দামুড়হুদার নাটুদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচন স্থগিত
- আপলোড তারিখঃ
২৭-১০-২০২২
ইং
প্রতিবেদক, কার্পাসডাঙ্গা:
দামুড়হুদার হাজার দুয়ারি ঘর খ্যাত ঐতিহ্যবাহী নাটুদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচন নিয়ে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে মামলা করায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর নাটুদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছিলেন নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচনে রেজাউল হক প্যানেল ও আ. মালেক প্যানেল অংশগ্রহণ করে। গতকাল বৃহস্পতিবারও প্রার্থীরা নমুনা ব্যালট নিয়ে বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা করতে থাকেন। এসময় প্রার্থীরা জানতে পারেন নির্বাচন নিয়ে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে মামলা করায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আ. মান্নানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো চিঠিপত্র আসেনি। বিদ্যালয়টির আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি রেজাউল হক জানান, ‘এ নির্বাচনে আমিও প্রার্থী। নির্বাচন বন্ধের বিষয়টি লোকমুখে শুনেছিলাম। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো লিখিত চিঠিপত্র বা আদেশ আসেনি। আমাকে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কোনো কর্মকর্তাও বিষয়টি অবহিত করেনি। তখন আমি এক প্রকার বাধ্য হয়ে উপজেলা একাডেমিক শিক্ষা অফিসার রাফিজুল ইসলামের কাছে ফোন করলে তিনি জানান বিজ্ঞ আদালতের একটি নোটিশ পেয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে মামলা হয়ে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।’ রেজাউল হক আরো জানান, ‘আমি ফোন করার পর তিনি আমাকে বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু অফিসিয়ালভাবে বা তিনি ফোনের মাধ্যমেও আমাকে জানাননি যে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক শিক্ষা অফিসার রাফিজুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে তিনি এ নোটিশটি পেয়েছেন। মামলা হয়েছে তাই নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বিস্তারিত পুরো বিষয়টি তিনি রোববারে জানাতে পারবেন। কে মামলা করেছেন জানতে চাইলে তিনি জানান নির্বাচনে অংশগ্রহন করা প্রার্থী আ. কুদ্দস বাদী হয়ে এ মামলাটি করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিভাবক সদস্য পদপ্রার্থী আ: কুদ্দসের সাথে কথা বললে তিনি জানান, খলিসাগাড়ীর সুজাত আলী যিনি অভিভাবক সদস্য পদপ্রার্থী ও হুদাপাড়ার আরেকজন অভিভাবক তাদের দুটি করে ভোটার করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সঠিক না থাকায় মামলা করেছি। ভোটার তালিকা সঠিক করে তারপর নির্বাচন দেওয়া হোক। এ বিষয়ে অভিভাবক সদস্য পদপ্রার্থী নাঈম হোসেন লিফন, কাশেম আলী ও সেখ সাদী জানান, ‘আমরা নির্বাচনে নেমে বাড়ি বাড়ি ভোট করে বেড়াচ্ছি। কিন্তু আমাদের অফিসিয়ালভাবে জানানো হলো না যে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আমরা লোকমুখে শুনে যখন শিক্ষা অফিসারকে ফোন দিলাম তখন তিনি বললেন।’ তাঁরা আরও বলেন, ‘ভোটার তালিকা যারা করেছেন, এ দায় তাদের। তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে একজন ভোটার দুটি ভোটার হতে পেরেছেন। আর যার দুটি ভোট, তাদের মধ্যে একজন সুজাত আলী। তিনি তো মামলার বাদী আ. কুদ্দসের সাথে এক প্যানেলে নির্বাচন করছেন। আসল বিষয় হলো তারা নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জানতে পেরে নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য নানা পাঁয়তারা করে শেষ পর্যন্ত পেরে দিতে না পেরে তাদেরই প্যানেলের প্রার্থীর দুটি ভোট নিয়ে তারাই বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেছে।’ এসময় তারা আরো বলেন, ‘আমরাও প্রতিষ্ঠানটির গুটি কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতির মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এলাকার বেশ কয়েকজন অভিভাবক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, এলাকার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার পাঁয়তারা করছে একটি মহল। তারা বিদ্যালয়ের মতো একটি পবিত্র জায়গাতেও নোংরা রাজনীতি করছে। আমরা চাই বিজ্ঞ আদালতের মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে সুন্দর একটি কমিটি হোক এই প্রত্যাশাই করি।
কমেন্ট বক্স