মোজাম্মেল শিশির, দামুড়হুদা:
দামুড়হুদা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে জাল নামে খারিজ করে জমি রেজিস্ট্রি করার অপরাধে দলিল জাল করে জমির মালিক হওয়া দামুড়হুদা উপজেলার পরানপুর গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমান শেখের ছেলে জহিরুল শেখের নামে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা হয়েছে। এছাড়া ওই একই গ্রামের দেদার মালিতার ছেলে বকুল হোসেন (৩৬) নামের এক দলিল লেখক (মুহুরি)-এর সকল কর্যক্রমের বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন সাব রেজিস্ট্রার এম নাফিজ বিন জামান। গতকাল বুধবার বিকেলে সাব রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী আজিজুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে থেকে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলার মৃত মতিয়ার রহমান শেখের ছেলে জহিরুল ইসলাম শেখ ডিসিআর, খাজনা রসিদের স্বাক্ষর জাল করে রেজিস্ট্রি করার জন্য একই গ্রামের মৃত আব্দুল জাব্বারের ছেলে আব্দুল জলিলের নামে নামজারি কেস নং ১৯১০/৯,১/২১-২২, খারিজ খতিয়ান নং ৪২৬৫, ডিসিআর নং খ- ১৫৬৯১ দিয়ে আবেদন করেন। দলিল লেখক বকুল হোসেন একটি জাল দলিল সম্পাদনা করে দামুড়হুদা সাব রেজিস্ট্রার এম নাফিজ বিন জামানের নিকট পেশ করেন। এসময় তিনি দলিলের নাম খারিজের কাগজ দেখতে যান। এসময় বকুলের করে দেওয়া একটি নাম খারিজর কাগজ দেখানো হলে খরিজের কাগজে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নামের স্বাক্ষর দেখে সাব রেজিস্ট্রারের সন্দেহ হয়। তিনি তিনি কাগজপত্র জব্দ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত কুমার সিংহের নিকট যাচাইয়ের জন্য প্রেরণ করেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) যাচাই-বাছাই করে দেখেন খারিজের কাগজটিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার সুদীপ্ত কুমার সিংহ, হাউলি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা রকিবুল হাসান, কানুগো মিলাদ হোসেন মিয়ার স্বাক্ষর সম্পূর্ণ জাল করে তৈরি করা হয়েছে। এসময় সহকারী কমিশনার সুদীপ্ত কুমার সিংহ সাব রেজিস্ট্রারকে খারিজের কাগজপত্র জাল করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। এ ঘটনার পরদিন গতকাল বুধবার বিকালে সাব রেজিস্ট্রার এম নাফিজ বিন জামান দলিল লেখক বকুলকে সকল কর্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেন। এরপর জমির ভুয়া মালিকের বিরুদ্ধে সাব রেজিস্ট্রি অফিস সহকারী আজিজুর রহমান বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় ৪৬৬/৪৬৮/৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
সাব রেজিস্ট্রি আজিজুর রহমান নিশ্চিত করে জানান, ‘দলিল লেখক বকুলকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছেন সাব রেজিস্ট্রার স্যার। এছাড়া আমি বাদী হয়ে জমির ভুয়া মালিক জহিরুল শেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনের নামে মামলা দায়ের করেছি।’
এবিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাসলিমা আক্তার জানান, দলিল লেখক আপাতত কোনো কার্যক্রম করতে পারবেন না। জমির ভুয়া মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন