ইপেপার । আজবৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত

পেশ ৬ জুন, ঘাটতি ২,৫৭০০০ কোটি টাকা, ব্যাংক থেকে নেয়া হবে অর্ধেক

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১০:৪৪:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ জুন ২০২৪
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে


৩২৯ পৃষ্ঠা! কিছুটা কষ্টে হলেও এই ‘ডাউস’ সাইজের তিন শ’ উন্নিশ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতাটাই পড়তে হবে ৮২ বছর বয়সী অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে। এর আগে এত বড় বাজেট বক্তৃতা আর প্রণয়ন করা হয়নি বলে জানা গেছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নতুন এই অর্থমন্ত্রী আগামী ৬ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেটটি প্রস্তাব আকারে উত্থাপন করবেন। তবে নতুন এই বাজেটের আকার খুব বেশি বাড়ানো হয়নি। মূলত কৃচ্ছ্র অথবা অর্থ সঙ্কটই এর পেছনে দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে নতুন বাজেটের আকারটি চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা, যা কিনা চলমান অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে চার শতাংশের একটু বেশি। কিন্তু সচরাচর বাজেটের এই প্রবৃদ্ধি ১৩-১৪ ভাগ হয়ে থাকে। অর্থনীতির ৭ শতাংশ বিকাশ আর ১০ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নেয়া হলে স্থিরমূল্যে বাজেটের আকার ১২ শতাংশের বেশি সঙ্কুচিত হচ্ছে। এবার প্রথম দিকে বাজেটের আকার আট লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত বড় বাজেট বাস্তবায়নে যে অর্থের প্রয়োজন তা সঙ্কুলান করা রীতিমতো দূরূহ হয়ে পড়বে বিধায় এর আকার যাতে কোনো অবস্থায় আট লাখ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করতে না পারে তা জন্য ‘সীমারেখা’ টেনে দেয়া হয়। তাই চূড়ান্ত পর্যায়ে আট লাখ কোটি টাকার নিচেই বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বাজেট বক্তৃতা তৈরির দায়িত্বে ছিলেন অর্থ বিভাগের দু’জন অতিরিক্ত সচিব। তাদের তত্ত্বাবধানে এটি তৈরি করা হয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে এই বক্তৃতায় পরামর্শ হিসেবে সংযোজন-বিযোজন করেছেন। এখন পর্যন্ত বাজেটের শিরোনাম করা হয়েছে, ‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার’।
জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারো বাজেটের প্রথমাংশে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের ‘ফিরিস্তি’ তুলে ধরা হবে। থাকবে মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির কথাও। এগুলোর জন্য দায়ী করা হবে কোভিড পরবর্তী ‘রাশিয়া-ইউক্রেন’ যুদ্ধকে। বলার চেষ্টা করা হবে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রিজার্ভ বাড়বে এবং কমবে মূল্যস্ফীতি। তবে বাজেট বক্তৃতায় ব্যাংকিং খাতে অব্যবস্থা ও শেয়ারবাজারের ধসের বিষয়ে কিছুই থাকছে না।
বিশাল ঘাটতি: অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন অর্থবছরের জন্য সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট প্রস্তাব করা হচ্ছে, তাতে ঘাটতিই থাকবে দুই লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। যা কিনা জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এই বিশাল পরিমাণ ঘাটতি পূরণে কয়েকটি খাতকে উৎস হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে ব্যাংকিং খাত। এই খাত থেকে মোটা দাগে এক লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার টার্গেট নেয়া হচ্ছে। এর বাইরে বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য বিদেশ থেকে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা পাওয়া যাবে বলেও ধরে হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ কোটি টাকার প্রকল্প ঋণও রয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাংক বহির্ভূত খাত হিসেবে বিবেচিত সঞ্চপত্র থেকে নেয়া হবে ১৬ হাজার কোটি টাকা। সরকারি চাকুরেদের ‘জিপিএফ’ থেকে নেয়া হবে আরো ৫ হাজার কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরে আসল পরিশোধে ব্যয় করা হবে ২৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা রয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা।
রাজস্ব প্রাপ্তি: এত গেল বাজেট ঘাটতি কিভাবে পূরণ করা হবে তার কথা। এবার দেখা যাক, সরকার এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য রাজস্ব আয় কিভাবে করবে। নতুন অর্থবছরে মোট রাজস্ব প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে যা ছিল ৫ লাখ কোটি টাকা। রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ শতাংশ। নতুন রাজস্ব প্রাপ্তির মধ্যে বরাবরের মতো এবারো বেশির ভাগ আয় করার দায়িত্বটি থাকবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এনবিআরকে রাজস্ব আয়ের টার্গেট দেয়া হয়েছে চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। নন-এনবিআর থেকে আসবে আরো ১৫ হাজার কোটি টাকা। আর কর ব্যতীত প্রাপ্তির টার্গেট থাকছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি: আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। পরে তা কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ করা। কিন্তু বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে বড় জোর ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রায় কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
এডিপি: নতুন অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ধরা হয়েছে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল দুই লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ১৮ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে এডিপির আকার করা হয়েছে দুই লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার রয়েছে সাত লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। গত মাসে তা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে সাত লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের আকার কমানো হয়েছে মূল বাজেটের থেকে ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৪৭ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৩) মাত্র ২৬ শতাংশ বাজেট বাস্তবায়িত হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের এ হার আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কম। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ২৭ শতাংশ। অর্থ বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে মোট সাত লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বিপরীতে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৩) ৮৪ হাজার ৬২১ কোটি টাকা (বাস্তবায়ন হার ১১%) এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৩) ১ লাখ ৯ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে (বাস্তবায়ন হার ১৫%)।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত

পেশ ৬ জুন, ঘাটতি ২,৫৭০০০ কোটি টাকা, ব্যাংক থেকে নেয়া হবে অর্ধেক

আপলোড টাইম : ১০:৪৪:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ জুন ২০২৪


৩২৯ পৃষ্ঠা! কিছুটা কষ্টে হলেও এই ‘ডাউস’ সাইজের তিন শ’ উন্নিশ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতাটাই পড়তে হবে ৮২ বছর বয়সী অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে। এর আগে এত বড় বাজেট বক্তৃতা আর প্রণয়ন করা হয়নি বলে জানা গেছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নতুন এই অর্থমন্ত্রী আগামী ৬ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেটটি প্রস্তাব আকারে উত্থাপন করবেন। তবে নতুন এই বাজেটের আকার খুব বেশি বাড়ানো হয়নি। মূলত কৃচ্ছ্র অথবা অর্থ সঙ্কটই এর পেছনে দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে নতুন বাজেটের আকারটি চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা, যা কিনা চলমান অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে চার শতাংশের একটু বেশি। কিন্তু সচরাচর বাজেটের এই প্রবৃদ্ধি ১৩-১৪ ভাগ হয়ে থাকে। অর্থনীতির ৭ শতাংশ বিকাশ আর ১০ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নেয়া হলে স্থিরমূল্যে বাজেটের আকার ১২ শতাংশের বেশি সঙ্কুচিত হচ্ছে। এবার প্রথম দিকে বাজেটের আকার আট লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত বড় বাজেট বাস্তবায়নে যে অর্থের প্রয়োজন তা সঙ্কুলান করা রীতিমতো দূরূহ হয়ে পড়বে বিধায় এর আকার যাতে কোনো অবস্থায় আট লাখ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করতে না পারে তা জন্য ‘সীমারেখা’ টেনে দেয়া হয়। তাই চূড়ান্ত পর্যায়ে আট লাখ কোটি টাকার নিচেই বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বাজেট বক্তৃতা তৈরির দায়িত্বে ছিলেন অর্থ বিভাগের দু’জন অতিরিক্ত সচিব। তাদের তত্ত্বাবধানে এটি তৈরি করা হয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে এই বক্তৃতায় পরামর্শ হিসেবে সংযোজন-বিযোজন করেছেন। এখন পর্যন্ত বাজেটের শিরোনাম করা হয়েছে, ‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার’।
জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারো বাজেটের প্রথমাংশে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের ‘ফিরিস্তি’ তুলে ধরা হবে। থাকবে মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির কথাও। এগুলোর জন্য দায়ী করা হবে কোভিড পরবর্তী ‘রাশিয়া-ইউক্রেন’ যুদ্ধকে। বলার চেষ্টা করা হবে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রিজার্ভ বাড়বে এবং কমবে মূল্যস্ফীতি। তবে বাজেট বক্তৃতায় ব্যাংকিং খাতে অব্যবস্থা ও শেয়ারবাজারের ধসের বিষয়ে কিছুই থাকছে না।
বিশাল ঘাটতি: অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন অর্থবছরের জন্য সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট প্রস্তাব করা হচ্ছে, তাতে ঘাটতিই থাকবে দুই লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। যা কিনা জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এই বিশাল পরিমাণ ঘাটতি পূরণে কয়েকটি খাতকে উৎস হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে ব্যাংকিং খাত। এই খাত থেকে মোটা দাগে এক লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার টার্গেট নেয়া হচ্ছে। এর বাইরে বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য বিদেশ থেকে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা পাওয়া যাবে বলেও ধরে হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ কোটি টাকার প্রকল্প ঋণও রয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাংক বহির্ভূত খাত হিসেবে বিবেচিত সঞ্চপত্র থেকে নেয়া হবে ১৬ হাজার কোটি টাকা। সরকারি চাকুরেদের ‘জিপিএফ’ থেকে নেয়া হবে আরো ৫ হাজার কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরে আসল পরিশোধে ব্যয় করা হবে ২৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা রয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা।
রাজস্ব প্রাপ্তি: এত গেল বাজেট ঘাটতি কিভাবে পূরণ করা হবে তার কথা। এবার দেখা যাক, সরকার এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য রাজস্ব আয় কিভাবে করবে। নতুন অর্থবছরে মোট রাজস্ব প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে যা ছিল ৫ লাখ কোটি টাকা। রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ শতাংশ। নতুন রাজস্ব প্রাপ্তির মধ্যে বরাবরের মতো এবারো বেশির ভাগ আয় করার দায়িত্বটি থাকবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এনবিআরকে রাজস্ব আয়ের টার্গেট দেয়া হয়েছে চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। নন-এনবিআর থেকে আসবে আরো ১৫ হাজার কোটি টাকা। আর কর ব্যতীত প্রাপ্তির টার্গেট থাকছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি: আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। পরে তা কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ করা। কিন্তু বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে বড় জোর ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রায় কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
এডিপি: নতুন অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ধরা হয়েছে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল দুই লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ১৮ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে এডিপির আকার করা হয়েছে দুই লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার রয়েছে সাত লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। গত মাসে তা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে সাত লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের আকার কমানো হয়েছে মূল বাজেটের থেকে ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৪৭ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৩) মাত্র ২৬ শতাংশ বাজেট বাস্তবায়িত হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের এ হার আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কম। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ২৭ শতাংশ। অর্থ বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে মোট সাত লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বিপরীতে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৩) ৮৪ হাজার ৬২১ কোটি টাকা (বাস্তবায়ন হার ১১%) এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৩) ১ লাখ ৯ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে (বাস্তবায়ন হার ১৫%)।