শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

রোজার শেষ শুক্রবারে ছুটির দিনে চুয়াডাঙ্গায় জমজমাট ঈদের বাজার

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-০৪-২০২৪ ইং
রোজার শেষ শুক্রবারে ছুটির দিনে চুয়াডাঙ্গায় জমজমাট ঈদের বাজার

গতকাল ছিল ঈদের আগে শেষ শুক্রবার। অধিকাংশ অফিসই ছুটি। ছুটির অবকাশে চুয়াডাঙ্গা জেলার চাকরিজীবীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজের ও পরিবারের জন্য পছন্দের কেনাকাটায় ছুটেছেন শহরের এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। এদিন জেলা শহরের সকল বিপণিকেন্দ্রে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। একইভাবে ব্যস্ত সময় পার করেছেন ব্যবসয়ীরা। ঈদের আগের এ সময়টাতেই ক্রেতাদের আনাগোনায় সব থেকে বেশি জমজমাট হয়ে ওঠে ছোট শহরটি।

গতকাল চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেট, প্রিন্স প্লাজা, আব্দুল্লাহ সিটি, বড় বাজার পুরাতন গলিসহ বিভিন্ন মার্কেট ও আশপাশের ব্র্যান্ডের শো-রুম ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের বাড়তি ভিড়ের চিত্র। ঈদ উপলক্ষে এসব মার্কেটে বেচাকেনা চলছে পুরোদমে। তাছাড়া নিত্যনতুন ডিজাইনের মালামাল চলে আসায় তাতে কাস্টমারদের চাহিদা বাড়ছে। শুধু শহর নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ আসপাশের এলাকা থেকেও অনেকেই বন্ধুদের সঙ্গে নিজের জন্য কেনাকাটা করতে ভিড় করেছেন। এছাড়াও একই সঙ্গে পুরো পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকেটা করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। শুধু পোশাক কিনতেই ভিড় নয়, শহরের মোবাইল ফোনের দোকান ও মোটরসাইকেলের শোরুমগুলোয়ও বেচাকেনা তুলনামূলক ভালো হচ্ছে। এই সুযোগে বিক্রেতারা বেশকিছু মোবাইল এবং মোটরসাইকেলে ছাড়ের অফার দিয়েছেন।

পোশাকের দোকানিরা জানান, এ বছর ঈদে বেচাকেনার শীর্ষে রয়েছে ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট, জিন্স প্যান্ট, লুঙ্গি, মেয়েদের শাড়ি, চুড়ি, থ্রি-পিস, বাঁচ্চাদের পোশাক ইত্যাদি। গত সপ্তাহে বেচাকেনা ভালো হলেও ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের আগমন তত বাড়ছে। সকল পোশাকের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে বলছেন ব্যবসায়ীরা। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর সকল ধরণের পোশাকের দাম অনেক বেড়েছে দাবি করেছেন ক্রেতারা।

``

চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার পুরাতন গলির ব্যবসায়ী দীনবন্ধু সরকার বলেন, অন্যান্য বছর থেকে এ বছর বেচাকেনা ভালো। ছেলেদের পাঞ্জাবি, মেয়েদের থ্রি-পিস এবং বাঁচ্চাদের পোশাক সব থেকে বেশি বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের থেকে কিছু পোশাকের দাম বেশি হলেও তা ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। বেচাকেনা ভালো হওয়ায় আমরা লাভের থেকে বিক্রিতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। সকাল থেকে দুপুর এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতারা গলির দোকানগুলোতে ভিড় করছেন।

এই বাজারের অপর এক দোকানি মিলন হোসেন বলেন, এ বছর নতুন মডেল ও ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবির চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও মেয়েদের বিভিন্ন নামের বাহারী পোশাক ভালো বিক্রি হচ্ছে। প্রকারভেদে পাঁচশ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা মূল্যের মধ্যে আমাদের কাছে পোশাক রয়েছে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরাই বেশি বেশি কেনাকাটা করছেন।

পৌর শহরের বাসিন্দা সাদিকুর রহমান বলেন, ‘পছন্দের পোশাক কিনতে এ শহরের নিউ মার্কেটই আমার ভরসা। তবে গত বছরের তুলনায় জিন্স প্যান্ট, শার্ট ও পাঞ্জাজির দাম বেড়েছে। দুটি জিন্স, দুটি পাজামা ও একটি শার্ট কিনতেই খসেছে ৭ হাজার টাকা। পছন্দ হওয়ায় কিনে ফেলেছি, তবে পরে আফসোসও হয়েছে। ব্যবসায়ীরা অধিক লাভ করছেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ব্র্যান্ডের নাম করে পোশাকের গায়ে মূল্য ট্যাগ লাগিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ এসব বিষয় ধরতে পারলেও অনেকেই ঠকে যাচ্ছেন। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্রেতাদের অনেকেই এ ব্যাপারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানান।

চুয়াডাঙ্গা প্রিন্স প্লাজার ব্যবসায়ীরা বলেন, ২০ রমজান পর্যন্ত বেচাকেনা তেমন একটা হয়নি। তবে দিন যত যাচ্ছে, বিক্রি বাড়ছে। শুক্রবারে বেচাকেনা ভালো হয়েছে। আশা করছি চাঁদরাতে সবথেকে ভালো বিক্রি হবে। তারা দাবি করেন, এ বছর পোশাকের দাম একটু বেশি। এদিকে, ঈদ উপলক্ষে বন্ধের দিনও খোলা রাখা হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন ব্রান্ডের শো-রুম ও সব বিপণিবিতান। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে কেনাকাটা চলছে রাত ১২টা পর্যন্ত।



কমেন্ট বক্স