ইপেপার । আজবৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা দুটি উপজেলাতেই নতুন মুখ

চেয়ারে বসছেন নঈম জোয়ার্দ্দার ও মঞ্জিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোড টাইম : ১১:২০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের ভাস্তে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার এবং আলমডাঙ্গা উপজেলায় মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী কে এম মঞ্জিলুর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ দুটি উপজেলায় ভোট গ্রহণ শেষে গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজমুল হামিদ রেজা। এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার ৫০ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজুল হক মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৩৬ হাজার ১৭২ ভোট পেয়েছেন। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি, পরপর তিনবার নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আসাদুল হক বিশ্বাস আনারস প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১১ হাজার ৪১৯টি।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মো. মাসুদুর রহমান (গরীব রুহানী মাসুম) টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ৫১ হাজার ৭৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান চশমা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ২৭ হাজার ৫৪৯টি। এছাড়াও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মামুন-অর-রশীদ তালা প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৭১৩ ভোট, মো. মিরাজুল ইসলাম কাবা উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ২৮৫ ভোট ও মো. শামীম হোসেন মাইক প্রতীক নিয়ে ৮ হাজার ২৯৫ ভোট পেয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৩ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মাসুমা খাতুন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. শাহজাদী মিলি কলস প্রতীক নিয়ে ৩১ হাজার ৮৭ ভোট ভোট পেয়েছেন। এছাড়া নুরুন্নাহার কাকলী হাঁস প্রতীক নিয়ে ১২ হাজার ৩৩৮ ভোট পেয়েছেন।

অপর দিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪০ হাজার ২৮০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী কে এম মঞ্জিলুর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. জিল্লুর রহমান ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ২৬ হাজার ২৮৭ ভোট পেয়েছেন। এছাড়াও বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. আইয়ুব হোসেন দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৩০৬ ভোট, মো. মোমিন চৌধুরী ডাবু আনারস প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ১০৭ ভোট ও মো. নুরুল ইসলাম কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ১৪ ভোট পেয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৭ হাজার ৩৩৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মাইক প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মো. মাসুম বিল্লাহ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আহমেদ হাবিব খান তালা প্রতীক নিয়ে ১৫ হাজার ৮৬০ ভোট পেয়েছেন। এছাড়াও মো. মামুনার রহমান বই প্রতীক নিয়ে ৮ হাজার ৭০৪ ভোট, মো. আজিজুল হক উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ১০৯ ভোট, মো. মকলেছুর রহমান টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ১০ হাজার ৭৮৪ ভোট, মো. সোহেল রানা শাহীন পালকি প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৭৭৩ ভোট, মো. আজিজুল হক টিয়া পাখি প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৭৭৬ ভোট ও মো. মিজানুর রহমান চশমা প্রতীক নিয়ে ১১ হাজার ৬৫৩ ভোট পেয়েছেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭ হাজার ৭৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন কলস প্রতীকের প্রার্থী মনিরা খাতুন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মারজাহান নিতু হাঁস প্রতীক নিয়ে ২৪ হাজার ৭৩০ ভোট পেয়েছেন। এছাড়াও মোছা. কাজল রেখা ফুটবল প্রতীক নিয়ে ২১ হাজার ৯০৩ ভোট পেয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৭ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৪০৮ জন। উপজেলার মোট ৯৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এখানে মোট প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৩৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অপর দিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৫ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬০৫ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯৫ জন। উপজেলার মোট ১১৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ উপজেলায় মোট ভোট প্রদত্ত হয়েছে ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

