যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার : আতঙ্ক!
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০৩-২০১৯
ইং
মিঠুন মাহমুদ:
জীবননগরে যত্রতত্রভাবে পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বেচাকেনা বেড়ে যাওয়ায় যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, দিন দিন এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়েছে বগুগুণ। চাহিদা বাড়ায় বাজারজাতকারী কোম্পানীগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। ফলে যেখানে সেখানে অবৈধভাবে মজুদ করে এই ঝুঁকিপুর্ণ সিলিন্ডার বেচাকেনা বেড়েছে। বেশিরভাগ দোকানী লাইসেন্স ছাড়াই এ ব্যবসা করছে। এলপি গ্যাস সিলিন্ডার এখন পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে। এসব দোকানীর অনেকেরই ট্রেড লাইসেন্স নেই। সরকারি নীতিমালা অমান্য করে জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে তরল পেট্রোলিয়াম (এলপি)গ্যাসের সিলিন্ডার।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রকার দোকানে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। অথচ এ উপজেলায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য লাইসেন্স দেওয়া আছে মাত্র ৪ ব্যবসায়ীকে। কিন্তু জীবননগর উপজেলায় ৪০ থেকে ৫০টি দোকানে লাইসেন্সবিহীনভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে। গত এক বছরে উপজেলায় ৭টি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের মা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজার ছাড়াও ওলিতে গলিতে এখন পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে জীবননগরে যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বেচাকেনা বেড়েছে। তবে বেশিরভাগই লাইসেন্স ছাড়াই এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হলেও এখনো পর্যন্ত জীবননগরে কোন অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়নি।
তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী সেবা গ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে এমন কোন কাজ করলে তিন বছরের কারাদন্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও বিক্রি করতে বিস্ফোরক লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। ছোট লাইসেন্সধারী কোন দোকানীর ৪০টির বেশি সিলিন্ডার মজুদ রেখে বিক্রি করতে পারে না এবং গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা করতে হলে একজন ব্যবসায়ীকে সরকারি বিধি মোতাবেক কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধা পাকা ঘর, অগ্নিনির্বাপক সক্ষমতা সংক্রান্ত ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং মজবুত ও ঝুকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। একজন ব্যবসায়ী ওইসব শর্ত পূরণ করলেই কেবল এলপি গ্যাস বিক্রির নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। লাইসেন্স ছাড়া কোন দোকানে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা যাবে না।
লাইসেন্সধারী এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা জানান, অধিকাংশই লাইসেন্সর তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে। অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন থেকে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ব্যবসার প্রসার ঘটছে। জীবননগর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, লাইসেন্স ছাড়া যারা ব্যবসা করছে তাদের আমরা লাইসেন্স করতে বলেছি। এ ছাড়া ডিলারদেরও খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স দেখে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে বলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া এলপি গ্যাস সিলিন্ডার যারা বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমেন্ট বক্স