ইপেপার । আজবৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কোরবানির আগে পশু চোরাকারবার; কঠোর হাতে দমন করুন

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৭:৪২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

এক সময় দেশে পশুসম্পদের ঘাটতি ছিল। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে পশু এনে ঘাটতি পূরণ করা হতো। কোরবানির ঈদে ভারত থেকে প্রচুর পশু, বিশেষ করে গরু আসত। সেগুলোর বেশির ভাগই আসত অবৈধ উপায়ে, চোরাপথে। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে দেশ প্রাণিসম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় কোরবানির মৌসুমে পশু উদ্বৃত্ত থাকে। তবে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় ভারত থেকে চোরাকারবারিরা কোরবানির ঈদে প্রচুর গরু চোরাইপথে আনছে। এবারো চক্রটি তৎপর। এতে পশু লালন-পালনকারী খামারিরা লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন। নয়া দিগন্তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: ইমরান হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেছেন, ময়মনসিংহ ও কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু ঢুকছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন তিনি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে আসন্ন কোরবানি ঈদ সামনে রেখে প্রায় এক কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে, বিপরীতে এক কোটি সাত লাখ দুই হাজার ৩৯৪টি পশুর চাহিদা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ২৩ লাখ বেশি। দুই লাখ খামারিসহ কয়েক লাখ ক্ষুদ্র কৃষক এসব ছোট-বড় পশু প্রস্তুত করেছেন।
জানা যায়, তিন মাসের ব্যবধানে গমের ভুসি প্রতি বস্তা ১৬০০-১৮০০ টাকা ও চিকন ভুসি ২০০০-২৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। চালের খুদ কিনতে হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকায়, যা তিন মাস আগে ছিল ৩০-৩২ টাকা। ধানের কুঁড়া ২০ টাকা। খড়ও কিনতে হচ্ছে পাঁচ টাকা বেশিতে। পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য, তীব্র তাপদাহে বাড়তি যত্নে এবার উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। অন্যদিকে, সীমান্ত দিয়ে নানা কৌশলে গরু ঢুকছে বলে অভিযোগ খামারিদের। এ অবস্থায় গবাদিপশুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় তারা।
ইন্টিগ্রেটেড ডেইরি রিসার্চ নেটওয়ার্কের (আইডিআরএন) তথ্য, এক বছরে দেশে পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে ৫৪ শতাংশ, যেখানে বিশ্ববাজারে বেড়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। গবাদিপশু উৎপাদনে প্রায় ৮০ শতাংশ খরচ হয় খাদ্যে। এ কারণে পশুর প্রকৃত দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। খামারিদের কাছে চাহিদার অতিরিক্ত পশু থাকায় দাম না বাড়লেও খামারিরা লোকসানে পড়তে পারেন। তবে খামারি ও প্রান্তিক পর্যায়ে গরু লালন-পালনে খরচের কিছুটা ফারাক হয়ে থাকে। প্রান্তিক পর্যায়ের অর্থাৎ গৃহস্থ পর্যায়ের লালন পালনে দানাদার খাবার কম খাওয়ানো হয়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে খামারিদের খরচ হয় বেশি। চোরাই পথে গরু এলে খামারিদের মাথায় হাত পড়বে। খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় দেশে অবৈধ উপায়ে গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে হবে। এ জন্য তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এখনই দেয়া দরকার। সেই সাথে কোরবানির পশু পরিবহনে পথে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সবার আগে। লোকসান হলে তারা পশুপালনে নিরুৎসাহিত হবেন যা কার্যত গোটা জাতির জন্যই ক্ষতিকর হবে। তাই দেশীয় খামারের বিকাশ ও সুরক্ষায় ভারত থেকে বৈধপথে গরু আনাও বন্ধ করা দরকার, যেমনটি অনেক শিল্পের ক্ষেত্রে রয়েছে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

কোরবানির আগে পশু চোরাকারবার; কঠোর হাতে দমন করুন

আপলোড টাইম : ০৭:৪২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

এক সময় দেশে পশুসম্পদের ঘাটতি ছিল। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে পশু এনে ঘাটতি পূরণ করা হতো। কোরবানির ঈদে ভারত থেকে প্রচুর পশু, বিশেষ করে গরু আসত। সেগুলোর বেশির ভাগই আসত অবৈধ উপায়ে, চোরাপথে। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে দেশ প্রাণিসম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় কোরবানির মৌসুমে পশু উদ্বৃত্ত থাকে। তবে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় ভারত থেকে চোরাকারবারিরা কোরবানির ঈদে প্রচুর গরু চোরাইপথে আনছে। এবারো চক্রটি তৎপর। এতে পশু লালন-পালনকারী খামারিরা লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন। নয়া দিগন্তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: ইমরান হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেছেন, ময়মনসিংহ ও কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু ঢুকছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন তিনি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে আসন্ন কোরবানি ঈদ সামনে রেখে প্রায় এক কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে, বিপরীতে এক কোটি সাত লাখ দুই হাজার ৩৯৪টি পশুর চাহিদা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ২৩ লাখ বেশি। দুই লাখ খামারিসহ কয়েক লাখ ক্ষুদ্র কৃষক এসব ছোট-বড় পশু প্রস্তুত করেছেন।
জানা যায়, তিন মাসের ব্যবধানে গমের ভুসি প্রতি বস্তা ১৬০০-১৮০০ টাকা ও চিকন ভুসি ২০০০-২৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। চালের খুদ কিনতে হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকায়, যা তিন মাস আগে ছিল ৩০-৩২ টাকা। ধানের কুঁড়া ২০ টাকা। খড়ও কিনতে হচ্ছে পাঁচ টাকা বেশিতে। পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য, তীব্র তাপদাহে বাড়তি যত্নে এবার উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। অন্যদিকে, সীমান্ত দিয়ে নানা কৌশলে গরু ঢুকছে বলে অভিযোগ খামারিদের। এ অবস্থায় গবাদিপশুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় তারা।
ইন্টিগ্রেটেড ডেইরি রিসার্চ নেটওয়ার্কের (আইডিআরএন) তথ্য, এক বছরে দেশে পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে ৫৪ শতাংশ, যেখানে বিশ্ববাজারে বেড়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। গবাদিপশু উৎপাদনে প্রায় ৮০ শতাংশ খরচ হয় খাদ্যে। এ কারণে পশুর প্রকৃত দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। খামারিদের কাছে চাহিদার অতিরিক্ত পশু থাকায় দাম না বাড়লেও খামারিরা লোকসানে পড়তে পারেন। তবে খামারি ও প্রান্তিক পর্যায়ে গরু লালন-পালনে খরচের কিছুটা ফারাক হয়ে থাকে। প্রান্তিক পর্যায়ের অর্থাৎ গৃহস্থ পর্যায়ের লালন পালনে দানাদার খাবার কম খাওয়ানো হয়। বাণিজ্যিক পর্যায়ে খামারিদের খরচ হয় বেশি। চোরাই পথে গরু এলে খামারিদের মাথায় হাত পড়বে। খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় দেশে অবৈধ উপায়ে গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে হবে। এ জন্য তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এখনই দেয়া দরকার। সেই সাথে কোরবানির পশু পরিবহনে পথে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সবার আগে। লোকসান হলে তারা পশুপালনে নিরুৎসাহিত হবেন যা কার্যত গোটা জাতির জন্যই ক্ষতিকর হবে। তাই দেশীয় খামারের বিকাশ ও সুরক্ষায় ভারত থেকে বৈধপথে গরু আনাও বন্ধ করা দরকার, যেমনটি অনেক শিল্পের ক্ষেত্রে রয়েছে।