পিলখানা ট্র্যাজেডির দিন আজ
- আপলোড তারিখঃ
২৫-০২-২০১৯
ইং
চূড়ান্ত বিচার শেষ হয়নি ১০ বছরেও
গমীকরণ প্রতিবেদন:
বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ ও পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ১০ বছর পূর্ণ হয়ে ১১ বছরে পা দিয়েছে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস সদর দপ্তর রক্তে রঞ্জিত করেছিল বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য। তাঁদের হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন দেশের মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। ওই ঘটনায় করা মামলার বিচারকাজ চলছে দুই ভাগে। হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়েছে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে। তবে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়নি এখনো। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার কাজ শেষ পর্যায়ে আছে। আর বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় বিচার শেষ হয়নি নি¤œ আদালতে। ওই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। পিলখানায় ১০ বছর আগের ওই নৃশংসতম হত্যাকা-ের কারণে সরকার বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রেখেছে। নিয়ম অনুযায়ী হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় প্রকাশের পর আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবে উভয় পক্ষ। আপিল বিভাগে বিচারের মধ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে শেষ হবে। যদিও এরপর রিভিউ আবেদন করার সুযোগ থাকবে। রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার পর মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিদের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করা ছাড়া আর কোনো সুযোগ থাকবে না।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, পিলখানা হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় লেখা শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে মূল রায় লিখেছেন সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি মো. শওকত হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, তিনি ১১ হাজার ৪১২ পৃষ্ঠার রায় লিখে বেঞ্চের অন্য দুই বিচারপতির কাছে পাঠিয়েছেন। ওই দুই বিচারপতি রায় চূড়ান্ত করার পর তা প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ হতে আরো কয়েক মাস লাগতে পারে বলে জানা গেছে।
হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল বলেন, ‘এই মামলাটি অনেক বড়। অনেক ব্যক্তির মৃত্যুদ- ও যাবজ্জীবন কারাদ- হয়েছে। আরো অনেকের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। এত বড় রায় লিখতে সময় প্রয়োজন। কারণ রায় লিখতে যেয়ে তাড়াহুড়োর কারণে কোনো ভুল হলে তার দায় কে নেবে? এ কারণে ধীরস্থিরভাবে রায় লেখাই ভালো। আর যতটুকু জানি, বিচারপতিরা দ্রুত রায় দেওয়ার চেষ্টা করছেন। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হবে বলে আশা করছি।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় হয়েছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি। এ রায় প্রকাশিত না হওয়ার কারণে হাইকোর্টের রায়ে যাঁরা খালাস পেয়েছেন বা যাঁদের কম সাজা হয়েছে তাঁরা রায়ের সুবিধা পাচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন, ‘এই মামলার কোনো কোনো আসামি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায়ও আসামি। রায়ের কপি না পাওয়ার কারণে হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্তরা বিস্ফোরকদ্রব্য মামলায় জামিন আবেদন করতে পারছেন না। একইভাবে যাঁদের এরই মধ্যে সাজা খাটা হয়ে গেছে তাঁরাও মুক্তি পাচ্ছেন না। ফলে কোনো কোনো আসামি অহেতুক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আশা করব এ মামলায় দ্রুত রায়ের কপি প্রকাশিত হবে এবং খালাসপ্রাপ্তরা কারাগার থেকে বের হয়ে মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করবেন।’
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় দরবার হলে উপস্থিত ছিলেন ৯৭ সেনা কর্মকর্তাসহ তখনকার বিডিআরের আড়াই হাজারের বেশি সদস্য। সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। সেদিন সকালে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দরবার শুরু হয় এবং এরপর বক্তব্য দেন তখনকার বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহম্মেদ। তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ একটি শব্দ হয়। এরপর সেখানে একে একে হত্যা করা হয় ডিজি শাকিল আহম্মেদসহ অনেক সেনা কর্মকর্তাকে। প্রচ- শব্দে পিলখানা ও এর আশপাশের এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। বিদ্রোহের খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। দেশবাসী উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছিল। পিলখানায় গণকবর দেওয়া হয়েছিল সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত ব্যক্তিদের। দুদিন ধরে চলেছিল বিপত্গামী বিডিআর সদস্যদের তা-ব। পরে সরকারের আহ্বানে তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন। কোনো কোনো জওয়ান পিলখানা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে তাঁদেরও কেউ কেউ আত্মসমর্পণ করেন।
কমেন্ট বক্স