এদিকে, সকাল থেকে কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। একসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা ও চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান। এসময় তাঁরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও ভোটারদের সাথে কথা বলেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে চুয়াডাঙ্গার জনসাধারণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনকালে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, ‘সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের অনেকগুলো ভোটকেন্দ্র আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক, তাঁর টিম, আমার পুরো টিম এবং গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভোট গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটের মাঠেই থেকেছি। আমরা সরেজমিন যতগুলো কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি, প্রতিটি কেন্দ্রে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী ভোটার, পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্টসহ ভোট সংশ্লিষ্ট যারা ছিলেন, সকলের সঙ্গে কথা বলেছি। ভোটকেন্দ্রের মধ্যে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের বাধা দেয়া, কেন্দ্রে আসা যাওয়ার পথে বিঘ্ন সৃষ্টির অপরাধে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। এরমধ্যে আলমডাঙ্গায় উপজেলায় দুজজনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমরা অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আমাদের টিম চুয়াডাঙ্গার সকল স্তরের ফোর্স অফিসার মিলে কাজ করেছি। আমাদের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ অত্যান্ত সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরাও তৎপর থেকেছে। যে কারণে ছোট-খাটো কোনো বিচ্যুতি ঘটা মাত্রই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়েছি এবং সেটাকে আইনের আওতায় নিয়েছি।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. সিকিঞ্জার চাকমা বলেন, ‘প্রথম ধাপের দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটাররা যেন সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট প্রদান করতে পারে, আমরা সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছিলাম। অনুরূপভাবে দ্বিতীয় ধাপে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সুষ্ঠু পরিবেশে নিশ্চিত করে আমরা ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলাম। সকাল থেকে পুলিশ সুপারসহ আমরা টিম নিয়ে বেশ কয়েকিটি কেন্দ্রে গিয়েছি, ভোটরাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বয়জেষ্ঠ্য অনেক ভোটার আমরা দেখেছি, ওনারা ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আমরা ভোটার উপস্থিতি বাড়তে দেখেছি। আমরা কোথাও বড় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাইনি। দু-একটি অভিযোগের খবরে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ দায়িত্ব পালন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘কঠোরভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের কাছে তাদের আসা যাওয়ার পথে কোনো বিঘ্ন হয়েছে কি না জানতে চেয়েছি। তারা আমাদেরকে জানিয়েছেন কোনো বিঘ্ন ছাড়ায় সুষ্ঠু পরিবেশে তাদের ভোট দিতে পেরেছেন। যাদের সঙ্গেই আমরা কথা বলেছি, সকলেই সন্তোষ প্রকাশ করেছে। কাউকে কোনো পক্ষের জন্য ভোট দিতে ভয়-ভীতি দেখানো বা জোর প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেনি। মাননীয় নির্বাচন কমিশন যে দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছেন, আমরা পূর্ণতার সঙ্গে তা পালনে চেষ্টা করেছি।’

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা দুটি উপজেলাতেই নতুন মুখ

চেয়ারে বসছেন নঈম জোয়ার্দ্দার ও মঞ্জিলুর রহমান

আপলোড টাইম : ১১:২০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের ভাস্তে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার এবং আলমডাঙ্গা উপজেলায় মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী কে এম মঞ্জিলুর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ দুটি উপজেলায় ভোট গ্রহণ শেষে গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজমুল হামিদ রেজা। এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার ৫০ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজুল হক মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৩৬ হাজার ১৭২ ভোট পেয়েছেন। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি, পরপর তিনবার নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আসাদুল হক বিশ্বাস আনারস প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১১ হাজার ৪১৯টি।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মো. মাসুদুর রহমান (গরীব রুহানী মাসুম) টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ৫১ হাজার ৭৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান চশমা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ২৭ হাজার ৫৪৯টি। এছাড়াও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মামুন-অর-রশীদ তালা প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৭১৩ ভোট, মো. মিরাজুল ইসলাম কাবা উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ২৮৫ ভোট ও মো. শামীম হোসেন মাইক প্রতীক নিয়ে ৮ হাজার ২৯৫ ভোট পেয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৩ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মাসুমা খাতুন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. শাহজাদী মিলি কলস প্রতীক নিয়ে ৩১ হাজার ৮৭ ভোট ভোট পেয়েছেন। এছাড়া নুরুন্নাহার কাকলী হাঁস প্রতীক নিয়ে ১২ হাজার ৩৩৮ ভোট পেয়েছেন।

