি আপনারা ভাঙ্চুর করছেন কেন? আপনারা কী ডাকাত ধরতে পেরেছেন? এই প্রশ্ন করার পর ‘বেগমপুর পুলিশ জানতে চাই তুমি কে?’ এসময় আমি বলি ‘আমি এ ট্রাকের ড্রাইভার। এ কথা শোনার পর পুলিশের মিলন নামের এক কন্সটেবল আমাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। এসময় উপস্থিত গ্রামবাসী আমার মারধরের কারণ জানতে চাইলে তাদেরকে গুলি করে মেরে ফেলার ভয় দেখায় পুলিশ সদস্যরা। পরে ভীষণ মারধর শেষে আমাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় আমার সাথে থাকা সাধারণ গ্রামবাসী হতবাক হয়ে সবাই বাড়ি ফেরে। এরপর আমি এক চিকিৎসকের নিকট থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরি। এরপর পরদিন সকালে দর্শনা মোটর শ্রমিক শাখা কার্যালয়ের নের্তৃবৃন্দদেরকে ঘটনাটি জানালে তারা আমাকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ দোষ স্বীকার করে আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়।’ এ বিষয়ে দর্শনা মোটর শ্রমিকের সভাপতি আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি শোনার পর রাজুকে নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে পুলিশ সুপার ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজন পুলিশ অফিসারকে দায়িত্ব দেন। ওই পুলিশ অফিসার সদর থানার ভিতরে নিয়ে বেগমপুর ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জসহ পুলিশ সদস্যদের ডাকে এবং সেখানে দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে পুলিশের উপর অনেকটা অপরাধ বর্তায়।’ এসময় বেগমপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ কিশোর কুমার নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে, মানবিক দিক বিবেচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়। দর্শনা মোটর শ্রমিকের সাধারণ সম্পাদক নাজিম জানায়, ‘ঘটনা জানতে পেরে চুয়াডাঙ্গা হেড অফিসের নেতৃবৃন্দদেরকে বিষয়টি জানায়। এরপর চুয়াডাঙ্গা মোটর শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ আমরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর বেগমপুর ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাটি ভুল বুঝাবুঝির কারণে ঘটেছে বলে স্বীকার করলে বিষয়টি ওখানেই শেষ হয়। এ বিষয়ে বেগমপুর ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই কিশোর কুমার বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। তবে আমিসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ডিউটি করছিলাম। এসময় ট্রাক পিছিয়ে যাওয়া দেখে আমরাও পিছু, পিছু যায়। তবে চালককে মারধরের বিষয়টি অন্যায় হয়েছে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, একটি ঘটনা ঘটেছিল, তবে বিষয়টি মিমাংশা হয়ে গেছে। তবে ডাকাতির ঘটনাটি সঠিক নয়। বিষয়টি দু’পক্ষের ভুল বুঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। সন্দেহজনকভাবে যখন ট্রাক সিগন্যাল দিয়েছে তখন ড্রাইভার ট্রাক থামিয়ে পিছন দিকে ছুটছিলো। হয়তো ড্রাইভার বুঝতে না পেরে ডাকাত সন্দেহে গাড়ি পিছনে দিয়েছে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি দেখছি।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী