সোনা লুটের ঘটনায় এবার মহেশপুর থানার ওসি প্রত্যাহার
- আপলোড তারিখঃ
২১-০১-২০১৮
ইং
দত্তনগর প্রতিনিধি: চোরাচালানের সোনা লুটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার প্রত্যাহার করা হলো ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ কবিরকে। গতকাল শনিবার সকালেই স্টেশন ত্যাগ করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত লুটের ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে দুইজনকে। ঘটনার প্রধান নায়ক কোটচাঁদপুর পৌরসভার কমিশনার রেজাউল পাঠানকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এবিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদ্য পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ সুপার) আজবাহার আলী শেখ বলেছেন, প্রশাসনিক কারনে মহেশপুর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। তাকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার খুলনা বিভাগীয় রেঞ্জ ডিআইজি দিদারুল আলম মহেশপুর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ জারি করেন। এর আগে একই থানার আরো দুইজন এসআইসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। চলছে তদন্ত। বেরিয়ে আসছে সোনা চোরাকারবারীদের গডফাদারের নাম। সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে ফেঁসে যেতে পারেন অসৎ আরো কতিপয় পুলিশ সদস্য।
পুলিশ সুত্র জানায়, চলতি মাসের ৪ তারিখ দিবাগত ভোরে জেলার কালীগঞ্জ-জীবননগর সড়কের পুরন্দপুর এলাকায় ঢাকার গাবতলি থেকে ছেড়ে আসা দর্শনাগামী সোনারতরী নামের নৈশকোচ থামিয়ে চোরাচালানের বিপুল পরিমান সোনা লুট করা হয়। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে সংশ্লিষ্ট মহেশপুর থানা পুলিশ। ৬ জানুয়ারি থানা পরির্দশনের সময় বিষয়টি জানতে পারেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ। এরপর তার নির্দেশে পুলিশ বাদি হয়ে থানায় একটি বাস ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়। এরপর ৭ জানুয়ারি এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই থানার একজন এসআইসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। ৯ জানুয়ারি দায়িত্ব অবহেলার দায়ে আরো একজন এসআইসহ ৪ জন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
এঘটনায় গত শুক্রবার ভোরে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে প্রত্যাহার করা হলো। সাতক্ষীরা জেলা থেকে নতুন ওসি যোগদান করছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, চোরাচালানীর সোনা উদ্ধারের পরে গায়েব করে দেওয়ার আরো কয়েকটি ঘটনা ইতিপুর্বে ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে উদ্ধার করা কোটি কোটি টাকার সোনা হজম করতে সাজানো হয়েছে নানা নাটক। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গোয়েন্দা দল মাঠে নামলেও সঠিক তথ্য বের হয়নি। লুট করা সোনা উদ্ধারের অভিযানের নেতৃত্ব দানকারী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ বলেছেন ঘটনার প্রধান হোতা কোটচাঁদপুর পৌরসভার কমিশনার রেজাউল পাঠানকে ধরার জন্য অভিযান চলছে।
কমেন্ট বক্স