জীবননগরে স্কুলশিক্ষক নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্ত্রী ফরিদা পারভীনকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবননগর পৌরসভার কর্মকর্তা ও তালাকপ্রাপ্ত ফরিদা পারভীন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জীবননগর থানায় অভিযোগ করেছেন।
জানা যায়, ১৫ বছর পূর্বে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর আখ সেন্টারপাড়ার নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ফরিদা পারভীনের বিয়ে হয়। নাসির উদ্দিন জীবননগর শাপলাকলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে, ফরিদা পারভীন বর্তমানে জীবননগর পৌরসভায় কর্মরত আছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে নুসরাত জাহান (৯) ও নাফিসা (৪) নামের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।
ফরিদা পারভীন অভিযোগ করেছেন, তাদের সুখের সংসারে অশান্তির কারণ নাসির উদ্দিনের বড় ভাবি কাজল রেখা। কারণে-অকারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাঁধিয়ে দেন তিনি। গত ১ ডিসেম্বর নাসির উদ্দিন ফরিদাকে তালাক দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে তালাকের কোনো কাগজ এখনও পাননি ফরিদা। গত শনিবার সকালে দুই মেয়েকে দেখতে মনোহরপুরে যান তিনি। সেখানে ভাসুর নাজমুল হক ও তার স্ত্রী কাজল রেখা তাকে মারধর করে গুরুতর আহতও করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ফরিদা পারভীন। তিনি বলেন, ‘আমাকে মারধরের খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আমাকে উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা আমাকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করে।’
স্থানীয়রা জানান, নাসির উদ্দিন তার ভাইয়ের প্ররোচণায় প্রায়ই ফরিদার ওপর নির্যাতন চালাতেন। তারা বলেন, ফরিদা খুবই ভালো মনের মানুষ। তাকে কখনো কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে দেখা যায়নি। কিন্তু নাসির মাস্টারের ভাই ও তার ভাবি কাজল রেখা চরম ঔদ্ধত্য প্রকৃতির, কারো কথা শোনে না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ফরিদা অত্যন্ত ঝগড়াটে স্বভাবের। তার নির্যাতনে আমি, আমার দুই শিশুকন্যা ও পুরো পরিবার অতিষ্ঠ। তার অত্যাচার থেকে বাঁচতে গত ২৪ নভেম্বর আমি দুই কন্যাকে নিয়ে শহরে এক চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে চলে যাই। খবর পেয়ে ফরিদা সেখানে গিয়ে আমাদের চরম মানসিক নির্যাতন করে। বাধ্য হয়ে ১ ডিসেম্বর তাকে তালাক দিয়েছি।’
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, ‘এ ঘটনায় স্কুলশিক্ষক নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন