জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের শিয়ালমারী গ্রামে যৌতুকের টাকার জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহতের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার বিকেলে সংঘটিত হয়েছে। আহত গৃহবধূকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ে রাবেয়া খাতুন বৃষ্টির (২১) সাথে উপজেলার উথলী ইউনিয়নের শিয়ালমারী গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০) প্রেমের সম্পর্ক করে আমাদের মতামতের বাইরে গিয়ে ৭-৮ মাস আগে বিয়ে করে। জসিম ইতঃপূর্বে আরও একটি বিয়ে করেছিল। তাদের দাম্পত্য জীবন কিছু দিন কাটতে না কাটতেই আমার মেয়েকে মোটা অংকের যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতে থাকে। যৌতুকের টাকা না পেয়ে শুধু জসিমই নয়, তার মা জুলেখা বেগম ও বোন শেফালী খাতুনও আমার মেয়ে বৃষ্টিকে প্রায়ই মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। তারা একইভাবে মঙ্গলবার বিকেলে আমার মেয়ের নিকট যৌতুকের এক লাখ টাকা দাবি করে এবং আমার বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়। আমার মেয়ে তাতে অস্বীকার করায় তারা আমার মেয়ে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা জেনেও লাথি, কিল-ঘুষি ও কাঠের বাটাম দিয়ে মারপিট করে মারাত্মকভাবে আহত করে। ঘটনা আমরা লোকমুখে জানতে পেরে সেখান থেকে সন্ধ্যার দিকে মেয়েকে উদ্ধার করে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করি। মেয়ে সুস্থ হলেই থানায় একটি মামলা করব।’
নির্যাতিতা গৃহবধূ বৃষ্টি বলেন, ‘জসিম আমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই আমাকে জসিম ও তার মা-বোন মিলে যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন শুরু করে। আমি বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে টাকা এনে না দেওয়ায় আমার স্বামী জসিম উদ্দিন, শাশুড়ী জুলেখা ও ননদ শেফালী আমাকে গালিগালাজ করতে থাকে। এতে আমি প্রতিবাদ করাই আমি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা জেনেও তারা আমাকে বেধড়ক মারপিট করে মারাত্মকভাবে আহত করে। আমার বাবা-মা উদ্ধার করে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমার স্বামী-শাশুড়ী এতটাই নির্মম যে, আমি সব প্রস্তুতি শেষ করলেও তারা আমাকে শেষ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি।’
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার আশরাফুল ইসলাম রতন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। তবে জসিম উদ্দিন ভালো ছেলে নয়। গৃহবধূ বৃষ্টিকে ভালোবেসে বিয়ে করলেও পরবর্তীতে জসিম উদ্দিন আর ভালো আচরণ করে না বলে জানা যায়।’
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক বলেন, ঘটনার ব্যাপারে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন