শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মেহেরপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ

  • আপলোড তারিখঃ ০৬-১২-২০২২ ইং
মেহেরপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ
প্রতিবেদক, মেহেরপুর: ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী মেহেরপুর পাক হানাদার মুক্ত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলায় একে একে ভেঙে পড়ে পাক হানাদারদের শক্তিশালী সামরিক বলয়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর রাত থেকে পাক বাহিনী গোপনে মেহেরপুর ছেড়ে পালাতে থাকে। ৬ ডিসেম্বর সকালে মিত্র বাহিনী মেহেরপুর শহরে প্রবেশ করলে অবরুদ্ধ জনতা মিত্র বাহিনীর সঙ্গে জয়ের উল্লাসে যোগ দেয়। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুহু বাঙ্গালী বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণের পর মেহেরপুর টার্গেটে পরিণত হয় হানাদার বাহিনীর। সে অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল দুপুরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে সড়ক পথে মেহেরপুর প্রবেশ করার সময় সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামে নির্মম গণহত্যা চালায়। ফলে এ অঞ্চলের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ভীতসন্ত্রস্থ জনসাধারণ ঘরবাড়ি ভিটেমাটি ত্যাগ করে এ জেলা থেকে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের পশ্চিম বাংলায় আশ্রয় গ্রহণ করে। ভারতের হৃদয়পুর, বেতাই, শিকারপুর, করিমপুর, কাচুলিয়া, বিহারসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রশিক্ষণ শিবির খোলা হয়। ভারতীয় বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশী যুব সমাজ গেরিলা ও যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে থাকে। প্রথম অবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমাণ অস্ত্র না পাওয়ায় তাদের মনোবল ভেঙে পড়লেও দেশ স্বাধীনের স্বপ্নে বিভর হয়ে অনেকেই দেশে এসে ক্যাম্প লুট করে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে মেহেরপুর সরকারি কলেজ, ভোকেশনাল এবং কবি নজরুল শিক্ষা মঞ্জিলসহ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাক বাহিনী শক্তিশালী দুর্গ গড়ে তোলে। এছাড়াও মেহেরপুরের মহাজনপুরের পাশে চুয়াডাঙ্গার নাটুদাহ হাইস্কুলে পাক বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। এ ঘাঁটির সঙ্গে নুরপুর, মানিকনগর ও মেহেরপুর ক্যাম্পের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হত। মে মাসের মাঝামঝি সময়ে গোটা মেহেরপুর জেলা পাকবাহিনী পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয়। জুন-জুলাই মাসের দিকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ শেষে গেরিলারা এসে সেতু কার্লভাট ধ্বংস এবং টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মাইন পুতে রেখে পাক বাহিনীদের যোগাযোগ এবং খাদ্য সরবরাহে বিপদ সংকুল করে তোলে। আগস্ট মাসের ২ ও ৩ তারিখে মানিকনগর, মোনাখালি এবং কাথুলি ক্যাম্প উঠিয়ে গাংনীর ভাটপাড়াতে স্থাপন করতে বাধ্য হয় পাকবাহিনী।’ বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্তাজ আলী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পাকসেনারা রাজাকারদের সহায়তায় সাধারণ মানুষসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর নির্মম অত্যাচার নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালাতে থাকে। পাকসেনারা আমঝুপি, ওয়াপদা মোড়, পিরোজপুর, বুড়িপোতা, গোভীপুর, শালিকা, রাজাপুর, কাজিপুর, তেরাইল, জোড়পুকুরিয়া, বাগোয়ান-রতনপুর, ভাটপাড়া কুঠি, সাহেবনগর, কোলা, হিন্দা ও বাড়িবাঁকাসহ বিভিন্ন গ্রামে নৃশংস গণহত্যা চালায়। যেখানেই গণহত্যা সেখানেই বধ্যভূমি রয়েছে। মেহেরপুরে অন্তত ১৫টি বধ্যভূমি সন্ধান পাওয়া গেছে। তার মধ্যে মেহেরপুর সরকারি কলেজের উত্তরের খোলা মাঠ, কালাচাঁদপুর ঘাট, তাহের ক্লিনিকর পূর্বদিক ও ভাটপাড়া কুঠি অন্যতম বধ্যভূমি। মুক্তিযুদ্ধ চলা কালিন খলিশাকুণ্ডি, গোয়ালগ্রাম, সাহেবনগর, কাজিপুরসহ অন্তত ৫০টি স্থানে পাকবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ হয়। পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে ১৭০জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হলেও মুক্তিবাহীনির প্রতিরোধের মুখে ক্রমশ কোনঠাসা হয়ে পড়ে পাকবাহিনী। বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহাজ উদ্দীন বলেন, চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে ৫ ডিসেম্বর কড়াইগাছি, রাইপুর-শিমুলতলা, কুঞ্জনগর, ঝোড়পাড়া, সহড়াবাড়িয়া, বুড়িপোতা, মুজিবনগর দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমনে পিছু হটে কুষ্টিয়া রওনা হওয়ার পথে শুকুরকান্দির নিকট মুক্তিযোদ্ধারা পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করলে বেশ কজন পাকসেনা নিহত হয়। চর্তুদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিকল্পিত হামলায় ভাটপাড়া ক্যাম্পের পাকসেনারাও পালিয়ে যায়। ৬ ডিসেম্বর সকালে ব্রিগেডিয়ার জৈল সিংয়ের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর বিশাল বহর মেহেরপুর শহরে প্রবেশ করে। তার পূর্বেই পাকবাহিনীরা লেজ গুটিয়ে চুয়াডাঙ্গা হয়ে কুষ্টিয়া পালিয়ে যায়। মেহেরপর হয় হানাদার মুক্ত। আমরা উল্লাস করতে করতে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে শহরে প্রবেশ করি। মুক্ত হয় মেহেরপুর। প্রতিবছরই দিনটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহীকতায় দিনটি পালনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল আলোচনা সভা, র‌্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় ‘নিমগ্ন পাঠাগারে’ সেমিনার অনুষ্ঠিত