বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

এসপি মামুনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আলমডাঙ্গার ক্লুলেস জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৪

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০৯-২০২২ ইং
এসপি মামুনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আলমডাঙ্গার ক্লুলেস জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৪
নিজস্ব প্রতিবেদক: আলমডাঙ্গার আলোচিত ক্লুলেস বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রী হত্যার ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও বিচক্ষণতায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নগদ টাকা, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ব্যাগসহ বিভিন্ন জিনিস। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিহত নজির উদ্দিন ধান-চালের পাশাপাশি বালির ব্যবসা শুরু করেন। এজন্য তিনি একটি ট্রলি গাড়িও কেনেন। খুনের মাস্টারমাইন্ড সাহাবুল নজির উদ্দিনের সেই ট্রলি গাড়িতে বালি আনা-নেওয়া করত। ঘটনার দিন সাহাবুল তার সহযোগী বিদ্যুৎ ও রাজিবকে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নজির উদ্দিনের বাড়ির সামনে হাজির হয়। বালি কেনার কথা শুনে এবং সাহাবুলকে চিনতে পেরে নজির উদ্দিন বাড়ির দরজা খুলে দেন। তারা বাড়িতে ঢুকে দুজনকে খুন করে টাকা ও দুটি মোবাইল মোবাইল ফোন নিয়ে বেরিয়ে যায়। পুলিশ সুপার আরও বলেন, স্বামী-স্ত্রী নজির উদ্দিন ও ফরিদা বেগমের নির্মম হত্যাকাণ্ডের দিন অন্যান্য জিনিসের সাথে দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় খুনিরা। পুলিশ এই মোবাইল ফোন দুটিকে জাল হিসেবে ফেলে রাখে। পাঁচদিন ধরে মোবাইল দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ মোবাইল খোলার অপেক্ষা করতে থাকে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে দুটি মোবাইলের একটি খোলা পায় পুলিশ। লোকেশন ধরে পুলিশ মোবাইলের কাছে চলে যায়। পুলিশের পাতা ফাঁদে প্রথম আটকা পড়ে বিদ্যুৎ। এরপর একে একে আটক করা হয় সাহাবুল ও রাজিবকে। উদ্ধারের ব্যাপারে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রেপ্তার রাজীবের কাছ থেকে ৩৫ হাজার, বিদ্যুতের কাছ থেকে ৮ হাজার, শাকিলের কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন ও পানবরজে পুতে রাখা নিহতদের ব্যাগ ও আসামিদের রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামের বজলু রহমানের ছেলে সাহাবুল (২৪), একই গ্রামের মাসুদ আলীর ছেলে বিদ্যুৎ (২৩), পিণ্টু রহমানের ছেলে রাজিব (২৫) ও তাজউদ্দীনের ছেলে শাকিল হোসেন (২১)। পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল-মামুনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়ন ও বিচক্ষণতায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান, ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবীর, ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই (নিঃ) সোহেল রানা, এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন, এসআই (নিঃ) মুহিদ হাসান ও এএসআই (নিঃ) মো. রজিবুল হক। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে আলমডাঙ্গার পুরাতন বাজারের অর্পিত সম্পত্তির বাড়িতে ব্যবসায়ী নজির উদ্দিন ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগমকে নির্মমভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন সকালে বাড়ির তালা ভেঙে ঘর থেকে ফরিদা খাতুন ও বাথরুম থেকে নজির উদ্দীনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন নিহতের একমাত্র মেয়ে ডালিয়ারা পরভীন শিলা বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের রাবার বুলেটে যুবক আহত