অপর দিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪০ হাজার ২৮০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী কে এম মঞ্জিলুর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. জিল্লুর রহমান ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ২৬ হাজার ২৮৭ ভোট পেয়েছেন। এছাড়াও বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. আইয়ুব হোসেন দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৩০৬ ভোট, মো. মোমিন চৌধুরী ডাবু আনারস প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ১০৭ ভোট ও মো. নুরুল ইসলাম কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ১৪ ভোট পেয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৭ হাজার ৩৩৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মাইক প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মো. মাসুম বিল্লাহ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আহমেদ হাবিব খান তালা প্রতীক নিয়ে ১৫ হাজার ৮৬০ ভোট পেয়েছেন। এছাড়াও মো. মামুনার রহমান বই প্রতীক নিয়ে ৮ হাজার ৭০৪ ভোট, মো. আজিজুল হক উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ১০৯ ভোট, মো. মকলেছুর রহমান টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ১০ হাজার ৭৮৪ ভোট, মো. সোহেল রানা শাহীন পালকি প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৭৭৩ ভোট, মো. আজিজুল হক টিয়া পাখি প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৭৭৬ ভোট ও মো. মিজানুর রহমান চশমা প্রতীক নিয়ে ১১ হাজার ৬৫৩ ভোট পেয়েছেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭ হাজার ৭৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন কলস প্রতীকের প্রার্থী মনিরা খাতুন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মারজাহান নিতু হাঁস প্রতীক নিয়ে ২৪ হাজার ৭৩০ ভোট পেয়েছেন। এছাড়াও মোছা. কাজল রেখা ফুটবল প্রতীক নিয়ে ২১ হাজার ৯০৩ ভোট পেয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৭ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৪০৮ জন। উপজেলার মোট ৯৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এখানে মোট প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৩৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অপর দিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৫ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬০৫ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯৫ জন। উপজেলার মোট ১১৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ উপজেলায় মোট ভোট প্রদত্ত হয়েছে ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

এদিকে, সকাল থেকে কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। একসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা ও চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান। এসময় তাঁরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও ভোটারদের সাথে কথা বলেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে চুয়াডাঙ্গার জনসাধারণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনকালে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, ‘সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের অনেকগুলো ভোটকেন্দ্র আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক, তাঁর টিম, আমার পুরো টিম এবং গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভোট গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটের মাঠেই থেকেছি। আমরা সরেজমিন যতগুলো কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি, প্রতিটি কেন্দ্রে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী ভোটার, পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্টসহ ভোট সংশ্লিষ্ট যারা ছিলেন, সকলের সঙ্গে কথা বলেছি। ভোটকেন্দ্রের মধ্যে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের বাধা দেয়া, কেন্দ্রে আসা যাওয়ার পথে বিঘ্ন সৃষ্টির অপরাধে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। এরমধ্যে আলমডাঙ্গায় উপজেলায় দুজজনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমরা অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আমাদের টিম চুয়াডাঙ্গার সকল স্তরের ফোর্স অফিসার মিলে কাজ করেছি। আমাদের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ অত্যান্ত সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরাও তৎপর থেকেছে। যে কারণে ছোট-খাটো কোনো বিচ্যুতি ঘটা মাত্রই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়েছি এবং সেটাকে আইনের আওতায় নিয়েছি।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. সিকিঞ্জার চাকমা বলেন, ‘প্রথম ধাপের দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটাররা যেন সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট প্রদান করতে পারে, আমরা সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছিলাম। অনুরূপভাবে দ্বিতীয় ধাপে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সুষ্ঠু পরিবেশে নিশ্চিত করে আমরা ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলাম। সকাল থেকে পুলিশ সুপারসহ আমরা টিম নিয়ে বেশ কয়েকিটি কেন্দ্রে গিয়েছি, ভোটরাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বয়জেষ্ঠ্য অনেক ভোটার আমরা দেখেছি, ওনারা ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আমরা ভোটার উপস্থিতি বাড়তে দেখেছি। আমরা কোথাও বড় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাইনি। দু-একটি অভিযোগের খবরে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ দায়িত্ব পালন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘কঠোরভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের কাছে তাদের আসা যাওয়ার পথে কোনো বিঘ্ন হয়েছে কি না জানতে চেয়েছি। তারা আমাদেরকে জানিয়েছেন কোনো বিঘ্ন ছাড়ায় সুষ্ঠু পরিবেশে তাদের ভোট দিতে পেরেছেন। যাদের সঙ্গেই আমরা কথা বলেছি, সকলেই সন্তোষ প্রকাশ করেছে। কাউকে কোনো পক্ষের জন্য ভোট দিতে ভয়-ভীতি দেখানো বা জোর প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেনি। মাননীয় নির্বাচন কমিশন যে দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছেন, আমরা পূর্ণতার সঙ্গে তা পালনে চেষ্টা করেছি।’